ঢাকা ১০:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাটি সরে হেলে যাওয়া পিলারে রাঙ্গামাটি শহরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন জন্মশহরে ইমাম রেজার মাজারে শায়িত হলেন আয়াতুল্লাহ খামেনি দরপতনের পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি ফ্রান্সের কাছে হারলেও পেনাল্টি ঠেকিয়ে রেকর্ড গড়লেন মরক্কোর ইয়াসিন বুনো মরক্কোকে হারিয়ে সেমিফাইনালে অপ্রতিরোধ্য ফ্রান্স, দেম্বেলে-এমবাপ্পেদের থামাবে কে গাজায় ইসরাইলি হামলায় নতুন করে ৬ ফিলিস্তিনি নিহত আর্জেন্টিনার ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল, দাবি পাউ কুবারসির বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে মেসির পাশে এমবাপ্পে ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহের সুযোগে ছড়াচ্ছে মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া, জারি সতর্কতা দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে ইসরায়েল

মরক্কোকে হারিয়ে সেমিফাইনালে অপ্রতিরোধ্য ফ্রান্স, দেম্বেলে-এমবাপ্পেদের থামাবে কে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৯:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

দিদিয়ের দেশমের অধীনে বর্তমান ফ্রান্স দল যেন এক অপ্রতিরোধ্য শক্তি। মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠার পথে তারা যে ফুটবল খেলল, তাতে এই দলকে থামানোর মতো কেউ আছে কি না, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠেছে। পুরো ম্যাচে মরক্কো একবারের জন্যও ফ্রান্সকে হারানোর বা গোল দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এই দলের শক্তির তুলনা করছেন ২০০২ সালের ব্রাজিল, ২০১০ সালের স্পেন কিংবা ২০১৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্সের সঙ্গে। গ্রিক দার্শনিক প্লেটোর ‘পরম-রূপ’ তত্ত্বের মতো এই ফ্রান্স দলকেও যেন ফুটবল ইতিহাসের সেরাদের সেরা রূপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

কোয়ার্টার ফাইনালের এই ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে ফ্রান্স। ম্যাচের প্রথম ৫ মিনিটের মধ্যেই দুটি দুর্দান্ত আক্রমণের সুযোগ তৈরি করে তারা। তবে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর অসাধারণ সেভের কারণে সে যাত্রায় বেঁচে যায় মরক্কো। এই শুরুটাই যেন পুরো ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছিল। মাঝমাঠে মাইকেল ওলিসে ও আদ্রিয়াঁ রাবিওরা খেলা তৈরি করছিলেন, আর আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপ্পে, দেজিরে দুয়ে ও উসমান দেম্বেলে মরক্কোর রক্ষণভাগে ঝড় তোলেন।

ফ্রান্সের একের পর এক আক্রমণ সামলাতে মরক্কোর ১১ জন খেলোয়াড়কেই রক্ষণভাগে নেমে ‘বাস পার্ক’ করতে হয়েছিল। এমন চাপের মুখে বক্সের ভেতর এমবাপ্পেকে ফাউল করে বসেন মরক্কোর নুসাইর মাজরাউয়ি। তবে পেনাল্টি থেকে গোল করার সুবর্ণ সুযোগটি হাতছাড়া করেন এমবাপ্পে; তার নেওয়া শটটি ছিল ক্যারিয়ারের অন্যতম দুর্বল পেনাল্টি শট। এমবাপ্পে অবশ্য আগেই বলেছিলেন, “কুৎসিত ফুটবল আমরাও খেলতে জানি।” পেনাল্টি মিস হলেও ফরাসি সমর্থকদের মধ্যে কোনো সংশয় ছিল না যে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সই জিতবে।

প্রথমার্ধে মরক্কো কোনোমতে গোল হজম না করে পার পেলেও দ্বিতীয়ার্ধে ফাটল ধরে তাদের রক্ষণে। ম্যাচের ৬০ মিনিটে লাইমলাইটে আসেন এমবাপ্পে। বক্সের কাছাকাছি থেকে নিজের ট্রেডমার্ক শটে দুর্দান্ত এক গোল করে ফ্রান্সকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন তিনি। এর ঠিক ৬ মিনিট পর, অর্থাৎ ৬৬ মিনিটে উসমান দেম্বেলের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফ্রান্স। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর মরক্কোর আর ম্যাচে ফেরার কোনো সুযোগ ছিল না।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে দুই দলের ব্যবধান মাত্র পাঁচ ধাপ হলেও মাঠের লড়াই ছিল পুরোপুরি একপেশে। প্রথমার্ধের একটি পরিসংখ্যানই দুই দলের শক্তির পার্থক্য স্পষ্ট করে দেয়। প্রথমার্ধে ফ্রান্স যেখানে গোলের উদ্দেশ্যে ১৩টি শট নিয়েছিল, সেখানে মরক্কো নিতে পেরেছিল মাত্র ১টি। ১৯৬৬ সাল থেকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের পরিসংখ্যান রাখা শুরু হওয়ার পর প্রথমার্ধে শটের ব্যবধানে এর চেয়ে বড় ব্যবধান দেখা গেছে কেবল একবার। ১৯৯৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে Sweden-এর বিপক্ষে ব্রাজিল ১৭টি শট নিয়েছিল, বিপরীতে সুইডেন নিয়েছিল মাত্র ১টি শট। সে ম্যাচে ব্রাজিল ১-০ গোলে জিতে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে শিরোপা ঘরে তুলেছিল।

চলমান বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচেই ফ্রান্সকে পিছিয়ে পড়তে হয়নি, যা তাদের শক্তির গভীরতা প্রমাণ করে। তবে সেমিফাইনাল বা ফাইনালে প্রতিপক্ষ যদি শুরুতে গোল দিয়ে এগিয়ে যায়, তখন ফ্রান্স কীভাবে ঘুরে দাঁড়ায় তা হবে দেখার বিষয়। ফ্রান্স মূলত এগিয়ে গেলেই সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। কারণ সমতায় ফিরতে প্রতিপক্ষ যখন আক্রমণে ওঠে, তখন ফাঁকা জায়গায় এমবাপ্পে ও দেম্বেলের মতো গতিময় ফরোয়ার্ডরা আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন। স্পেন, ইংল্যান্ড কিংবা আর্জেন্টিনার মতো দলগুলোর আক্রমণভাগ হয়তো ফ্রান্সকে কিছুটা চাপে ফেলতে পারে। তবে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী একাদশ ও সমৃদ্ধ বেঞ্চ রয়েছে ফরাসিদেরই। যদিও ফুটবল ইতিহাসে যেকোনো সফল অভিযান ভেঙে পড়তে কয়েক মিনিটই যথেষ্ট, আপাতত প্রতিপক্ষদের সেই কয়েক মিনিটের সুযোগেরই অপেক্ষা করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মরক্কোকে হারিয়ে সেমিফাইনালে অপ্রতিরোধ্য ফ্রান্স, দেম্বেলে-এমবাপ্পেদের থামাবে কে

আপডেট সময় : ০৮:৪৯:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
print news

দিদিয়ের দেশমের অধীনে বর্তমান ফ্রান্স দল যেন এক অপ্রতিরোধ্য শক্তি। মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠার পথে তারা যে ফুটবল খেলল, তাতে এই দলকে থামানোর মতো কেউ আছে কি না, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠেছে। পুরো ম্যাচে মরক্কো একবারের জন্যও ফ্রান্সকে হারানোর বা গোল দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এই দলের শক্তির তুলনা করছেন ২০০২ সালের ব্রাজিল, ২০১০ সালের স্পেন কিংবা ২০১৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্সের সঙ্গে। গ্রিক দার্শনিক প্লেটোর ‘পরম-রূপ’ তত্ত্বের মতো এই ফ্রান্স দলকেও যেন ফুটবল ইতিহাসের সেরাদের সেরা রূপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

কোয়ার্টার ফাইনালের এই ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে ফ্রান্স। ম্যাচের প্রথম ৫ মিনিটের মধ্যেই দুটি দুর্দান্ত আক্রমণের সুযোগ তৈরি করে তারা। তবে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর অসাধারণ সেভের কারণে সে যাত্রায় বেঁচে যায় মরক্কো। এই শুরুটাই যেন পুরো ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছিল। মাঝমাঠে মাইকেল ওলিসে ও আদ্রিয়াঁ রাবিওরা খেলা তৈরি করছিলেন, আর আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপ্পে, দেজিরে দুয়ে ও উসমান দেম্বেলে মরক্কোর রক্ষণভাগে ঝড় তোলেন।

ফ্রান্সের একের পর এক আক্রমণ সামলাতে মরক্কোর ১১ জন খেলোয়াড়কেই রক্ষণভাগে নেমে ‘বাস পার্ক’ করতে হয়েছিল। এমন চাপের মুখে বক্সের ভেতর এমবাপ্পেকে ফাউল করে বসেন মরক্কোর নুসাইর মাজরাউয়ি। তবে পেনাল্টি থেকে গোল করার সুবর্ণ সুযোগটি হাতছাড়া করেন এমবাপ্পে; তার নেওয়া শটটি ছিল ক্যারিয়ারের অন্যতম দুর্বল পেনাল্টি শট। এমবাপ্পে অবশ্য আগেই বলেছিলেন, “কুৎসিত ফুটবল আমরাও খেলতে জানি।” পেনাল্টি মিস হলেও ফরাসি সমর্থকদের মধ্যে কোনো সংশয় ছিল না যে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সই জিতবে।

প্রথমার্ধে মরক্কো কোনোমতে গোল হজম না করে পার পেলেও দ্বিতীয়ার্ধে ফাটল ধরে তাদের রক্ষণে। ম্যাচের ৬০ মিনিটে লাইমলাইটে আসেন এমবাপ্পে। বক্সের কাছাকাছি থেকে নিজের ট্রেডমার্ক শটে দুর্দান্ত এক গোল করে ফ্রান্সকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন তিনি। এর ঠিক ৬ মিনিট পর, অর্থাৎ ৬৬ মিনিটে উসমান দেম্বেলের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফ্রান্স। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর মরক্কোর আর ম্যাচে ফেরার কোনো সুযোগ ছিল না।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে দুই দলের ব্যবধান মাত্র পাঁচ ধাপ হলেও মাঠের লড়াই ছিল পুরোপুরি একপেশে। প্রথমার্ধের একটি পরিসংখ্যানই দুই দলের শক্তির পার্থক্য স্পষ্ট করে দেয়। প্রথমার্ধে ফ্রান্স যেখানে গোলের উদ্দেশ্যে ১৩টি শট নিয়েছিল, সেখানে মরক্কো নিতে পেরেছিল মাত্র ১টি। ১৯৬৬ সাল থেকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের পরিসংখ্যান রাখা শুরু হওয়ার পর প্রথমার্ধে শটের ব্যবধানে এর চেয়ে বড় ব্যবধান দেখা গেছে কেবল একবার। ১৯৯৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে Sweden-এর বিপক্ষে ব্রাজিল ১৭টি শট নিয়েছিল, বিপরীতে সুইডেন নিয়েছিল মাত্র ১টি শট। সে ম্যাচে ব্রাজিল ১-০ গোলে জিতে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে শিরোপা ঘরে তুলেছিল।

চলমান বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচেই ফ্রান্সকে পিছিয়ে পড়তে হয়নি, যা তাদের শক্তির গভীরতা প্রমাণ করে। তবে সেমিফাইনাল বা ফাইনালে প্রতিপক্ষ যদি শুরুতে গোল দিয়ে এগিয়ে যায়, তখন ফ্রান্স কীভাবে ঘুরে দাঁড়ায় তা হবে দেখার বিষয়। ফ্রান্স মূলত এগিয়ে গেলেই সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। কারণ সমতায় ফিরতে প্রতিপক্ষ যখন আক্রমণে ওঠে, তখন ফাঁকা জায়গায় এমবাপ্পে ও দেম্বেলের মতো গতিময় ফরোয়ার্ডরা আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন। স্পেন, ইংল্যান্ড কিংবা আর্জেন্টিনার মতো দলগুলোর আক্রমণভাগ হয়তো ফ্রান্সকে কিছুটা চাপে ফেলতে পারে। তবে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী একাদশ ও সমৃদ্ধ বেঞ্চ রয়েছে ফরাসিদেরই। যদিও ফুটবল ইতিহাসে যেকোনো সফল অভিযান ভেঙে পড়তে কয়েক মিনিটই যথেষ্ট, আপাতত প্রতিপক্ষদের সেই কয়েক মিনিটের সুযোগেরই অপেক্ষা করতে হবে।