ঢাকা ১২:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উপজেলা পরিষদের সভার কার্যবিবরণী ১৪ দিনের মধ্যে পাঠানোর নির্দেশ সিলেটের কৃষিপণ্য সরাসরি বিদেশে পাঠাতে ৩৮০ কোটি টাকার প্রকল্প টেক্সাসে ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে বিক্ষোভকারীদের হট্টগোল ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ট্রাম্পের সাড়ে ৮ ফুটের নগ্ন ভাস্কর্য ‘অরেঞ্জ প্লেগ’ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন ২৩ জানুয়ারি, আবেদন শুরু ১২ অক্টোবর ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা: ৫ শিশুসহ নিহত ৩২ উত্তাল ফ্রান্স: ট্রাম্পের মন্তব্যের বাইরেও রয়েছে গভীর সংকট ইইউ-চীন বাণিজ্য আলোচনা শুরু: ঘাটতি ও বিধিনিষেধ নিয়ে বাড়ছে চাপ ঢাকায় ডিএমপির অভিযানে একদিনে গ্রেপ্তার ৫২৮, মামলা ৫৩ গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে যৌথভাবে কাজ করছে ঢাকা ও দিল্লি

হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সরকার দুঃখিত ও বিব্রত: উপদেষ্টা জাহেদ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:০৯:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সরকার দুঃখিত এবং অবশ্যই বিব্রত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। উপদেষ্টা বলেন, এই রাষ্ট্রে যেকোনো নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়া, স্থাপনা ভাঙচুর কিংবা আক্রমণের শিকার হওয়ার প্রতিটি ক্ষেত্রেই সরকার দুঃখিত ও বিব্রত। তিনি আরও বলেন, এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের ছিল, তাই বিব্রত হওয়াটা স্বাভাবিক।

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে কয়েকজনকে ইতিমধ্যে ধরা হয়েছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি, এসব ঘটনায় পুলিশের অবহেলা বা ক্ষমতাসীন দলের কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জাহেদ উর রহমান আশ্বস্ত করেন, তদন্তে যার নামই উঠে আসুক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা মানুষের মধ্যে ভয়ের উদ্রেক করে, তাই অপরাধ ঠেকানো এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি নিশ্চিত করেন যে, তদন্ত এখানেই থেমে থাকবে না এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ওপর হামলার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে উপদেষ্টা জানান, সরকার তার সঙ্গে সহানুভূতি রেখে কথা বলছে কারণ তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সালমান মুক্তাদির শুরুতে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ করলেও পরে তা থেকে সরে এসেছেন এবং স্বীকার করেছেন যে বিষয়টি আসলে সেভাবে ঘটেনি। উপদেষ্টা বলেন, কোনো ধরনের সহিংসতার সাফাই সরকার গাইছে না এবং এ ধরনের ঘটনা ঘটা উচিত ছিল না। তিনি আরও জানান, শুধু সালমান মুক্তাদিরের স্থাপনা নয়, অন্যান্য স্থাপনাও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমানের ফেসবুক স্ট্যাটাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ওই স্ট্যাটাস এখনো রয়ে গেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এনসিপি’র অনেক বিশিষ্ট নেতা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় বিএনপি ও সরকারের প্রধানকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন, যা কেউ সরায়নি। অপতথ্য মোকাবিলায় জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি আইনি পরিসরের মধ্যে বিষয়গুলো নিয়ে আসার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে কাজ হচ্ছে এবং আশা করা যায় সেই আইনি পরিসীমার মধ্যে এগুলো নিয়ে কাজ করা যাবে।

উপদেষ্টা আরও বলেন, পুলিশ বাহিনী বর্তমানে যে পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। কোথাও কোথাও দায়িত্বে অবহেলা হয়েছে তা স্বীকার করে তিনি বলেন, যেখানে যেখানে এমন ঘটছে, সেখানে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন কোনো অ্যানার্কির মধ্যে নেই বলে মন্তব্য করে তিনি অতীতের বিভিন্ন ঘটনার উদাহরণ দেন, যেখানে শীর্ষস্থানীয় পত্রিকায় আগুন দেওয়ার ঘোষণা ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রচার হলেও নিষ্ক্রিয় বাহিনী তা ঠেকানোর চেষ্টা করেনি। মাজার ভাঙা, মেয়েদের ফুটবল খেলা বন্ধের ঘোষণা, নাটক ও মেলা বন্ধের মতো ঘটনাগুলোকেও তিনি অতীতের ধারাবাহিক পরিস্থিতির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। বর্তমানে দুই-তিনটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও সেগুলোকে আগের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করা ঠিক হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, পুলিশ বাহিনী তাদের তৎপরতা বাড়াচ্ছে এবং প্রয়োজনে রাষ্ট্র ও জনগণের প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনী নামানো হতে পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সরকার দুঃখিত ও বিব্রত: উপদেষ্টা জাহেদ

আপডেট সময় : ০৭:০৯:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সরকার দুঃখিত এবং অবশ্যই বিব্রত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। উপদেষ্টা বলেন, এই রাষ্ট্রে যেকোনো নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়া, স্থাপনা ভাঙচুর কিংবা আক্রমণের শিকার হওয়ার প্রতিটি ক্ষেত্রেই সরকার দুঃখিত ও বিব্রত। তিনি আরও বলেন, এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের ছিল, তাই বিব্রত হওয়াটা স্বাভাবিক।

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে কয়েকজনকে ইতিমধ্যে ধরা হয়েছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি, এসব ঘটনায় পুলিশের অবহেলা বা ক্ষমতাসীন দলের কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জাহেদ উর রহমান আশ্বস্ত করেন, তদন্তে যার নামই উঠে আসুক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা মানুষের মধ্যে ভয়ের উদ্রেক করে, তাই অপরাধ ঠেকানো এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি নিশ্চিত করেন যে, তদন্ত এখানেই থেমে থাকবে না এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ওপর হামলার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে উপদেষ্টা জানান, সরকার তার সঙ্গে সহানুভূতি রেখে কথা বলছে কারণ তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সালমান মুক্তাদির শুরুতে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ করলেও পরে তা থেকে সরে এসেছেন এবং স্বীকার করেছেন যে বিষয়টি আসলে সেভাবে ঘটেনি। উপদেষ্টা বলেন, কোনো ধরনের সহিংসতার সাফাই সরকার গাইছে না এবং এ ধরনের ঘটনা ঘটা উচিত ছিল না। তিনি আরও জানান, শুধু সালমান মুক্তাদিরের স্থাপনা নয়, অন্যান্য স্থাপনাও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমানের ফেসবুক স্ট্যাটাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ওই স্ট্যাটাস এখনো রয়ে গেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এনসিপি’র অনেক বিশিষ্ট নেতা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় বিএনপি ও সরকারের প্রধানকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন, যা কেউ সরায়নি। অপতথ্য মোকাবিলায় জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি আইনি পরিসরের মধ্যে বিষয়গুলো নিয়ে আসার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে কাজ হচ্ছে এবং আশা করা যায় সেই আইনি পরিসীমার মধ্যে এগুলো নিয়ে কাজ করা যাবে।

উপদেষ্টা আরও বলেন, পুলিশ বাহিনী বর্তমানে যে পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। কোথাও কোথাও দায়িত্বে অবহেলা হয়েছে তা স্বীকার করে তিনি বলেন, যেখানে যেখানে এমন ঘটছে, সেখানে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন কোনো অ্যানার্কির মধ্যে নেই বলে মন্তব্য করে তিনি অতীতের বিভিন্ন ঘটনার উদাহরণ দেন, যেখানে শীর্ষস্থানীয় পত্রিকায় আগুন দেওয়ার ঘোষণা ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রচার হলেও নিষ্ক্রিয় বাহিনী তা ঠেকানোর চেষ্টা করেনি। মাজার ভাঙা, মেয়েদের ফুটবল খেলা বন্ধের ঘোষণা, নাটক ও মেলা বন্ধের মতো ঘটনাগুলোকেও তিনি অতীতের ধারাবাহিক পরিস্থিতির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। বর্তমানে দুই-তিনটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও সেগুলোকে আগের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করা ঠিক হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, পুলিশ বাহিনী তাদের তৎপরতা বাড়াচ্ছে এবং প্রয়োজনে রাষ্ট্র ও জনগণের প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনী নামানো হতে পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin