আইএমএফের নতুন ঋণ পেতে যেসব শর্ত পূরণ করতে হবে বাংলাদেশকে
- আপডেট সময় : ০৭:৫৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের জন্য প্রস্তাবিত ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি ডলারের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতের সংস্কার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মতে, বাংলাদেশের রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বর্তমানে প্রায় ৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা বিশ্বের সর্বনিম্ন পর্যায়ের অন্যতম। সংস্থাটির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর সোনালী জৈন-চন্দ্র জানিয়েছেন, আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনায় রাজস্ব আহরণ বাড়ানো অপরিহার্য।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভায় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন ঋণের আলোচনায় বেশ কিছু শর্ত রয়েছে এবং সেগুলো পূরণের বিষয়ে বাংলাদেশ কাজ করছে। মূলত রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, ব্যাংক খাতের সংস্কার, আর্থিক সুশাসন নিশ্চিত করা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা এবং জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানোর ওপর জোর দিচ্ছে সংস্থাটি। আইএমএফের সব শর্ত একই সময়ে পূরণ করতে হয় না; কিছু শর্ত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এবং কিছু ক্ষেত্রে পরিমাণগত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়।
রাজস্ব খাতের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো, শুল্ক ও কর ছাড় কমিয়ে আনা, ভ্যাট আহরণ জোরদার করা এবং আয়কর আদায় বৃদ্ধি। এ ছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে রাজস্ব প্রশাসনকে পৃথক করার বিষয়টিও শর্তের অন্তর্ভুক্ত। ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও খেলাপি ঋণ কমাতে রাষ্ট্রীয় ও বড় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সম্পদ মূল্যায়ন এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠনের কৌশল বাস্তবায়নের নির্দেশনা রয়েছে।
বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল করতে বিনিময় হারকে ক্রলিং পেগ পদ্ধতির মাধ্যমে ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ বাজারভিত্তিক করার শর্ত দেয়া হয়েছে। বাজেট ঘাটতি কমাতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমিয়ে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তেল ও গ্যাসের দাম নিয়মিত সমন্বয় করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনি ক্ষমতা ও স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধি, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে নজরদারি, মুদ্রানীতি কঠোর রাখা এবং সুদের হার বাজারভিত্তিক করার পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, বাংলাদেশের নিজস্ব অগ্রাধিকার ও সংস্কার কৌশল অনুযায়ী সহায়তা দিতে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক সংস্থা সম্মত হয়েছে। তিনি জানান, আইএমএফের প্রতিবেদনে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪.৭ শতাংশ উল্লেখ করা হলেও সরকার বাজেটে ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে আশাবাদী। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং শর্তগুলোর বিষয়ে দুই পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো হবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সাময়িকভাবে চ্যালেঞ্জিং মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক কাঠামো শক্তিশালী করতে এই সংস্কারগুলো জরুরি।



























