কেরোসিন ঢেলে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
- আপডেট সময় : ০২:৩৬:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

কেরানীগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী শারমিনকে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় স্বামী দুলাল হোসেন ওরফে দুলু ওরফে জুয়েলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না থাকায় মামলার অপর চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
খালাস পাওয়া চার আসামি হলেন—দুলালের ভাই হারুন, ভাবি মোরশেনা, বোন সুমাইয়া ও বোনজামাই রাজু। মামলার আরেক আসামি দুলালের মা জরিনা বেগম বিচার চলাকালে মারা যান।
সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি দুলালকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে জরিমানার টাকা আদায় করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০১ সালে দুলালের সঙ্গে শারমিনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই পরিবারের অন্য সদস্যদের প্ররোচনায় দুলাল দুই লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে শারমিনকে প্রায়ই মারধর করতেন। ২০১৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যৌতুকের জন্য শারমিনকে আবারও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে আসামিরা তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে শারমিন তার মাকে জানিয়েছিলেন।
চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে শারমিনকে উদ্ধার করে প্রথমে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে মেয়েকে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পান মা মোসা. মোমেলা। চিকিৎসকরা জানান, শারমিনের শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর শারমিন মারা যান।
এ ঘটনায় শারমিনের মা মোমেলা বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় দুলালের মা জরিনা বেগমসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই এ কে এম সাইদুজ্জামান ছয় আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত এই রায় দেন।



























