কসমেটিকা ঢাকা প্রদর্শনীতে দেশসেরা কসমেটিকস কোম্পানির স্বীকৃতি পেল রিমার্ক-হারল্যান
- আপডেট সময় : ০৪:২৭:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (06 September 2026), ১৫:৫৮ (15:58): রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী ‘কসমেটিকা ঢাকা’ প্রদর্শনীর শেষ দিনে কসমেটিকস পণ্য উৎপাদনে দেশের সেরা কোম্পানির স্বীকৃতি পেয়েছে রিমার্ক-হারল্যান। গত শনিবার সন্ধ্যায় প্রদর্শনীর সমাপনী দিনে রিমার্কের দৃষ্টিনন্দন প্যাভিলিয়নে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ সম্মাননা হস্তান্তর করা হয়। সার্বিক বিবেচনায় দেশসেরা কসমেটিকস উৎপাদক কোম্পানি এবং সেরা প্যাভিলিয়নের জোড়া ক্রেস্ট রিমার্কের প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
প্রদর্শনীর আয়োজক প্রতিষ্ঠান স্কোয়াড মাইন্ড গ্লোবাল লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়সাল মুনিম রিমার্কের পক্ষে সিনিয়র অপারেティブ ডিরেক্টর মিজানুর রহমান এবং হারল্যানের হেড অব মার্কেটিং হাবিবুল্লাহ হাবিবের কাছে এই সম্মাননা ক্রেস্ট হস্তান্তর করেন। এ সময় রিমার্ক-হারল্যানের অন্যান্য প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্কোয়াড মাইন্ড গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী এস এম ফয়সাল মুনিম বলেন, দেশের কসমেটিকস শিল্পে রিমার্কের অবদান সত্যিই প্রশংসনীয়। মেলায় তাদের আধুনিক উৎপাদন সক্ষমতার প্রদর্শন, নান্দনিক স্টল ডিজাইন এবং পেশাদার উপস্থাপন সবাইকে মুগ্ধ করেছে। রিমার্কের প্যাভিলিয়নটি কেবল পণ্য প্রদর্শনীতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা দেশীয় কসমেটিকস শিল্পের অমিত সম্ভাবনাকে দর্শনার্থীদের সামনে সফলভাবে তুলে ধরেছে। মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান, দর্শনার্থী, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতেই রিমার্ককে এই বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এই অর্জনকে দেশের কসমেটিকস খাতের জন্য এক বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন রিমার্কের পরিচালক (ফার্মা) সুকান্ত দাশ। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের ১৬টি দেশের ৫৮টি খ্যাতনামা কোম্পানির মধ্যে রিমার্কের সেরা হওয়া দেশীয় উৎপাদকদের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। বাজারে নকল ও ভেজালের ভিড়ে ভোক্তাদের কাছে খাঁটি ও মানসম্মত পণ্য পৌঁছে দিতে রিমার্ক কাজ করে যাচ্ছে। এই স্বীকৃতি তাদের ওপর দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েই এমন বড় স্বীকৃতি পাওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন রিমার্কের সিনিয়র অপারেティブ ডিরেক্টর মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, এই অর্জন তাদের কাজের গতি ও অনুপ্রেরণা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তি ও নতুন নতুন পণ্য নিয়ে আসার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। একই সুর মিলিয়ে হারল্যানের হেড অব মার্কেটিং হাবিবুল্লাহ হাবিব বলেন, রিমার্কের উৎপাদিত পণ্য শুধু দেশের বাজারে নয়, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। এই অর্জন তাদের আগামী দিনের পথচলাকে আরও সহজ করবে।
রিমার্কের এই অনন্য সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব স্কিন কেয়ার অ্যান্ড বিউটি প্রোডাক্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অব বাংলাদেশ (এএসবিএমইবি)। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন বলেন, দেশের কসমেটিকস ও পার্সোনাল কেয়ার খাতে আন্তর্জাতিক মানের পণ্য উৎপাদনে রিমার্কের অবদান অনস্বীকার্য। রিমার্কের হাত ধরে বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতে কসমেটিকস খাতে আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে একটি বড় রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর শেষ দিনেও রিমার্কের প্যাভিলিয়নে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে মডেল ও অভিনেত্রী নাজিফা তুষি, শার্লিন ফারজানা এবং শবনম ফারিয়াসহ জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সারদের উপস্থিতি প্যাভিলিয়নে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে। তারকারা রিমার্কের পণ্যের গুণগত মানের প্রশংসা করেন এবং সাধারণ মানুষকে আসল ও নকল পণ্য চেনার বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া দর্শনার্থীদের জন্য আয়োজিত বিশেষ ‘স্পিন অ্যান্ড উইন’ কার্যক্রম মেলায় আগতদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
প্রদর্শনীর সমাপনী দিনে নতুন উদ্যোক্তাদের মাঝে রিমার্কের বিশ্বমানের প্যাকেজিং, প্রিন্টিং ও ইনগ্রেডিয়েন্টস সক্ষমতা নিয়ে তুমুল আগ্রহ দেখা গেছে। রিমার্কের হেড অব প্যাকেজিং মো. আলী রেজা জানান, মেলা চলাকালীন সময়ে তারা প্রিন্টিং, প্যাকেজিং ও করপোরেট সেলস খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাণিজ্যিক অর্ডার লাভ করেছেন। দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতা ও বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরাও রিমার্কের সক্ষমতা নিয়ে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছেন, যা নতুন ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের পথ সুগম করেছে।
রিমার্ক সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বমানের ফর্মুলেশন, উন্নত গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি), আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি এবং কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে তাদের উৎপাদিত কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার পণ্য বর্তমানে থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র এবং ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশে নিয়মিত রপ্তানি হচ্ছে। মানসম্মত উৎপাদন ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে আইএসও, সিজিএমপি, বিএসটিআই হালাল সার্টিফিকেশন এবং মর্যাদাপূর্ণ গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে।



























