ঢাকায় ৮৭ দিন: দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে যা বললেন দীনেশ ত্রিবেদী
- আপডেট সময় : ১২:৩৮:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপড়েন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ঢাকায় ৮৭ দিন অতিবাহিত করার পর এক একান্ত আলাপচারিতায় তিনি জানান, দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে অহেতুক বিতর্কের কোনো প্রয়োজন নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে ভারত মুখিয়ে আছে এবং সেখানে তাকে উষ্ণ স্বাগত জানাতে চায় দিল্লি। এই সফর যাতে কেবল একটি গতানুগতিক কূটনৈতিক আয়োজনে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেটাই ভারতের প্রত্যাশা।
ঢাকায় নিজের কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, এখানে তার খুব ভালো লাগছে এবং দুই দেশের ভাষা, খাবার ও আচার-আচরণে তিনি তেমন কোনো তফাৎ দেখেন না। এখানকার মানুষের আতিথেয়তায় তিনি মুগ্ধ। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে যাদের সাথেই তার কথা হয়েছে, তারা তাকে আপন করে নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, দুই দেশের মধ্যে সমস্যা বা ভুল বোঝাবুঝি থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে তার সুরাহা সম্ভব। উল্লেখ্য, দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি ভারতের সাবেক রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বি.কম এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রিধারী ত্রিবেদী একজন দক্ষ ও প্রশিক্ষিত পাইলটও।
সম্প্রতি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারের তাগিদ অনুভূত হচ্ছিল। জাতীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঢাকা সফর ছিল সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি বিশেষ কূটনৈতিক উদ্যোগ। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ও পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি যোগ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় নরেন্দ্র মোদির বিশেষ বার্তা নিয়ে ঢাকায় আসেন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন।
তবে সম্প্রতি ব্রিকস সম্মেলন এবং দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কিছুটা কূটনৈতিক ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। ব্রিকসের দাওয়াতপত্রে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের নাম উল্লেখ না থাকায় ঢাকা আপত্তি জানায়। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারিতে দ্বিপক্ষীয় সফর এবং পরবর্তীতে ব্রিকস আউটরিচ সেশনের জন্য দুই দফায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এই দ্বিমুখী অবস্থানের পর দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক শেষে দিল্লি গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও একান্ত বৈঠক করেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারত আগেভাগে কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি না হলেও ওসমান হাদির দুই হত্যাকারীকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। এদিকে দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে বাংলাদেশ তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, এ ধরনের প্রচেষ্টা দেশের মানুষ অতীতেও প্রত্যাখ্যান করেছে। বাংলাদেশ সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে একটি গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।
অন্যদিকে তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের কিছু খবরে বাংলাদেশে কিছুটা হতাশা তৈরি হলেও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, সম্পর্ক স্বাভাবিক নয়— এমনটি তিনি মনে করেন না। বাংলাদেশ আরও সুসম্পর্ক চায় এবং এখন বল দিল্লির কোর্টে রয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশই সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী হলেও বিদ্যমান অদৃশ্য প্রাচীরটি ভাঙা জরুরি।




























