শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়নে মদতদাতা শিক্ষকেরা এখনো বহাল তবিয়তে
- আপডেট সময় : ০৩:২২:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়নে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের পেটুয়া বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক ও কর্মকর্তা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। নিজেদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনে প্রকাশ্যে ফ্যাসিবাদের পক্ষ নেওয়া এসব শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বড় অংশই এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্টরা একে লোকদেখানো বা নামমাত্র পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
অভিযোগ উঠেছে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩০ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও পরবর্তীতে তাদের সেই শাস্তি মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই বিপ্লবের বিরোধিতাকারীদের অপরাধকে স্বাভাবিক হিসেবে গণ্য করে তাদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চলছে। এর ফলে অভিযুক্তদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং অনেকে নতুন কৌশলে প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা বাগিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়া আওয়ামীপন্থি শিক্ষকেরা নতুন ব্যানারে আবারও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছেন এবং তাদের কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর ন্যারেটিভ ছড়াচ্ছেন।
অবশ্য শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়ন ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগে কিছু ক্ষেত্রে কঠোর আইনি পদক্ষেপও দেখা গেছে। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা ও আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতনের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দুই শিক্ষককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া জুলাইবিরোধী অবস্থান ও হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে কারাগারে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। অন্যদিকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. সাদেকা হালিমকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।
এসব পদক্ষেপের বাইরে ফ্যাসিবাদের সক্রিয় সহযোগী ও সুবিধাভোগী বহু শিক্ষক এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছেন। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জীবন বাজি রেখে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ কারণে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। ফ্যাসিবাদের দোসর শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলমান এই পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের সহযোগী বা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িত সবারই নিরপেক্ষ ও ন্যায়সঙ্গত বিচার হওয়া জরুরি, তিনি শিক্ষক হোন বা অন্য কোনো পেশার মানুষ। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বজায় থাকলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
অধ্যাপক বিলাল হোসাইন আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ধরন সাধারণত সরাসরি সহিংসতা নয়, বরং এমন বক্তব্য বা বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থান নেওয়া যা সহিংসতা, ঘৃণা ও বিভাজনকে উসকে দিয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় আনা দরকার। তবে ঢালাওভাবে সব শিক্ষককে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর পক্ষে নন তিনি। কেবল সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি সমন্বিত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১১: ২৪আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১১: ৩৩
























