ঢাকা ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

আমেরিকার আকাশে ভিনগ্রহীদের যুদ্ধ! পডকাস্টে সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তার বিস্ফোরক দাবি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:১৮:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে, বিশেষ করে আমেরিকার ঠিক ওপরে দুটি ভিন্ন ভিনগ্রহী বা এলিয়েন প্রজাতির মধ্যে গোপন যুদ্ধ চলছে বলে দাবি করেছেন এক ইউএফও (UFO – Unidentified Flying Object বা অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু) তথ্য ফাঁসকারী। ‘দ্য জো রোগান এক্সপেরিয়েন্স’ নামক জনপ্রিয় পডকাস্টে উপস্থিত হয়ে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ডেভিড গ্রুশ। তাঁর এই অদ্ভুত ও বিস্ময়কর দাবি শুনে পুরোপুরি হতবাক হয়ে যান পডকাস্টার জো রোগান। গ্রুশের মতে, প্রযুক্তিগত দ্বিমত এবং নিজস্ব কৌশলগত পার্থক্যের কারণে সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে বা গোপন সংকেতের মাধ্যমে এই সংঘর্ষগুলো ঘটছে।

বর্তমানে ইউএফও স্বচ্ছতার বিষয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সহায়তা করছেন ডেভিড গ্রুশ। তিনি ২০২৩ সালে শপথ নিয়ে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে, মার্কিন সরকার কয়েক দশক ধরে গোপনে অ-মানবীয় মহাকাশযান উদ্ধার এবং সেগুলোর প্রযুক্তি রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং বা গোপন প্রযুক্তি বোঝার প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে। পডকাস্টে অ-মানবীয় বুদ্ধিমত্তার (NHI) মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে গ্রুশ বলেন, 'আমরা তা নথিবদ্ধ করেছি… যাকে আমরা যুদ্ধ হিসেবে দেখি। এটি সংঘাতের মতোই মনে হয়, সংঘাতের মতোই এর রূপ।' তিনি জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে মৃত ‘রেপটিলিয়ান’ এবং ‘গ্রে’ এলিয়েনের লাশ উদ্ধারের বিষয়ে তাঁকে অবহিত করা হয়েছিল।

গ্রুশের এই দাবি শুনে জো রোগান জিজ্ঞেস করেন, 'তাহলে গ্রে এবং রেপটিলিয়ানরা নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি বা যুদ্ধ করছিল?' জবাবে হাত তুলে গ্রুশ বলেন, 'আমারও তা-ই মনে হয়।' এতে চোখ কপালে তুলে রোগান প্রতিক্রিয়া জানান, 'বাহ্! ডেভিড, এটা শুনে তো একদম পাগলামি মনে হচ্ছে।' গ্রুশ আরও জানান, ভিনগ্রহী সত্তাদের মধ্যকার এই সংঘাতের কারণে ‘কমপক্ষে এক ডজন বা দুই ডজন’ মহাকাশযান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন।

আলোচনার একপর্যায়ে রোগান জানতে চান, মৃত রেপটিলিয়ানের লাশের পাশে কী ধরনের যান পাওয়া গেছে। গ্রুশ জানান, সেটি ছিল একটি ‘টিক ট্যাক’ (Tic Tac) আকৃতির যান। এই বিবরণটি ২০০৪ সালে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়। সে সময় কমান্ডার ডেভিড ফ্র্যাভর এবং তাঁর দল টিক ট্যাক লজেন্সের মতো মসৃণ ও সাদা একটি বস্তু দেখার দাবি করেছিলেন। প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ ফুট দীর্ঘ ওই যানটিতে কোনো দৃশ্যমান ডানা, লেজ, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা ধোঁয়া নির্গমনের পথ ছিল না।

রেপটিলিয়ানদের শারীরিক গঠন সম্পর্কে গ্রুশ তাঁর এক বন্ধুর কাছ থেকে পাওয়া বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এরা সাত ফুটেরও বেশি লম্বা এবং এদের ত্বক কিছুটা গরিলাদের মতো। তবে এদের বিভিন্ন ধরন রয়েছে, যার কিছু দেখতে মানুষের কাছাকাছি। অন্যদিকে ‘গ্রে’ এলিয়েনদেরও বিভিন্ন আকার রয়েছে, যার মধ্যে তুলনামূলক লম্বা এবং ছোট আকৃতির প্রজাতি রয়েছে। তবে গ্রুশ স্পষ্ট করে বলেন যে, তিনি নিজে কখনো রেপটিলিয়ানদের মুখোমুখি হননি; তিনি কেবল অন্যদের অভিজ্ঞতা এবং অডিও-ভিজ্যুয়াল উপাদানের ওপর নির্ভর করছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ক্যাপিটল হিলে আয়োজিত একটি শুনানিতে যে চারটি এলিয়েন ধরন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল, তার মধ্যে গ্রে এবং রেপটিলিয়ান প্রজাতি দুটি ছিল। এছাড়া পেন্টাগনের অতি-গোপন প্রকল্পে কাজের জন্য পরিচিত পদার্থবিজ্ঞানী ড. এরিক ডেভিস এক ব্রিফিংয়ে ভিনগ্রহী প্রজাতি হিসেবে ‘গ্রে, নরডিকস, ইনসেক্টয়েডস এবং রেপটিলিয়ানস’-এর নাম উল্লেখ করে শ্রোতাদের চমকে দিয়েছিলেন। ধারণা করা হয়, এই প্রজাতিগুলোই অজ্ঞাত যানগুলো পরিচালনা করে থাকে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

আমেরিকার আকাশে ভিনগ্রহীদের যুদ্ধ! পডকাস্টে সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তার বিস্ফোরক দাবি

আপডেট সময় : ১০:১৮:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে, বিশেষ করে আমেরিকার ঠিক ওপরে দুটি ভিন্ন ভিনগ্রহী বা এলিয়েন প্রজাতির মধ্যে গোপন যুদ্ধ চলছে বলে দাবি করেছেন এক ইউএফও (UFO – Unidentified Flying Object বা অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু) তথ্য ফাঁসকারী। ‘দ্য জো রোগান এক্সপেরিয়েন্স’ নামক জনপ্রিয় পডকাস্টে উপস্থিত হয়ে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ডেভিড গ্রুশ। তাঁর এই অদ্ভুত ও বিস্ময়কর দাবি শুনে পুরোপুরি হতবাক হয়ে যান পডকাস্টার জো রোগান। গ্রুশের মতে, প্রযুক্তিগত দ্বিমত এবং নিজস্ব কৌশলগত পার্থক্যের কারণে সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে বা গোপন সংকেতের মাধ্যমে এই সংঘর্ষগুলো ঘটছে।

বর্তমানে ইউএফও স্বচ্ছতার বিষয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সহায়তা করছেন ডেভিড গ্রুশ। তিনি ২০২৩ সালে শপথ নিয়ে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে, মার্কিন সরকার কয়েক দশক ধরে গোপনে অ-মানবীয় মহাকাশযান উদ্ধার এবং সেগুলোর প্রযুক্তি রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং বা গোপন প্রযুক্তি বোঝার প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে। পডকাস্টে অ-মানবীয় বুদ্ধিমত্তার (NHI) মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে গ্রুশ বলেন, 'আমরা তা নথিবদ্ধ করেছি… যাকে আমরা যুদ্ধ হিসেবে দেখি। এটি সংঘাতের মতোই মনে হয়, সংঘাতের মতোই এর রূপ।' তিনি জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে মৃত ‘রেপটিলিয়ান’ এবং ‘গ্রে’ এলিয়েনের লাশ উদ্ধারের বিষয়ে তাঁকে অবহিত করা হয়েছিল।

গ্রুশের এই দাবি শুনে জো রোগান জিজ্ঞেস করেন, 'তাহলে গ্রে এবং রেপটিলিয়ানরা নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি বা যুদ্ধ করছিল?' জবাবে হাত তুলে গ্রুশ বলেন, 'আমারও তা-ই মনে হয়।' এতে চোখ কপালে তুলে রোগান প্রতিক্রিয়া জানান, 'বাহ্! ডেভিড, এটা শুনে তো একদম পাগলামি মনে হচ্ছে।' গ্রুশ আরও জানান, ভিনগ্রহী সত্তাদের মধ্যকার এই সংঘাতের কারণে ‘কমপক্ষে এক ডজন বা দুই ডজন’ মহাকাশযান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন।

আলোচনার একপর্যায়ে রোগান জানতে চান, মৃত রেপটিলিয়ানের লাশের পাশে কী ধরনের যান পাওয়া গেছে। গ্রুশ জানান, সেটি ছিল একটি ‘টিক ট্যাক’ (Tic Tac) আকৃতির যান। এই বিবরণটি ২০০৪ সালে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়। সে সময় কমান্ডার ডেভিড ফ্র্যাভর এবং তাঁর দল টিক ট্যাক লজেন্সের মতো মসৃণ ও সাদা একটি বস্তু দেখার দাবি করেছিলেন। প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ ফুট দীর্ঘ ওই যানটিতে কোনো দৃশ্যমান ডানা, লেজ, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা ধোঁয়া নির্গমনের পথ ছিল না।

রেপটিলিয়ানদের শারীরিক গঠন সম্পর্কে গ্রুশ তাঁর এক বন্ধুর কাছ থেকে পাওয়া বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এরা সাত ফুটেরও বেশি লম্বা এবং এদের ত্বক কিছুটা গরিলাদের মতো। তবে এদের বিভিন্ন ধরন রয়েছে, যার কিছু দেখতে মানুষের কাছাকাছি। অন্যদিকে ‘গ্রে’ এলিয়েনদেরও বিভিন্ন আকার রয়েছে, যার মধ্যে তুলনামূলক লম্বা এবং ছোট আকৃতির প্রজাতি রয়েছে। তবে গ্রুশ স্পষ্ট করে বলেন যে, তিনি নিজে কখনো রেপটিলিয়ানদের মুখোমুখি হননি; তিনি কেবল অন্যদের অভিজ্ঞতা এবং অডিও-ভিজ্যুয়াল উপাদানের ওপর নির্ভর করছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ক্যাপিটল হিলে আয়োজিত একটি শুনানিতে যে চারটি এলিয়েন ধরন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল, তার মধ্যে গ্রে এবং রেপটিলিয়ান প্রজাতি দুটি ছিল। এছাড়া পেন্টাগনের অতি-গোপন প্রকল্পে কাজের জন্য পরিচিত পদার্থবিজ্ঞানী ড. এরিক ডেভিস এক ব্রিফিংয়ে ভিনগ্রহী প্রজাতি হিসেবে ‘গ্রে, নরডিকস, ইনসেক্টয়েডস এবং রেপটিলিয়ানস’-এর নাম উল্লেখ করে শ্রোতাদের চমকে দিয়েছিলেন। ধারণা করা হয়, এই প্রজাতিগুলোই অজ্ঞাত যানগুলো পরিচালনা করে থাকে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin