ফারাক্কা পানি চুক্তি নবায়ন না করার আহ্বান জেডিইউ নেতার
- আপডেট সময় : ০৯:৩৯:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ফারাক্কা পানি চুক্তির মেয়াদ আগামী ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিক এই সময়ে চুক্তিটি নবায়ন না করার জন্য ভারত সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর (জেডিইউ) কার্যনির্বাহী জাতীয় সভাপতি ও রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সঞ্জয় কুমার ঝা। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় বিষয়টি উত্থাপন করে তিনি এই দাবি জানান।
সঞ্জয় কুমার ঝা প্রস্তাব করেছেন যে, ফারাক্কা চুক্তির বদলে গঙ্গা অববাহিকার ওপর নির্ভরশীল সব রাজ্যের, বিশেষ করে বিহারের পানির প্রয়োজনীয়তা ২০৫০ সাল পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও বৈজ্ঞানিকভাবে মূল্যায়ন করা হোক। এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে একটি নতুন পানি ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন। সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ঝা বলেন, তার দল এবং দলের জাতীয় সভাপতি ও বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার শুরু থেকেই এই চুক্তির বিরোধিতা করে আসছেন, কারণ এতে বিহারের বৃহত্তর স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে। রাজ্য সরকারের পানি সম্পদমন্ত্রী থাকাকালীনও তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে চুক্তিটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
রাজ্যসভায় নিজের বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে ঝা বলেন, ফারাক্কা ব্যারাজ মূলত কলকাতা বন্দর ও হুগলি নদীতে পানিপ্রবাহ বজায় রাখার জন্য নির্মিত হয়েছিল। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর তৎকালীন ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স (ইউপিএ) সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে এই চুক্তি স্বাক্ষর করে। কিন্তু গত তিন দশকের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, শুষ্ক মৌসুমে বিহার তীব্র পানি সংকটের মুখে পড়ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ বিহারের জেলাগুলোতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাওয়ায় পানীয় জল ও সেচ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে।
বিহার রাজ্য সরকারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে রাজ্যের ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটাতে প্রায় ২ হাজার কিউসেক অতিরিক্ত পানি প্রয়োজন। বর্তমান ফারাক্কা চুক্তিতে এই প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম পানি বরাদ্দের ব্যবস্থা রয়েছে। জেডিইউ নেতা কেন্দ্রীয় সরকারকে সতর্ক করে বলেন, বিহারের কৃষি, পানীয় জল ও সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত পানির নিশ্চয়তা না দিয়ে যদি বর্তমান চুক্তিটি নবায়ন করা হয়, তবে তা রাজ্যের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন ও লাখ লাখ মানুষের জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



























