এআই নজরদারিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক: কমছে যানজট ও দুর্ঘটনা
- আপডেট সময় : ০২:০৮:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে আরও আধুনিক, নিরাপদ এবং যানজটমুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, এআই ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি, স্বয়ংক্রিয় জরিমানা ব্যবস্থা, ওভারপাস-আন্ডারপাস নির্মাণ এবং মহাসড়ককে ১০ লেনে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি কাজ শুরু হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ১৮ আগস্ট থেকে এই মহাসড়কে এআই ক্যামেরা ও ‘অটো ফাইন’ ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর সাইনবোর্ড থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার এলাকা বর্তমানে এই নজরদারির আওতায় রয়েছে। মহাসড়কের ৪৯০টি পয়েন্টে মোট ১ হাজার ৪২৭টি এআই ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা গাড়ির গতিবিধি পর্যবেক্ষণসহ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করবে। অতিরিক্ত গতি, লেন অমান্য করা, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, উল্টো পথে গাড়ি চালানো এবং অবৈধ পার্কিংয়ের মতো অনিয়মগুলো এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধরা পড়ছে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব জানান, এই আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন যুগের সূচনা করেছে। অটো ফাইন ব্যবস্থা চালুর প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই ৪৪৯টি মামলা করা হয়েছে এবং জরিমানা আদায় হয়েছে ১৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা। নিয়ম ভঙ্গের পর গাড়ির মালিকের মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে এবং ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে জরিমানার টাকা পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানের মতে, শুরুতে আইন লঙ্ঘনের হার বেশি মনে হলেও নিয়মিত নজরদারির ফলে চালকদের সচেতনতা বাড়বে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
মহাসড়কের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ১০ লেনে উন্নীত করার একটি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এছাড়া পদুয়াবাজার এলাকার যানজট নিরসনে বিদ্যমান ওভারপাস সম্প্রসারণের নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঁচটি আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান জানান, পুরো ২৩২ কিলোমিটার মহাসড়ককে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে রূপান্তরের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ডিজাইন সম্পন্ন করা হয়েছে এবং অর্থায়ন নিশ্চিত হলে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



























