জামায়াতের লংমার্চ স্থগিতের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ
- আপডেট সময় : ০২:১৮:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

জ্বালানি তেলের ওপর অতিরিক্ত পেট্রোলিয়াম কর আরোপ, ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি এবং অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর ডাকা ইসলামাবাদমুখী ট্রেন লংমার্চকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্দোলনরত দলটিকে লংমার্চ স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে অবস্থানকালে জামায়াতের আমির হাফিজ নাঈমুর রহমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। ফোনালাপে তিনি লংমার্চ স্থগিত করার অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি দেশে ফিরে পেট্রোলিয়াম কর ইস্যুতে দলটির সঙ্গে অর্থবহ ও কার্যকর সংলাপে বসার প্রস্তাব দিয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, হাফিজ নাঈমুর রহমানের নেতৃত্বে লংমার্চের কাফেলাটি মুলতান রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই যোগাযোগ হয়। হাফিজ নাঈম আলোচনার প্রস্তাবকে স্বাগত জানালেও স্পষ্ট করে বলেছেন যে, তাদের উদ্দেশ্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি কিংবা সরকারের সঙ্গে সংঘাত নয়। বরং তারা গণতান্ত্রিক উপায়ে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে নেমেছেন এবং জনগণের এই অধিকারকে সরকারের সম্মান দেখানো উচিত।
লংমার্চ স্থগিতের বিষয়ে হাফিজ নাঈমুর রহমান জানিয়েছেন, এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। দলের কেন্দ্রীয় নীতি-নির্ধারণী পরিষদ ‘মজলিস-ই-শূরা’র সাথে জরুরি পরামর্শের পরই সরকারের অনুরোধের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন, মার্চ সাময়িকভাবে স্থগিত হলেও সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবি আদায়ে তারা সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকার থেকে সরে আসবেন না।
রোববার করাচি থেকে শুরু হওয়া এই ট্রেন মার্চ সোমবার রাতে তীব্র উত্তেজনার মধ্য দিয়ে মুলতান পৌঁছায়। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কয়েক ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছালেও সেখানে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। জনসভায় হাফিজ নাঈম অভিযোগ করেন, সরকার বিভিন্নভাবে পথরোধের চেষ্টা করলেও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির কারণে তা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, করাচি থেকে মুলতান পর্যন্ত এবং বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়াসহ বিভিন্ন স্থানে মানুষ তাদের অধিকার রক্ষায় রাজপথে নেমেছে। পাঞ্জাবের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চল অতিক্রম করে এই কাফেলা লাহোর হয়ে ইসলামাবাদের দিকে যাবে।
সরকারের কঠোর নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও সড়ক অবরোধে কন্টেইনার বসানোর ইঙ্গিতের বিষয়ে জামায়াত প্রধান বলেন, কোনো বাধাই এই গণজোয়ার ঠেকাতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, সরকার যদি তথাকথিত পেট্রোলিয়াম লেভি প্রত্যাহার করে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেয়, তবে জামায়াতে ইসলামী কোনো অহংবোধের লড়াইয়ে নেই এবং সেক্ষেত্রে তারা আন্দোলন থেকে সরে আসতেও প্রস্তুত।



























