ভারত সফরে আগ্রহী তারেক রহমান, গুরুত্ব পাচ্ছে সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা
- আপডেট সময় : ০৮:২৭:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যত দ্রুত সম্ভব ভারত সফরে যেতে আগ্রহী। তবে এই ধরনের সফরের পর দেশে ফিরে জনগণের সামনে উপস্থাপনের মতো কী কী অর্জন ও সুনির্দিষ্ট সাফল্য থাকবে, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দ্য হিন্দুকে এ কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের একজন কূটনৈতিক কর্মকর্তা।
ওই কর্মকর্তা জানান, ভারতের আমন্ত্রণে বহুপক্ষীয় ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমান হয়তো অংশ নেননি, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ব্যাপক অবদান ও ত্যাগ স্বীকার করা নিকটতম প্রতিবেশী ভারতকে তিনি এড়িয়ে চলতে চাইছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানেন যে আগামী নভেম্বর অথবা ডিসেম্বরের শুরুর দিকে দ্বিপক্ষীয় কাঠামোয় তাকে নয়াদিল্লি সফর করতে হতে পারে। এর অন্যতম কারণ গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি, যা দ্রুত নবায়ন করা প্রয়োজন। অন্যথায় ডিসেম্বরের শেষে চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।
কূটনৈতিক সূত্র মতে, তারেক রহমানের ভারত সফরের আগে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে নিবিড় বৈঠকের মাধ্যমে সফরের এজেন্ডা নির্ধারণ করা প্রয়োজন, তবে এমন আলোচনা এখনো শুরু হয়নি। ঢাকার ধারণা, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন একটি ‘চলমান অর্জন’ হতে পারে। এছাড়া পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু করা, ঢাকার অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আরোপ করা বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, স্থলবন্দরগুলোর ব্যবহার এবং পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরায় চালু করার মতো বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে জ্বালানি সংকটে ভুগছে, তাই এই খাতে ভারত সহায়তা করতে পারলে সেটি আস্থা তৈরির একটি পদক্ষেপ হবে।
কর্মকর্তাটি জানান, বাংলাদেশ বাণিজ্যিক ও কনস্যুলার বিষয়গুলোকে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের মতো কঠিন রাজনৈতিক ইস্যু থেকে আলাদাভাবে দেখছে। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার প্রথম মেয়াদে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি দ্বিপক্ষীয় কূটনীতির একটি সাফল্য। এটি নবায়ন করতে ব্যর্থ হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এছাড়া ভারতে বিহারের জেডিইউ সংসদ সদস্য সঞ্জয় ঝার মতো নেতাদের বিরোধিতার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি বিলম্বিত করা উল্টো ফলদায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের ভারত সফর এমনভাবে পরিকল্পনা করতে হবে যাতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক তার পূর্ণ সম্ভাবনায় ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ধারাবাহিক আলোচনা করছেন এবং প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। বাংলাদেশ আশা করে ভারত বিষয়টি বিবেচনায় রাখবে যে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার অভিযোগগুলো যৌক্তিক নয় এবং তিনি একজন নির্বাচিত নেতা। এছাড়া শেখ হাসিনার দলের সমর্থকদের অংশগ্রহণে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন বন্ধ করার ভারতীয় উদ্যোগকে বাংলাদেশ একটি গঠনমূলক বার্তা হিসেবে দেখছে। বিএনপির নেতারা মনে করেন, ২০১৮ সালে ভারত লর্ড আলেকজান্ডার কার্লাইলকে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি, যিনি তখন খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তারেক রহমানকে বিমসটেক এর প্রধান হিসেবে দিল্লিতে ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। এই সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আমলাদের পর্যায়ে আলোচনা চলছিল। এর মধ্যেই গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব বা এফসিসিতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হাসিনার বিরুদ্ধে সহিংস অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলে এবং ওই অনুষ্ঠানের ঘটনায় “ক্ষোভ” প্রকাশ করে।



























