আহত অবস্থায়ও যাত্রীদের জীবন বাঁচালেন ফ্লাইদুবাইয়ের ক্যাপ্টেন স্মিত
- আপডেট সময় : ০৩:৪৯:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে সহকারী পাইলটের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পরও অসীম সাহসিকতায় যাত্রীদের জীবন বাঁচানোর লড়াই চালিয়ে গেছেন ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। ভয়াবহ এই ঘটনার পর শুক্রবার (২ অক্টোবর) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন এবং তার সাহস, ধৈর্য ও উপস্থিত বুদ্ধির ভূয়সী প্রশংসা করেন।
হাসপাতালের বিছানা থেকে মোদির সঙ্গে আলাপকালে ক্যাপ্টেন স্মিতকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনি অত্যন্ত গুরুতর আহত অবস্থায় জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিলেন, কিন্তু নিজের কথা না ভেবে যাত্রীদের জীবনের কথা ভেবেছেন। আপনার এই সাহস ১৪০ কোটি ভারতীয়র সম্মান বাড়িয়ে দিয়েছে।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে গুজরাটের বাসিন্দা ক্যাপ্টেন স্মিত জানান, শরীরে অনেক ক্ষত নিয়ে মেঝেতে পড়ে থাকার সময়ও তিনি বুঝতে পারছিলেন বিমানটি দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। ১৭ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই পাইলট বলেন, চোখ বন্ধ থাকলেও বিমানের পরিস্থিতি বুঝতে পারছিলাম। আমি নিজেকে বলেছিলাম, শেষবারের মতো চেষ্টা করতে হবে। সর্বশক্তি দিয়ে ভেতর থেকে ককপিটের দরজাটি খুলতে সক্ষম হই, যার ফলে যাত্রী ও ক্রুরা ভেতরে এসে আমাকে সহায়তা করতে পেরেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমি তখন নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য লড়ছিলাম, কিন্তু একই সঙ্গে জানতাম অন্য যাত্রীদের মরতে দেওয়া যাবে না। এ সময় তীব্র ব্যথা ও ভয়ে তিনি হনুমান চালিসা পাঠ করছিলেন। সম্প্রতি মুম্বাই থেকে দুবাইয়ে পাড়ি জমানো এই ক্যাপ্টেন জানান, তিনি প্রতিদিন সকালে তার দুই বছরের ছেলেকে হনুমান চালিসা শোনান, কারণ বিদেশে থাকলেও নিজের সংস্কৃতি থেকে দূরে থাকা উচিত নয়।
গত বুধবার সকালে দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানটিতে এই ঘটনা ঘটে। উড্ডয়নের পরপরই ওমানের নাগরিক সহকারী পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিতকে ছুরিকাঘাত করেন। এর ফলে ৩০ সেকেন্ডের কম সময়ে বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। ককপিট থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শুনে যাত্রী ও ক্রুরা ছুটে এসে সহকারী পাইলটকে কাবু করেন। এরপর বিমানে থাকা আরও দুই পাইলট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরবের তাবুকে বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করান। ওই সময় বিমানে ১৭০ জনের বেশি যাত্রী ও ক্রু ছিলেন।


























