ঢাকা ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলোতে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ কাতারের চাঁদা না পেয়ে ওএমএস ডিলারের টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে পশ্চিমতীরে ঘুমন্ত ফিলিস্তিনি পরিবারকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ কারিগরি ত্রুটিতে স্থবির বাংলাদেশের অনলাইন ভিসা আবেদন কার্যক্রম দেশের বাজারে কমল সোনার দাম, নতুন দর কার্যকর চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়িতে বিকট শব্দে ১৫-২০টি ককটেল বিস্ফোরণ কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে মাদক খাইয়ে গণধর্ষণ: নতুন ফৌজদারি তদন্ত যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদা আলোচনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র প্যারিসের র‍্যাম্পে ঐশ্বরিয়ার গ্ল্যামারাস উপস্থিতি ও মুগ্ধতা ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন মোড়: আলোচনায় ‘রিসেট’ ও প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর

কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে মাদক খাইয়ে গণধর্ষণ: নতুন ফৌজদারি তদন্ত

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:২৭:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে ২০২৪ সালে এক ছাত্রীকে মাদক খাইয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগে নতুন করে ফৌজদারি তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন নিউ ইয়র্কের প্রসিকিউটররা। গত ১৬ই সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা দায়ের করার পর বিষয়টি নতুন মোড় নেয়। টম্পকিন্স কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন সোমবার জানান, অভিযোগ গঠনের পর একটি গ্র্যান্ড জুরির মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে মামলাটি পরিচালনা করা হবে।

আদালতের নথিতে ‘জেন ডো’ ছদ্মনামে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৯শে অক্টোবর কর্নেল ইউনিভার্সিটির কাই ফাই ফ্র্যাটার্নিটির একটি বাড়িতে তাকে চেতনানাশক কেটামিন ও অ্যালকোহল খাইয়ে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় অন্তত সাতজন মিলে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ করে। ভুক্তভোগীর দাবি, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সম্মতি দেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে তিনি ছিলেন না। মামলায় একটি স্ন্যাপচ্যাট গ্রুপের কথোপকথনের স্ক্রিনশটও যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে এক সদস্য অন্য সদস্যদের অশালীন ভাষায় যৌন সংসর্গের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। প্রসিকিউটরের দাবি অনুযায়ী, তৎকালীন সময়ে পুলিশকে জানানোর পরও উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি। ভ্যান হাউটেন স্বীকার করেন, যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের মানসিক ট্রমা কাটিয়ে বাস্তব চিত্র বুঝতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে ভুক্তভোগীর আইনজীবী টমাস জিউফ্রা প্রসিকিউশনের বিরুদ্ধে ব্যর্থতা ঢাকার অভিযোগ এনেছেন। তিনি জানান, তীব্র ট্রমার কারণে ছাত্রীটি স্বাভাবিক ছিলেন না এবং পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত ছাড়াই মামলাটি চাপা দিয়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও ভুক্তভোগীর অভিযোগ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি দেয়নি, বরং তাদের কেবল রচনা লেখার সুযোগ দিয়ে ছাড় দিয়েছিল। তবে কর্নেল ইউনিভার্সিটি এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, তদন্তের ভিত্তিতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল এবং ওই ফ্র্যাটার্নিটি ক্লাবকে ক্যাম্পাসে এখনো নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে।

এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। অভিনেত্রী ফ্লোরেন্স পিউ এবং মার্কিন আইনপ্রণেতা আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-করতেজসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা অনুযায়ী, কর্নেল ইউনিভার্সিটির স্নাতক পর্যায়ের প্রায় ৩৫ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে যৌন হয়রানি বা নিপীড়নের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন, যা সেখানে যৌন সহিংসতার গভীর সংকটকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে মাদক খাইয়ে গণধর্ষণ: নতুন ফৌজদারি তদন্ত

আপডেট সময় : ১০:২৭:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে ২০২৪ সালে এক ছাত্রীকে মাদক খাইয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগে নতুন করে ফৌজদারি তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন নিউ ইয়র্কের প্রসিকিউটররা। গত ১৬ই সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা দায়ের করার পর বিষয়টি নতুন মোড় নেয়। টম্পকিন্স কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন সোমবার জানান, অভিযোগ গঠনের পর একটি গ্র্যান্ড জুরির মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে মামলাটি পরিচালনা করা হবে।

আদালতের নথিতে ‘জেন ডো’ ছদ্মনামে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৯শে অক্টোবর কর্নেল ইউনিভার্সিটির কাই ফাই ফ্র্যাটার্নিটির একটি বাড়িতে তাকে চেতনানাশক কেটামিন ও অ্যালকোহল খাইয়ে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় অন্তত সাতজন মিলে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ করে। ভুক্তভোগীর দাবি, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সম্মতি দেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে তিনি ছিলেন না। মামলায় একটি স্ন্যাপচ্যাট গ্রুপের কথোপকথনের স্ক্রিনশটও যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে এক সদস্য অন্য সদস্যদের অশালীন ভাষায় যৌন সংসর্গের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। প্রসিকিউটরের দাবি অনুযায়ী, তৎকালীন সময়ে পুলিশকে জানানোর পরও উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি। ভ্যান হাউটেন স্বীকার করেন, যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের মানসিক ট্রমা কাটিয়ে বাস্তব চিত্র বুঝতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে ভুক্তভোগীর আইনজীবী টমাস জিউফ্রা প্রসিকিউশনের বিরুদ্ধে ব্যর্থতা ঢাকার অভিযোগ এনেছেন। তিনি জানান, তীব্র ট্রমার কারণে ছাত্রীটি স্বাভাবিক ছিলেন না এবং পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত ছাড়াই মামলাটি চাপা দিয়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও ভুক্তভোগীর অভিযোগ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি দেয়নি, বরং তাদের কেবল রচনা লেখার সুযোগ দিয়ে ছাড় দিয়েছিল। তবে কর্নেল ইউনিভার্সিটি এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, তদন্তের ভিত্তিতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল এবং ওই ফ্র্যাটার্নিটি ক্লাবকে ক্যাম্পাসে এখনো নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে।

এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। অভিনেত্রী ফ্লোরেন্স পিউ এবং মার্কিন আইনপ্রণেতা আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-করতেজসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা অনুযায়ী, কর্নেল ইউনিভার্সিটির স্নাতক পর্যায়ের প্রায় ৩৫ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে যৌন হয়রানি বা নিপীড়নের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন, যা সেখানে যৌন সহিংসতার গভীর সংকটকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin