ঢাকা ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রাতরাশে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রেশার্স ডে-নাইট ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় নতুন করে ভাবার আহ্বান গুতেরেসের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে সহযোগিতা বাড়াতে তারেক রহমান ও এরদোয়ানের বৈঠক চট্টগ্রামে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা মিশিগান ডেমোক্রেটিক পার্টির ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পেলেন তাহমিদ চৌধুরী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আস্থা ফেরাতে কঠিন সত্য স্বীকারের আহ্বান জাতিসংঘ সভাপতির টেকনাফে রোহিঙ্গা বহনকারী নৌকাডুবি, নারী ও শিশুর মৃত্যু সিলেটের রায়নগরে ট্রিপল মার্ডার: তদন্তে নামল পিবিআই, বাবুল ২ দিনের রিমান্ডে

মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের সামনে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:৪২:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে চাকরিচ্যুত সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার সকালে সংঘটিত এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। চাকরি পুনর্বহালের দাবি এবং ব্যাংকের নিরাপত্তা রক্ষার পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রামের পটিয়া অঞ্চল থেকে আসা ইসলামী ব্যাংকের কিছু সাবেক কর্মী চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে মতিঝিলে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। একই সময়ে সেখানে 'ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম'-এর সদস্যরাও অবস্থান নিলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা সাবেক কর্মীদের ধাওয়া দেন। জবাবে চাকরিচ্যুত সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ফোরামের সদস্যরাও পাল্টা ধাওয়া দিলে পরিস্থিতি সহিংস সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন।

সংঘর্ষের বিষয়ে সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি নুর-উন নবী মানিক গণমাধ্যমকে জানান, অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের কোনো সম্পর্ক নেই। ব্যাংকটির বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র করতেই তারা সেখানে অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের ছত্রছায়ায় তাদের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় তাদের পাঁচজন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং আরও ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন।

can অন্যদিকে, চাকরিচ্যুত সাবেক কর্মীদের পক্ষে শহিদুল ইসলাম নামে একজন সাবেক কর্মকর্তা পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, তারা দ্বিতীয় দিনের মতো ব্যাংকের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে উপস্থিত হওয়ার মাত্র ২০ মিনিটের মাথায় সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরে পুলিশ তাদের নিরাপত্তা দিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। শহিদুল ইসলামের দাবি, তাদের পক্ষের অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন আহত কর্মী বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার সকালে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে উভয় পক্ষই অবস্থান নিয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে পুলিশ দুই পক্ষকেই শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করার আহ্বান জানায়। তবে চাকরিচ্যুত সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ফোরামের একটি মিছিল আসার সময় সচেতন গ্রাহক ফোরামের কিছু সদস্য তাদের ওপর চড়াও হলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

এই বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রেজওয়ানুল ইসলাম জানান, পুলিশ উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার এবং শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের অনুরোধ করেছিল। কিন্তু সাবেক কর্মীদের একটি মিছিল আসার সময় সচেতন গ্রাহক ফোরামের কিছু সদস্য হামলা চালায়। পরবর্তীতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় ভুক্তভোগী কোনো পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের সামনে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

আপডেট সময় : ০৩:৪২:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে চাকরিচ্যুত সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার সকালে সংঘটিত এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। চাকরি পুনর্বহালের দাবি এবং ব্যাংকের নিরাপত্তা রক্ষার পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রামের পটিয়া অঞ্চল থেকে আসা ইসলামী ব্যাংকের কিছু সাবেক কর্মী চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে মতিঝিলে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। একই সময়ে সেখানে 'ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম'-এর সদস্যরাও অবস্থান নিলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা সাবেক কর্মীদের ধাওয়া দেন। জবাবে চাকরিচ্যুত সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ফোরামের সদস্যরাও পাল্টা ধাওয়া দিলে পরিস্থিতি সহিংস সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন।

সংঘর্ষের বিষয়ে সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি নুর-উন নবী মানিক গণমাধ্যমকে জানান, অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের কোনো সম্পর্ক নেই। ব্যাংকটির বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র করতেই তারা সেখানে অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের ছত্রছায়ায় তাদের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় তাদের পাঁচজন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং আরও ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন।

can অন্যদিকে, চাকরিচ্যুত সাবেক কর্মীদের পক্ষে শহিদুল ইসলাম নামে একজন সাবেক কর্মকর্তা পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, তারা দ্বিতীয় দিনের মতো ব্যাংকের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে উপস্থিত হওয়ার মাত্র ২০ মিনিটের মাথায় সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরে পুলিশ তাদের নিরাপত্তা দিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। শহিদুল ইসলামের দাবি, তাদের পক্ষের অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন আহত কর্মী বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার সকালে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে উভয় পক্ষই অবস্থান নিয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে পুলিশ দুই পক্ষকেই শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করার আহ্বান জানায়। তবে চাকরিচ্যুত সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ফোরামের একটি মিছিল আসার সময় সচেতন গ্রাহক ফোরামের কিছু সদস্য তাদের ওপর চড়াও হলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

এই বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রেজওয়ানুল ইসলাম জানান, পুলিশ উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার এবং শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের অনুরোধ করেছিল। কিন্তু সাবেক কর্মীদের একটি মিছিল আসার সময় সচেতন গ্রাহক ফোরামের কিছু সদস্য হামলা চালায়। পরবর্তীতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় ভুক্তভোগী কোনো পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin