ঢাকা ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আইএমএফের নতুন ঋণ পেতে যেসব শর্ত পূরণ করতে হবে বাংলাদেশকে চুল টেনে ৪ ম্যাচ নিষিদ্ধ ভিনিসিয়ুস, খেলা হবে না এল ক্লাসিকো শারদীয় দুর্গাপূজায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১০ দিনের ছুটি শুরু আজ ছোট পর্দায় বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল উপসাগরীয় অবকাঠামোয় ইরানের নির্ভুল হামলা: বিপর্যস্ত জ্বালানি ও বিশ্ব অর্থনীতি বাংলামটরে এনসিপির কার্যালয়ের সামনে ককটেল নিক্ষেপ উপনিবেশোত্তর পাকিস্তান আমলে বাঙালি ও বাংলা ভাষার প্রতি বৈষম্য গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স: ক্ষুধা কমানোর গতি কমে বাংলাদেশ ৮৪তম বন্দর লিজের আগে জনগণের মতামত নেওয়ার দাবি সাইফুল হকের পরিবেশ রক্ষায় কর্মকর্তাদের বাড়তি দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মুজিববর্ষের বিপুল অপচয়ের বিপরীতে নজরুলবর্ষকে অর্থবহ করার আহ্বান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে 'মুজিববর্ষ' পালনের নামে বিপুল অর্থ অপচয় এবং দলীয় তোষামোদের বিপরীতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত 'নজরুলবর্ষ'কে একটি অর্থবহ ও স্থায়ী জাতীয় কর্মসূচিতে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিগত সরকারের অতি-উৎসাহী কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে এই দুই বর্ষ উদযাপনের উদ্দেশ্য ও তাৎপর্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায়।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকার তাদের নেতাকে অতিমানবীয় স্তরে উন্নীত করতে ২০২০ সালে 'মুজিববর্ষ' ও বিশেষ 'মুজিব পঞ্জিকা'র প্রস্তাব করেছিল। এই পঞ্জিকার ১২টি মাসের নামকরণ করা হয়েছিল— স্বাধীনতা, শপথ, বেতারযুদ্ধ, যুদ্ধ, শোক, কৌশলযুদ্ধ, আকাশযুদ্ধ, জেলহত্যা, বিজয়, ফিরে আসা, নবযাত্রা ও ভাষা। পঞ্জিকা অনুযায়ী ১৭ মার্চ থেকে স্বাধীনতা মাস শুরু হওয়ার কথা ছিল। সমালোচকরা মনে করেন, কোভিড-১৯ মহামারির ধাক্কা না এলে এই পঞ্জিকা জোরপূর্বক চাপিয়ে দিয়ে বাংলা সনের ঐতিহ্যবাহী মাসগুলোর নাম ভুলিয়ে দেওয়ার এক অপচেষ্টা চালানো হতো।

মুজিববর্ষকে কেন্দ্র করে সে সময় তোষামোদের এক নজিরবিহীন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। আকাশ থেকে মুজিবের আত্মা নামানোর মতো অবৈজ্ঞানিক দাবি থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি রেলস্টেশনে মূর্তি স্থাপন এবং প্রতি ১০০ মিটার পরপর মূর্তি বসানোর মতো পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছিল। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসার কথা থাকলেও করোনার কারণে তা স্থগিত হয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ২৬-২৭ মার্চ তিনি বাংলাদেশ সফর করেন, যা মুজিববর্ষ, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত হয়েছিল।

সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু জানিয়েছেন, মুজিববর্ষ উদযাপনে ৯৮২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, করোনা পরিস্থিতি না থাকলে এই ব্যয় পাঁচ গুণ বেড়ে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকায় ঠেকত। এই বিপুল খরচের বিরোধিতা করলেই তাদের 'রাজাকারের শাবক' আখ্যা দিয়ে হেনস্তা করার হুমকি দেওয়া হতো। এছাড়া করোনা মহামারিকে অনেকে এক ধরনের ঐশ্বরিক আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন, যা দেশকে মূর্তির বন্যায় ভেসে যাওয়া থেকে রক্ষা করেছে এবং তৎকালীন সরকারের কয়েকজন প্রভাবশালী ও বিতর্কিত ব্যক্তির দাপটের অবসান ঘটিয়েছে।

এর বিপরীতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০২৬ সালের মে থেকে ২০২৭ সালের মে পর্যন্ত সময়কে 'নজরুল বর্ষ' হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তবে এই আয়োজন যেন কেবল কবির জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন, ফুল দেওয়া বা গতানুগতিক আলোচনা সভার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। নজরুলকে সত্যিকার অর্থে ধারণ করতে হলে তার সাহিত্য, সংগীত, সাংবাদিকতা ও সাম্যবাদী চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এজন্য नजরুলের পূর্ণাঙ্গ জীবনী রচনা এবং একটি জাতীয় ডিজিটাল আর্কাইভ গড়ে তোলা জরুরি।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তারেক রহমানকে 'আমাদের নজরুল' বলে অভিহিত করায় নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে একে বিগত সংসদের তোষামোদি সংস্কৃতির সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে কবি নজরুল ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তুলনা বেখাপ্পা হলেও তাদের মধ্যে একটি আদেশিক ও আত্মিক মেলবন্ধন রয়েছে। ১৯২৬ সালের দিকে ঢাকা বিভাগের মুসলমান কেন্দ্র থেকে ভারতীয় ব্যবস্থাপক সভার সদস্য হতে কবি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন। তখন ঢাকা বিভাগ থেকে কেন্দ্রীয় আইন সভায় মুসলমানদের জন্য দুটি আসন সংরক্ষিত ছিল এবং মোট ১৮ হাজার ১১৬ জন ভোটার ছিলেন, যেখানে প্রত্যেক ভোটার দুটি করে ভোট দিতে পারতেন। ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও স্বরাজ দলের পাণ্ডারা পিছুটান দেওয়ায় এবং প্রতিশ্রুত অর্থ না পাওয়ায় নির্বাচনে কবির জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। নজরুল যে শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, আজ তারেক রহমানের সামনে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ এসেছে।

কবি নজরুলের প্রতি এই আত্মিক টানের উত্তরাধিকার তারেক রহমান তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে পেয়েছেন। জিয়াউর রহমানই কবির শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে সমাহিত করেছিলেন। এই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালে গিয়ে ১২৭তম থেকে ১২৮তম জন্মবার্ষিকীর মধ্যবর্তী সময়কে নজরুলবর্ষ ঘোষণা করেছেন এবং ত্রিশালকে লন্ডনের কেমব্রিজ বা অক্সফোর্ডের আদলে একটি জ্ঞানভিত্তিক 'নজরুল সিটি' হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন।

সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া নজরুলের কাঙ্ক্ষিত 'উৎপীড়িতের ক্রন্দনরোল' থামানো সম্ভব নয়। বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার দুর্নীতি ও অনিয়ম রাতারাতি দূর করা কঠিন, কারণ শাসন ব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখনও পুরোনো দোসররা রয়ে গেছে। তারেক রহমানের সাফল্য নির্ভর করবে কত দ্রুত তিনি এই অপশক্তিকে চিহ্নিত করতে পারেন। একই সঙ্গে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক রূপ তুলে ধরার পাশাপাশি তার প্রতিবাদী সত্তা ও প্রবন্ধ সাহিত্যকে জনগণের সামনে আনা প্রয়োজন, যা দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশেষ মহলের স্বার্থে আড়াল করে রাখা হয়েছিল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

মুজিববর্ষের বিপুল অপচয়ের বিপরীতে নজরুলবর্ষকে অর্থবহ করার আহ্বান

আপডেট সময় : ০৯:০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে 'মুজিববর্ষ' পালনের নামে বিপুল অর্থ অপচয় এবং দলীয় তোষামোদের বিপরীতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত 'নজরুলবর্ষ'কে একটি অর্থবহ ও স্থায়ী জাতীয় কর্মসূচিতে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিগত সরকারের অতি-উৎসাহী কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে এই দুই বর্ষ উদযাপনের উদ্দেশ্য ও তাৎপর্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায়।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকার তাদের নেতাকে অতিমানবীয় স্তরে উন্নীত করতে ২০২০ সালে 'মুজিববর্ষ' ও বিশেষ 'মুজিব পঞ্জিকা'র প্রস্তাব করেছিল। এই পঞ্জিকার ১২টি মাসের নামকরণ করা হয়েছিল— স্বাধীনতা, শপথ, বেতারযুদ্ধ, যুদ্ধ, শোক, কৌশলযুদ্ধ, আকাশযুদ্ধ, জেলহত্যা, বিজয়, ফিরে আসা, নবযাত্রা ও ভাষা। পঞ্জিকা অনুযায়ী ১৭ মার্চ থেকে স্বাধীনতা মাস শুরু হওয়ার কথা ছিল। সমালোচকরা মনে করেন, কোভিড-১৯ মহামারির ধাক্কা না এলে এই পঞ্জিকা জোরপূর্বক চাপিয়ে দিয়ে বাংলা সনের ঐতিহ্যবাহী মাসগুলোর নাম ভুলিয়ে দেওয়ার এক অপচেষ্টা চালানো হতো।

মুজিববর্ষকে কেন্দ্র করে সে সময় তোষামোদের এক নজিরবিহীন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। আকাশ থেকে মুজিবের আত্মা নামানোর মতো অবৈজ্ঞানিক দাবি থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি রেলস্টেশনে মূর্তি স্থাপন এবং প্রতি ১০০ মিটার পরপর মূর্তি বসানোর মতো পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছিল। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসার কথা থাকলেও করোনার কারণে তা স্থগিত হয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ২৬-২৭ মার্চ তিনি বাংলাদেশ সফর করেন, যা মুজিববর্ষ, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত হয়েছিল।

সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু জানিয়েছেন, মুজিববর্ষ উদযাপনে ৯৮২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, করোনা পরিস্থিতি না থাকলে এই ব্যয় পাঁচ গুণ বেড়ে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকায় ঠেকত। এই বিপুল খরচের বিরোধিতা করলেই তাদের 'রাজাকারের শাবক' আখ্যা দিয়ে হেনস্তা করার হুমকি দেওয়া হতো। এছাড়া করোনা মহামারিকে অনেকে এক ধরনের ঐশ্বরিক আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন, যা দেশকে মূর্তির বন্যায় ভেসে যাওয়া থেকে রক্ষা করেছে এবং তৎকালীন সরকারের কয়েকজন প্রভাবশালী ও বিতর্কিত ব্যক্তির দাপটের অবসান ঘটিয়েছে।

এর বিপরীতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০২৬ সালের মে থেকে ২০২৭ সালের মে পর্যন্ত সময়কে 'নজরুল বর্ষ' হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তবে এই আয়োজন যেন কেবল কবির জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন, ফুল দেওয়া বা গতানুগতিক আলোচনা সভার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। নজরুলকে সত্যিকার অর্থে ধারণ করতে হলে তার সাহিত্য, সংগীত, সাংবাদিকতা ও সাম্যবাদী চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এজন্য नजরুলের পূর্ণাঙ্গ জীবনী রচনা এবং একটি জাতীয় ডিজিটাল আর্কাইভ গড়ে তোলা জরুরি।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তারেক রহমানকে 'আমাদের নজরুল' বলে অভিহিত করায় নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে একে বিগত সংসদের তোষামোদি সংস্কৃতির সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে কবি নজরুল ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তুলনা বেখাপ্পা হলেও তাদের মধ্যে একটি আদেশিক ও আত্মিক মেলবন্ধন রয়েছে। ১৯২৬ সালের দিকে ঢাকা বিভাগের মুসলমান কেন্দ্র থেকে ভারতীয় ব্যবস্থাপক সভার সদস্য হতে কবি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন। তখন ঢাকা বিভাগ থেকে কেন্দ্রীয় আইন সভায় মুসলমানদের জন্য দুটি আসন সংরক্ষিত ছিল এবং মোট ১৮ হাজার ১১৬ জন ভোটার ছিলেন, যেখানে প্রত্যেক ভোটার দুটি করে ভোট দিতে পারতেন। ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও স্বরাজ দলের পাণ্ডারা পিছুটান দেওয়ায় এবং প্রতিশ্রুত অর্থ না পাওয়ায় নির্বাচনে কবির জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। নজরুল যে শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, আজ তারেক রহমানের সামনে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ এসেছে।

কবি নজরুলের প্রতি এই আত্মিক টানের উত্তরাধিকার তারেক রহমান তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে পেয়েছেন। জিয়াউর রহমানই কবির শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে সমাহিত করেছিলেন। এই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালে গিয়ে ১২৭তম থেকে ১২৮তম জন্মবার্ষিকীর মধ্যবর্তী সময়কে নজরুলবর্ষ ঘোষণা করেছেন এবং ত্রিশালকে লন্ডনের কেমব্রিজ বা অক্সফোর্ডের আদলে একটি জ্ঞানভিত্তিক 'নজরুল সিটি' হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন।

সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া নজরুলের কাঙ্ক্ষিত 'উৎপীড়িতের ক্রন্দনরোল' থামানো সম্ভব নয়। বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার দুর্নীতি ও অনিয়ম রাতারাতি দূর করা কঠিন, কারণ শাসন ব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখনও পুরোনো দোসররা রয়ে গেছে। তারেক রহমানের সাফল্য নির্ভর করবে কত দ্রুত তিনি এই অপশক্তিকে চিহ্নিত করতে পারেন। একই সঙ্গে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক রূপ তুলে ধরার পাশাপাশি তার প্রতিবাদী সত্তা ও প্রবন্ধ সাহিত্যকে জনগণের সামনে আনা প্রয়োজন, যা দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশেষ মহলের স্বার্থে আড়াল করে রাখা হয়েছিল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh