ইমরান খানের মুক্তি ও বিক্ষোভ ঘিরে পাকিস্তানে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা
- আপডেট সময় : ০৪:৫৮:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তি এবং আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের দেশব্যাপী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) অভিযোগ করেছে, সরকার ও সেনাবাহিনী তাদের নেতাদের অপহরণ ও আটক করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটিতে 'গৃহযুদ্ধ' ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।
পিটিআইয়ের দাবি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সরকার এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করে বিরোধীদের দমন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। খাইবার পাখতুনখোয়ায় (কেপি) তাদের দলের একাধিক নেতাকে বন্দুকের মুখে অপহরণ করার পাশাপাশি কয়েকজনকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সম্প্রতি লাহোরে ইমরান খানের তিন বোন—আলিমা খান, নুরিন নিয়াজি ও ডা. উজমা খানকে আটক করে ৩০ দিনের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে।
অপহরণের বিস্তারিত তুলে ধরে পিটিআই জানিয়েছে, সোমবার পেশোয়ারের মোটরওয়ে টোল প্লাজা এলাকা থেকে কেপি সরকারের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলমন্ত্রী ফজল শাকুর খানকে মুখোশধারী ব্যক্তিরা অপহরণ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর বরাত দিয়ে দলটি জানায়, মুখোশধারীরা মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে মন্ত্রীর গাড়ির টায়ারে গুলি চালিয়ে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। একই সময়ে মালাকান্দে সাবেক প্রাদেশিক মন্ত্রী শাকিল আহমেদকে অপহরণের চেষ্টা চালানো হলেও তার নিরাপত্তারক্ষীদের পাল্টা গুলিবর্ষণে তা ব্যর্থ হয়। তবে এ ঘটনায় উল্টো শাকিল আহমেদের বিরুদ্ধেই এফআইআর করেছে পুলিশ। কেপির আইনমন্ত্রী আফতাব আলম আফ্রিদি অভিযোগ করেছেন, এসব ঘটনার মাধ্যমে প্রাদেশিক মন্ত্রিসভাকে বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে পিটিআইয়ের কোনো রাজনৈতিক অবস্থান নেই।
কেপি প্রাদেশিক পরিষদের অধিবেশনে স্পিকার বাবর সেলিম স্বাতি অভিযোগ করেন, মুখোশধারী ব্যক্তিরা যেভাবে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে মানুষ অপহরণ করছে, তা সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, খাইবার পাখতুনখোয়া পুলিশ মূলত বিভিন্ন 'এজেন্সি'-র সহযোগী বা 'বি-টিম' হিসেবে কাজ করছে।
এদিকে, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভকে ঘিরে ইসলামাবাদ ও দেশের বিভিন্ন স্থানে পিটিআই নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার এবং দলীয় কার্যালয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইসলামাবাদের হাসপাতালগুলোকে সম্ভাব্য 'মানবিক সংকট' ও 'গণহতাহতের ঘটনা'র জন্য জরুরি প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি কয়েকটি হাসপাতালে আগে থেকে নির্ধারিত অস্ত্রোপচার পিছিয়ে দেওয়ার কথাও রোগীদের জানানো হয়েছে। পিটিআইয়ের আশঙ্কা, বিক্ষোভ দমনে সরকার বড় ধরনের বলপ্রয়োগের পরিকল্পনা করছে।
সব বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ কর্মসূচি সফল করতে অনড় রয়েছে পিটিআই। কেপির মুখ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ সোহেল আফ্রিদি জানিয়েছেন, আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর আন্দোলনের বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করে দেশজুড়ে নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করা হবে। ২০২৩ সাল থেকে রাওয়ালপিন্ডির উচ্চনিরাপত্তার আদিয়ালা কারাগারে বন্দি রয়েছেন ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান। পেশোয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে আফ্রিদি অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে তাদের ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।
আফ্রিদি জোর দিয়ে বলেন, পিটিআই কোনো সহিংসতা চায় না এবং সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে দাবি আদায় করতে চায়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কর্মীরা কোনো ধরনের অস্ত্র বহন করবেন না। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে যদি গুলি চালানো হয়, তবে তার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হতে পারে, যা পাকিস্তানকে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।





























