ঢাকা ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শরীয়তপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, ১৫ জেলে আটক অভিনেত্রী নাসিমা খান আর নেই: ‘বড় বোনকে হারালাম’ সুচন্দা সৌদিতে মৃত হানিফের মরদেহ ফেরাতে মায়ের আকুতি: ‘মোর মানিকেরে কোলে দাও’ সাবেক সেনাপ্রধান আজিজের সঙ্গে যোগাযোগ, ৪ দিনের রিমান্ডে দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তা ডেঙ্গুতে ৩০০ মৃত্যু: প্রশাসনিক ব্যর্থতা নাকি সুশাসনের ঘাটতি, প্রশ্ন আইনজীবীর সুনামগঞ্জে এমপির ডিও লেটারে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ সৌদি আরব কেন হুতিদের সামরিকভাবে পরাজিত করতে পারছে না মক্কা-মদিনার নিরাপত্তায় হুমকি এলে বাংলাদেশ পাশে থাকবে: শামা ওবায়েদ শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে দেশজুড়ে প্রস্তুতি সভা ১২৩ বছর বয়সে না ফেরার দেশে নাটোরের আব্বাস প্রামানিক

ইসলামি ইতিহাস সংরক্ষণের বিবর্তন ও পর্যায়ক্রমিক ধারা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৬:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ইসলামে ইতিহাসচর্চার যাত্রা শুরু হয়েছিল নবী করিম (সা.)-এর জীবনচরিত ও তাঁর যুদ্ধাভিযান অর্থাৎ গাজওয়া ও সিরাহ অধ্যয়নের মধ্য দিয়ে। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এসব আলোচনা করতেন এবং তাঁদের সন্তানদেরও এতে উৎসাহ দিতেন। পরবর্তীতে সাহাবা, তাবেয়িন ও তাবে-তাবেয়িনরা হাদিসের সনদ সংরক্ষণে বিচ্যুতি রোধের লক্ষ্যে ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ লিপিবদ্ধ করায় মনোযোগী হন। সেই সঙ্গে ইসলামপূর্ব যুগের ঘটনাবলি, বংশগতি এবং পূর্বসূরিদের ইতিহাস সংরক্ষণেও তাঁরা আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

সূচনালগ্নে ইসলামি ইতিহাসচর্চা হাদিসশাস্ত্রের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল এবং হাদিস বিশারদরাই ছিলেন ইতিহাস গবেষণার পথিকৃৎ। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন খলিফা উসমান (রা.)-এর ছেলে আবান ইবনে ওসমান ইবনে আফফান (রা.) এবং উম্মুল মুমিনীন আসমা (রা.)-এর ছেলে উরওয়া ইবনে জুবায়ের (রা.)। ইসলামি ইতিহাস বহু ধাপ ও ঘাত-প্রতিঘাত অতিক্রম করে আজকের অবস্থানে এসেছে।

প্রথম পর্যায়ে ইতিহাসচর্চা ছিল সত্যতা ও পূর্ণ স্বাধীনতার যুগ। তখন ঐতিহাসিকরা ধর্মীয় পক্ষপাত, রাজনৈতিক প্রভাব বা গোষ্ঠীগত মোহ থেকে মুক্ত থেকে নিরপেক্ষভাবে ঘটনাবলি লিপিবদ্ধ করতেন। প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনার পাশাপাশি জনশ্রুতির ওপর নির্ভর করলেও সত্যবিচ্যুতি ঘটত না, কারণ তাঁরা কোনো কিছু যোগ বা বাদ না দিয়ে যা পেয়েছেন তা-ই বিশ্বস্তভাবে তুলে ধরতেন। এই পর্যায়ের ইতিহাসচর্চা ছিল নিরপেক্ষতা ও সত্যনিষ্ঠতার দিক থেকে অনন্য।

দ্বিতীয় পর্যায়ে ইতিহাসচর্চা অনেকটা গল্পনির্ভর হয়ে পড়ে, যা ঐতিহাসিক বিশ্লেষণকে জটিল ও বিভ্রান্তিকর করে তোলে। এই সময়ে তাফসিরকারকরা কোরআনের ব্যাখ্যার প্রয়োজনে বিভিন্ন কাহিনি সংবলিত বর্ণনার দিকে ঝুঁকে পড়েন। যখন তাঁরা কোরআনে এসব বর্ণনার বিস্তারিত বিবরণ খুঁজে পেতেন না, তখন ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের ধর্মগ্রন্থ, পারস্য ও গ্রিক লোককথা এবং নব-মুসলিমদের প্রচলিত বর্ণনার দিকে ঝুঁকে পড়তেন। বিশেষ করে ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তাদের মাধ্যমেই এসব উপকথা ও কল্পকাহিনি ইসলামি বইপত্রে প্রবেশ করে, যা 'ইসরায়েলিয়াত' নামে পরিচিত। এই যুগের ঐতিহাসিকরা ইতিহাসের অন্তর্নিহিত সত্য বা মূল বক্তব্য বিশ্লেষণের চেয়ে বরং তথ্য সংগ্রহ এবং সেগুলোর সনদ যাচাইয়ের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতেন। ফলে ইতিহাস তখন একটি তথ্যভিত্তিক দলিল রচনার কাজ হয়ে দাঁড়ায়, যার মধ্যে গভীর বিশ্লেষণ বা পাঠ্য সমালোচনার অভাব ছিল চোখে পড়ার মতো।

তৃতীয় পর্যায়টি হলো সমালোচনা ও যাচাই-বাছাইয়ের যুগ। এই পর্যায়ে একদল গবেষক ইতিহাসের ওপর নেমে আসা বিভ্রান্তি ও ইসরায়েলি উপকথার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হন এবং ইতিহাসের ধোঁয়াশা দূর করার প্রচেষ্টা শুরু করেন। এই যুগের গবেষকরা ইতিহাসের তথ্য সংগ্রহের চেয়ে বরং পূর্ববর্তী ইতিহাসবিদদের সংকলিত তথ্য ও বর্ণনার সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ এবং সত্য যাচাইয়ের ওপর বেশি মনোযোগ দেন। এভাবেই ইসলামি ইতিহাস এক ধারাবাহিক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে পরিপক্ব হয়েছে এবং ধীরে ধীরে বিশুদ্ধতা ও গ্রহণযোগ্যতার দিকে অগ্রসর হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসলামি ইতিহাস সংরক্ষণের বিবর্তন ও পর্যায়ক্রমিক ধারা

আপডেট সময় : ০৮:৪৬:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

ইসলামে ইতিহাসচর্চার যাত্রা শুরু হয়েছিল নবী করিম (সা.)-এর জীবনচরিত ও তাঁর যুদ্ধাভিযান অর্থাৎ গাজওয়া ও সিরাহ অধ্যয়নের মধ্য দিয়ে। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এসব আলোচনা করতেন এবং তাঁদের সন্তানদেরও এতে উৎসাহ দিতেন। পরবর্তীতে সাহাবা, তাবেয়িন ও তাবে-তাবেয়িনরা হাদিসের সনদ সংরক্ষণে বিচ্যুতি রোধের লক্ষ্যে ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ লিপিবদ্ধ করায় মনোযোগী হন। সেই সঙ্গে ইসলামপূর্ব যুগের ঘটনাবলি, বংশগতি এবং পূর্বসূরিদের ইতিহাস সংরক্ষণেও তাঁরা আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

সূচনালগ্নে ইসলামি ইতিহাসচর্চা হাদিসশাস্ত্রের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল এবং হাদিস বিশারদরাই ছিলেন ইতিহাস গবেষণার পথিকৃৎ। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন খলিফা উসমান (রা.)-এর ছেলে আবান ইবনে ওসমান ইবনে আফফান (রা.) এবং উম্মুল মুমিনীন আসমা (রা.)-এর ছেলে উরওয়া ইবনে জুবায়ের (রা.)। ইসলামি ইতিহাস বহু ধাপ ও ঘাত-প্রতিঘাত অতিক্রম করে আজকের অবস্থানে এসেছে।

প্রথম পর্যায়ে ইতিহাসচর্চা ছিল সত্যতা ও পূর্ণ স্বাধীনতার যুগ। তখন ঐতিহাসিকরা ধর্মীয় পক্ষপাত, রাজনৈতিক প্রভাব বা গোষ্ঠীগত মোহ থেকে মুক্ত থেকে নিরপেক্ষভাবে ঘটনাবলি লিপিবদ্ধ করতেন। প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনার পাশাপাশি জনশ্রুতির ওপর নির্ভর করলেও সত্যবিচ্যুতি ঘটত না, কারণ তাঁরা কোনো কিছু যোগ বা বাদ না দিয়ে যা পেয়েছেন তা-ই বিশ্বস্তভাবে তুলে ধরতেন। এই পর্যায়ের ইতিহাসচর্চা ছিল নিরপেক্ষতা ও সত্যনিষ্ঠতার দিক থেকে অনন্য।

দ্বিতীয় পর্যায়ে ইতিহাসচর্চা অনেকটা গল্পনির্ভর হয়ে পড়ে, যা ঐতিহাসিক বিশ্লেষণকে জটিল ও বিভ্রান্তিকর করে তোলে। এই সময়ে তাফসিরকারকরা কোরআনের ব্যাখ্যার প্রয়োজনে বিভিন্ন কাহিনি সংবলিত বর্ণনার দিকে ঝুঁকে পড়েন। যখন তাঁরা কোরআনে এসব বর্ণনার বিস্তারিত বিবরণ খুঁজে পেতেন না, তখন ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের ধর্মগ্রন্থ, পারস্য ও গ্রিক লোককথা এবং নব-মুসলিমদের প্রচলিত বর্ণনার দিকে ঝুঁকে পড়তেন। বিশেষ করে ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তাদের মাধ্যমেই এসব উপকথা ও কল্পকাহিনি ইসলামি বইপত্রে প্রবেশ করে, যা 'ইসরায়েলিয়াত' নামে পরিচিত। এই যুগের ঐতিহাসিকরা ইতিহাসের অন্তর্নিহিত সত্য বা মূল বক্তব্য বিশ্লেষণের চেয়ে বরং তথ্য সংগ্রহ এবং সেগুলোর সনদ যাচাইয়ের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতেন। ফলে ইতিহাস তখন একটি তথ্যভিত্তিক দলিল রচনার কাজ হয়ে দাঁড়ায়, যার মধ্যে গভীর বিশ্লেষণ বা পাঠ্য সমালোচনার অভাব ছিল চোখে পড়ার মতো।

তৃতীয় পর্যায়টি হলো সমালোচনা ও যাচাই-বাছাইয়ের যুগ। এই পর্যায়ে একদল গবেষক ইতিহাসের ওপর নেমে আসা বিভ্রান্তি ও ইসরায়েলি উপকথার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হন এবং ইতিহাসের ধোঁয়াশা দূর করার প্রচেষ্টা শুরু করেন। এই যুগের গবেষকরা ইতিহাসের তথ্য সংগ্রহের চেয়ে বরং পূর্ববর্তী ইতিহাসবিদদের সংকলিত তথ্য ও বর্ণনার সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ এবং সত্য যাচাইয়ের ওপর বেশি মনোযোগ দেন। এভাবেই ইসলামি ইতিহাস এক ধারাবাহিক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে পরিপক্ব হয়েছে এবং ধীরে ধীরে বিশুদ্ধতা ও গ্রহণযোগ্যতার দিকে অগ্রসর হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh