ভারতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ
- আপডেট সময় : ০৬:০৪:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভেতরের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ নিয়ে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশটির জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার জেরে শুক্রবার ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেসসহ প্রধান প্রধান বিরোধী দলগুলোর নেতা ও সমর্থকেরা রাজপথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। দেশজুড়ে এখন বিরোধী শিবিরের একমাত্র দাবি—মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ।
রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভের সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে একদল কংগ্রেস সমর্থক পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বেশ কয়েকজন কর্মীকে আটক করে। দুপুর ২টার পর ওই এলাকা থেকে বিশিষ্ট সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, আইসা নেত্রী নেহা বরা, অঞ্জলি ভরদ্বাজ এবং দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকে আটক করা হয়। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, এই বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য আগে থেকে কোনো প্রশাসনিক অনুমতি নেওয়া হয়নি।
দিল্লির এই আন্দোলন নিয়ে দিল্লি কংগ্রেসের সভাপতি দেবেন্দ্র যাদব কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, জ্ঞানেশ কুমারের দ্রুত পদত্যাগ প্রয়োজন। দেশে গণতন্ত্র ধ্বংস হতে চললে তারা মুখ বুজে বসে থাকবেন না। বিক্ষোভের অংশ হিসেবে ভারতীয় যুব কংগ্রেসের কর্মীরা সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের মুখের আদলে মুখোশ পরে এবং নিজেদের হাতে হাতকড়া লাগিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানান। তারা রায়সীনা রোড থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর পর্যন্ত ব্যানার ও পোস্টার হাতে স্লোগান দিতে দিতে পদযাত্রা করেন।
দিল্লির বাইরেও ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এই বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। বিহারের রাজধানী পটনায় কংগ্রেস সমর্থকেরা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের কার্যালয়ের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে। আসামে বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করেছে। এছাড়া পুদুচেরী, ইম্ফল, শিমলা, শ্রীনগর, দেরাদূন, জম্মু এবং কলকাতাতেও ব্যাপক বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।
এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভোটচুরির অভিযোগ তুলে রাজপথে নেমেছে তরুণদের দল 'তেলাপোকা জনতা পার্টি'। এক সংবাদ সম্মেলনে তারা জ্ঞানেশ কুমারের দ্রুত পদত্যাগ দাবি করে অন্যথায় আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের নেওয়া একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন দাখিল করা হয়েছে। তিন সদস্যের এই কমিশনের অন্য দুই কমিশনারের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর), ফর্ম ৬-এর পরিবর্তন এবং ভোটার তালিকার তথ্য কেন্দ্রীকরণের মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগে সিইসির বিরুদ্ধে মামলা করার দাবি জানানো হয়েছে ওই আবেদনে। এতে অভিযোগ করা হয়েছে, এসব একতরফা সিদ্ধান্তের কারণে বিপুল সংখ্যক যোগ্য ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, যা জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩২ ধারার লঙ্ঘন।




























