বৈরী আবহাওয়ায় এলএনজি খালাস ব্যাহত: গ্যাস সরবরাহ কমে বিদ্যুৎ ও শিল্পে সংকট
- আপডেট সময় : ০৩:১২:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে

দেশের গ্যাস সরবরাহে আবারও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমদানিকৃত এলএনজি কার্গো সামিটের ভাসমান টার্মিনালে ভিড়তে (বার্থিং) না পারায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ হঠাৎ করে ২৫ কোটি ঘনফুটের বেশি কমে গেছে। সোমবার সন্ধ্যা থেকে এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সারা দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েক দিন ধরে দৈনিক ২৩৫ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও রোববার সন্ধ্যা থেকে তা ২১০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। আগামীকাল রাতের আগে এই সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। গ্যাস সংকটের পাশাপাশি কয়লা ও তেলের ঘাটতির কারণে দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা তীব্র আকার ধারণ করেছে। সোমবার রাত ১টায় সারা দেশে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট। তবে ভারতের আদানি গ্রুপ সরবরাহ বাড়ানোর পর গতকাল বিকেলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও ঢাকার বাইরে লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানিয়েছেন, লোডশেডিং কমাতে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে এবং আদানি গ্রুপকে উৎপাদন বাড়িয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বিকেল থেকে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের দৈনিক সরবরাহ ৬৮ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট থেকে বাড়িয়ে ৭৪ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট করা হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ বাড়াতে গিয়ে শাহজালাল সার কারখানার উৎপাদন প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে। কারখানাটির গ্যাস বরাদ্দ ৪ কোটি ঘনফুট থেকে কমিয়ে মাত্র ১ কোটি ঘনফুট করা হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানাসহ সাধারণ গ্রাহকদের ওপর।
পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গাপুরের আরামকো ট্রেডিং থেকে আমদানিকৃত একটি এলএনজি কার্গো রোববার বহির্নোঙরে পৌঁছায়। সোমবার এটি সামিটের টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বুধবার বিকালের আগে বার্থিং করা সম্ভব হবে না বলে আরামকো সাফ জানিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে সামিটের টার্মিনালে কোনো কার্গো না থাকায় তারা তাদের মজুত থেকে রিগ্যাসিফিকেশন করে গ্রিডে মাত্র ২ কোটি ঘনফুট গ্যাস দিচ্ছে, যা আগে ছিল প্রায় ৫ কোটি ঘনফুট।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালের একটি বয়লার গত ৬ আগস্ট চালু হলেও দ্বিতীয় ইউনিটটি সোমবার চালু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে গানভোর কোম্পানির একটি কার্গো এই টার্মিনালে সংযুক্ত থেকে এলএনজি সরবরাহ করছে। তবে দ্বিতীয় বয়লারটি চালু করার জন্য যেকোনো সময় সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করা হতে পারে। এছাড়া আগামী ১৭ আগস্টের জন্য আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কার্গো কেনার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি করতে পারেনি পেট্রোবাংলা, যা জ্বালানি বিভাগের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পিডিবি জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন বৃষ্টির কারণে বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা কমলেও লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি ছিল অসহনীয়। এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে যেকোনো উপায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর গ্যাস সরবরাহ ২৬৫ কোটি ঘনফুট থেকে কমে ২১৪ কোটিতে নেমেছিল, যা এখন আরও কমে ২১০ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। গতকাল বিকেল ৪টায় দেশে মোট ১৩ হাজার ৮৫৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে, যার মধ্যে আদানি ও নেপাল থেকে ২,১০৪ মেগাওয়াট, গ্যাস থেকে ৩,৯০৬ মেগাওয়াট এবং কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৫,৪৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।


























