দুদকের প্রেস ব্রিফিং ও মিডিয়া ট্রায়াল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আসিফ মাহমুদ
- আপডেট সময় : ০৩:৩৪:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের শুরুতে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ মর্মে বক্তব্য প্রদান এবং গণমাধ্যমে তা প্রচারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় দায়ের করা এই রিটে দুদক চেয়ারম্যান, কমিশনের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা) ও সহকারী পরিচালককে (জনসংযোগ কর্মকর্তা) বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বরের প্রেস ব্রিফিংকে বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করার আর্জি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে, তদন্ত বা অনুসন্ধানাধীন কোনো বিষয়ে গণমাধ্যমে মানহানিকর প্রেস ব্রিফিং করা থেকে দুদককে বিরত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটকারী আরও দাবি জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে প্রচারিত বক্তব্যের বিষয়ে সমগুরুত্ব দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাহার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশনা দিতে।
আবেদনের প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ের ব্রিফিংয়ে উপ-পরিচালক দাবি করেছিলেন যে আসিফ মাহমুদ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায়’ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রিটে যুক্তি দেয়া হয় যে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী ‘প্রাথমিক সত্যতা’ অনুসন্ধান শেষের ফলাফল হতে পারে, শুরুর বক্তব্য হিসেবে নয়। যদিও পরবর্তীতে ৯ সেপ্টেম্বর দুদকের সচিব গণমাধ্যমের কাছে ওই বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব দ্য টাং’ বা মুখ ফসকে বলা বলে স্বীকার করেছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে স্বীকার করেন, কিন্তু এর কোনো আনুষ্ঠানিক ও স্পষ্ট প্রত্যাহার গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়নি।
রিটে আরও অভিযোগ করা হয়, ১০ সেপ্টেম্বর আইনি নোটিশ পাঠানোর পরও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক নতুন একটি প্রেস ব্রিফিং করেন। সেখানে ডিএনসিসির প্রশাসক নিয়োগ, ডিসি পদায়ন, ওয়াসা, এলজিইডি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার এবং বিদেশে অর্থপাচারসহ বহুবিধ নতুন অভিযোগ আনা হয়।
আসিফ মাহমুদ তার রিট আবেদনে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব বাতিলের বিষয়টি প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের আদেশে হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া ১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা তিনি পদত্যাগের (১১ ডিসেম্বর ২০২৫) প্রায় পাঁচ মাস পর (১১ মে ২০২৬) কার্যকর হওয়ায় এতে তার সংশ্লিষ্টতা থাকা আইনগত ও বাস্তবিকভাবে অসম্ভব বলে রিটে জানানো হয়েছে। রিটে আরও বলা হয়, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থিতা ঘোষণার পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে এবং ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ পরিচালনার উদ্দেশ্যেই এই ব্রিফিংগুলো করা হয়েছে, যা সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত মৌলিক অধিকার এবং ‘তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা, ২০১১’-এর পরিপন্থী।


























