কূটনৈতিক অবহেলায় জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ ‘পিফোরএম’ সামিটে অনুপস্থিত বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ১০:১৮:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইড ইভেন্টগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘পার্টনারস ফর মাল্টিলেটারেলিজম’ (পিফোরএম) সামিটে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বাংলাদেশের অনুপস্থিতির পেছনে জাতিসংঘে নিযুক্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অবহেলা ও উদাসীনতাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সমকালীন বিশ্ববাস্তবতায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই কূটনৈতিক উদ্যোগটি যৌথভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে অস্ট্রেলিয়া, বার্বাডোস, ব্রাজিল, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত ও কেনিয়া। বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক আইন, শান্তি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমৃদ্ধি জোরদার করার লক্ষ্যে এটি একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। তবে বাংলাদেশ এই উদ্যোগের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও দায়িত্বশীলদের উদাসীনতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সম্মেলনে অংশ নিতে পারেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পিফোরএম সামিটের ঘোষণায় বলা হয়েছে, আরও আন্তঃনির্ভরশীল ও ক্রমবর্ধমান বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর, প্রতিনিধিত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে। জাতিসংঘ বর্তমানে যুদ্ধ, ভূরাজনৈতিক মেরুকরণ, অর্থনৈতিক বিভাজন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের চাপের মুখোমুখি। এই বাস্তবতায় জাতিসংঘকেন্দ্রিক বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে সংরক্ষণ ও পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে পিফোরএম। বিশেষ করে মধ্যম ও ছোট রাষ্ট্রগুলোর জন্য এই উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি, কারণ তাদের স্বার্থ মূলত নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়াকে দায়িত্বগত অবহেলা বলে মন্তব্য করছেন অনেকে।
এই অবহেলার বিষয়ে জানতে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান (এপোলো)-র সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে জাতিসংঘে নিযুক্ত সাবেক এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ না থাকলেও বাংলাদেশের নিজের উদ্যোগে এই সম্মেলনে অংশ নেওয়া উচিত ছিল। কার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ এই সম্মেলন এড়িয়ে গেল, তা নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
ওই কর্মকর্তা আরও মনে করেন, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের জেনারেল ডিবেটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তৃতায় পিফোরএম সামিটের নীতিগুলোর প্রতি বাংলাদেশের সংহতি প্রকাশ করা উচিত। একই সঙ্গে বহুপাক্ষিকতাকে প্রকৃত অর্থে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের প্রতিনিধিত্বশীল করার বিষয়ে জোর দেওয়া প্রয়োজন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা, জলবায়ু কূটনীতি ও মানবিক কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ভূমিকার কারণে এই এজেন্ডাগুলোতে ঢাকার গভীর স্বার্থ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম বক্তৃতায় ১৯৮০ সালের বিশেষ অধিবেশনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেওয়া ভাষণ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছিলেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন বক্তৃতায়ও প্রেসিডেন্ট জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দূরদর্শী বক্তব্য থেকে উদ্ধৃতি থাকা আবশ্যক, যা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ইতিমধ্যে পররাষ্ট্র সচিব ঢাকা ছাড়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে গণমাধ্যমকে কিছু গতানুগতিক ধারণা দিয়েছেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতায় স্থান না পাওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও পেশাদারিত্বের চরম গাফিলতি হিসেবে গণ্য হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।


























