ঢাকা ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মহাসপ্তমীতে সারা দেশে শারদীয় দুর্গাপূজার উৎসবমুখর আনুষ্ঠানিকতা জ্বালানি ভর্তুকি ও সংস্কারের কঠিন চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ, আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা জিম্বাবুয়ে ম্যাচের আগে অতীত ভুলে লিটনের বার্তা, আলিসের অভিষেকের ইঙ্গিত সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: কারণ জানতে চেয়ে সৌ‌দিকে চি‌ঠি সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক ব্যবসার বিরোধে সাহেব আলী হত্যা, শুটার রনি গ্রেপ্তার যুদ্ধবিরতির পর গাজায় ৩৪০ শিশুকে হত্যা করেছে ইসরাইল: ইউনিসেফ হরমুজ প্রণালিতে মাইনের সঙ্গে ধাক্কা, তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ দেশে প্রয়োজনীয় সব টিকা পাওয়া শিশুর হার কমেছে, প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত গলছে ডুমসডে গ্লেসিয়ার, বাড়ছে বন্যার ঝুঁকি গাজীপুরে আকিজ রিসোর্সের ইনোভারের ‘সাফল্যের যাত্রা’ বিজনেস মিটআপ

প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত গলছে ডুমসডে গ্লেসিয়ার, বাড়ছে বন্যার ঝুঁকি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:২৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অ্যান্টার্কটিকার থোয়াইটস হিমবাহ, যা বিশ্বব্যাপী 'ডুমসডে গ্লেসিয়ার' হিসেবে পরিচিত, বিজ্ঞানীদের আগের সব ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে দ্রুত গলতে শুরু করেছে। নেচার কমিউনিকেশন্স সাময়িকীতে সোমবার প্রকাশিত এক নতুন গবেষণায় এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, এই হিমবাহের গলন চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হারকে আগের হিসাবের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ করে দিতে পারে।

নতুন গাণিতিক মডেল অনুযায়ী, শুধুমাত্র থোয়াইটস হিমবাহ গলে ২১০০ সাল নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ দশমিক ২ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকায় অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে প্রশস্ত এই হিমবাহটি কয়েক দশক ধরেই গলছে এবং পেছাচ্ছে। বর্তমানে বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে এর গলনের অবদান প্রায় ৪ শতাংশ। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, হিমবাহটি পুরোপুরি ধসে পড়লে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দুই ফুটেরও বেশি বেড়ে যেতে পারে।

থোয়াইটস হিমবাহের গুরুত্ব কেবল এর বরফের আয়তনে সীমাবদ্ধ নয়। এটি অ্যান্টার্কটিকার বিশাল বরফস্তরকে ধরে রাখার একটি দেয়াল হিসেবে কাজ করে। এই হিমবাহটি ভেঙে পড়লে এর পেছনে থাকা বরফ দ্রুত সমুদ্রে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী এই প্রক্রিয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ১০ ফুট পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি থেকে ফিলিপাইনের ম্যানিলা পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলীয় জনপদগুলোকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দেবে।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, আরভাইন এবং নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির গবেষকরা হিমবাহের নিচে সমুদ্রের পানির চলাচল এবং বরফ গলার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে এই নতুন মডেলটি তৈরি করেছেন। উপগ্রহের তথ্যে দেখা গেছে, হিমবাহের গ্রাউন্ডিং লাইনের নিচে অনেক মাইল এলাকা জুড়ে জোয়ার-ভাটার সময় উষ্ণ সমুদ্রের পানি প্রবেশ করে, যা বরফস্তরকে ভাসমান রাখে এবং দ্রুত গলতে বাধ্য করে। এছাড়া হিমবাহের নিচের ভূমি সমুদ্রের দিকে ঢালু হওয়ায় উষ্ণ পানির সংস্পর্শে বরফ গলার গতি ক্রমাগত বাড়ছে।

গবেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ থোয়াইটস হিমবাহের মুজিনো রিজ নামের শৈলশিরা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ৬০ শতাংশ। এর ফলে হিমবাহটি দ্রুত পেছাতে শুরু করবে। গবেষণার প্রধান লেখক অধ্যাপক এরিক রিগনো জানিয়েছেন, নতুন এই হিসাব অনুযায়ী আগামী কয়েক দশকে উপকূলীয় অঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি।

এই গবেষণার গুরুত্ব নিয়ে বিজ্ঞানী টেড স্ক্যাম্বোস মন্তব্য করেছেন যে, এটি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির পূর্বাভাসে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভের রবার্ট লার্টার মনে করেন, হিমবাহের নিচের পরিবেশ গবেষণাপত্রের চিত্রের চেয়েও জটিল হতে পারে, তাই আরও বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন। এই লক্ষ্যে বিজ্ঞানীরা ২০২৮ সালে গ্রাউন্ডিং লাইনে যন্ত্র স্থাপনের পরিকল্পনা করছেন। অধ্যাপক রিগনো আরও সতর্ক করে বলেন, দূষণ কমানো জরুরি হলেও অতীতে ঘটে যাওয়া ক্ষতির কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত গলছে ডুমসডে গ্লেসিয়ার, বাড়ছে বন্যার ঝুঁকি

আপডেট সময় : ০৯:২৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

অ্যান্টার্কটিকার থোয়াইটস হিমবাহ, যা বিশ্বব্যাপী 'ডুমসডে গ্লেসিয়ার' হিসেবে পরিচিত, বিজ্ঞানীদের আগের সব ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে দ্রুত গলতে শুরু করেছে। নেচার কমিউনিকেশন্স সাময়িকীতে সোমবার প্রকাশিত এক নতুন গবেষণায় এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, এই হিমবাহের গলন চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হারকে আগের হিসাবের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ করে দিতে পারে।

নতুন গাণিতিক মডেল অনুযায়ী, শুধুমাত্র থোয়াইটস হিমবাহ গলে ২১০০ সাল নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ দশমিক ২ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকায় অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে প্রশস্ত এই হিমবাহটি কয়েক দশক ধরেই গলছে এবং পেছাচ্ছে। বর্তমানে বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে এর গলনের অবদান প্রায় ৪ শতাংশ। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, হিমবাহটি পুরোপুরি ধসে পড়লে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দুই ফুটেরও বেশি বেড়ে যেতে পারে।

থোয়াইটস হিমবাহের গুরুত্ব কেবল এর বরফের আয়তনে সীমাবদ্ধ নয়। এটি অ্যান্টার্কটিকার বিশাল বরফস্তরকে ধরে রাখার একটি দেয়াল হিসেবে কাজ করে। এই হিমবাহটি ভেঙে পড়লে এর পেছনে থাকা বরফ দ্রুত সমুদ্রে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী এই প্রক্রিয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ১০ ফুট পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি থেকে ফিলিপাইনের ম্যানিলা পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলীয় জনপদগুলোকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দেবে।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, আরভাইন এবং নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির গবেষকরা হিমবাহের নিচে সমুদ্রের পানির চলাচল এবং বরফ গলার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে এই নতুন মডেলটি তৈরি করেছেন। উপগ্রহের তথ্যে দেখা গেছে, হিমবাহের গ্রাউন্ডিং লাইনের নিচে অনেক মাইল এলাকা জুড়ে জোয়ার-ভাটার সময় উষ্ণ সমুদ্রের পানি প্রবেশ করে, যা বরফস্তরকে ভাসমান রাখে এবং দ্রুত গলতে বাধ্য করে। এছাড়া হিমবাহের নিচের ভূমি সমুদ্রের দিকে ঢালু হওয়ায় উষ্ণ পানির সংস্পর্শে বরফ গলার গতি ক্রমাগত বাড়ছে।

গবেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ থোয়াইটস হিমবাহের মুজিনো রিজ নামের শৈলশিরা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ৬০ শতাংশ। এর ফলে হিমবাহটি দ্রুত পেছাতে শুরু করবে। গবেষণার প্রধান লেখক অধ্যাপক এরিক রিগনো জানিয়েছেন, নতুন এই হিসাব অনুযায়ী আগামী কয়েক দশকে উপকূলীয় অঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি।

এই গবেষণার গুরুত্ব নিয়ে বিজ্ঞানী টেড স্ক্যাম্বোস মন্তব্য করেছেন যে, এটি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির পূর্বাভাসে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভের রবার্ট লার্টার মনে করেন, হিমবাহের নিচের পরিবেশ গবেষণাপত্রের চিত্রের চেয়েও জটিল হতে পারে, তাই আরও বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন। এই লক্ষ্যে বিজ্ঞানীরা ২০২৮ সালে গ্রাউন্ডিং লাইনে যন্ত্র স্থাপনের পরিকল্পনা করছেন। অধ্যাপক রিগনো আরও সতর্ক করে বলেন, দূষণ কমানো জরুরি হলেও অতীতে ঘটে যাওয়া ক্ষতির কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh