২০২৭ সালের মধ্যে জাপানকে টপকে চতুর্থ অর্থনীতি হচ্ছে ভারত
- আপডেট সময় : ১০:৫৩:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে জাপানকে পেছনে ফেলে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হতে যাচ্ছে ভারত। ওই সময় দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বেড়ে ৪ লাখ ৫২ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিষয়ক এক প্রতিবেদনে আইএমএফ এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছর নামমাত্র জিডিপির হিসাবে জাপান বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির স্থান ধরে রাখলেও ২০২৭ সাল নাগাদ দেশটি ভারত ও ব্রিটেনের পেছনে পড়ে ষষ্ঠ স্থানে নেমে যাবে। বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ তিন অর্থনীতির দেশ হলো যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জার্মানি। বৈশ্বিক নানা অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও ভারত শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রেখেছে। এরই ভিত্তিতে চলতি সপ্তাহে ২০২৬ সালে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করেছে আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাটি।
আইএমএফের এশিয়া বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন প্রতিবেদন প্রকাশকালে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী সংঘাতের ফলে জ্বালানি তেলের বাজারে যে ধাক্কা এসেছে, তা মোকাবিলায় ভারত বেশ শক্ত অবস্থানে ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, শক্তিশালী মৌলিক অর্থনৈতিক ভিত্তি, রাজস্ব খাতের শৃঙ্খলা এবং পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে ভারত এই সংকটকালে প্রবেশ করায় তারা পরিস্থিতির সঙ্গে ভালোভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পেরেছে।
অন্যদিকে, জাপানের অর্থনীতি বয়স্ক জনসংখ্যার বৃদ্ধি ও দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যার কারণে কার্যত স্থবিরতার মুখে রয়েছে। আইএমএফের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে জাপানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ০.৭ শতাংশে নেমে আসতে পারে। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে মূল্যহ্রাসের (ডিফ্লেশন) সমস্যা থাকলেও ২০২২ সালের বসন্ত থেকে পণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সম্প্রতি জ্বালানির চড়া মূল্য ও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিজনিত চাপের কারণে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক 'ব্যাংক অব জাপান' সুদের হার বাড়িয়ে গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
জাপানি মুদ্রা ইয়েনের মান গত গ্রীষ্মে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় দেশটির আমদানি ব্যয় মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিনিয়োগের বৃদ্ধি জাপানের অর্থনীতিতে কিছুটা গতি আনলেও এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় তা কম। এদিকে, এআই খাতে প্রত্যাশিত মুনাফা পাওয়া নিয়ে সংশয়ের জেরে বৃহস্পতিবার টোকিওর শেয়ারবাজারে বড় পতন ঘটে। প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের দরপতনের কারণে জাপানের প্রধান শেয়ারসূচক নিক্কেই প্রায় ৫ শতাংশ কমে গেছে।




























