২০শে আগস্ট নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্বে তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ০৫:৪৯:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০শে আগস্ট নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সাড়ে তিন বছর দায়িত্ব পালনের পর বিদায় নেওয়ায় বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। এরপরই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। সংবিধানে ৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা থাকায় এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করেছে কমিশন।
জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এ কারণে নতুন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে পারেন বলেও আলোচনা চলছে। রাষ্ট্রপতি প্রার্থী চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে সম্প্রতি বৈঠকে বসেছিল বিএনপির স্থায়ী কমিটি। বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা প্রার্থী নির্বাচনের চূড়ান্ত দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর অর্পণ করেন। বৈঠক শেষে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণের ভার প্রধানমন্ত্রীর কাছে ন্যস্ত করা হয়েছে।
বিএনপির দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, এবার কোনো অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত না করে একজন অভিজ্ঞ ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদকে বেছে নিতে চায় দলের হাইকমান্ড। এর পেছনে রয়েছে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা। ২০০২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিদায়ের পর বিএনপি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে রাষ্ট্রপতি করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দেশের জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি। যেহেতু আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনও নতুন রাষ্ট্রপতির অধীনে অনুষ্ঠিত হবে, তাই এবার একজন দক্ষ, সাহসী ও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক নেতাকেই বঙ্গভবনে পাঠাতে চায় দলটি।
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় এসেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। এ ছাড়া ৫ই আগস্ট পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদে সাহসী ও নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখার জন্য প্রশংসিত বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদকেও প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। তবে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ড. ইউনূসের নাম আলোচনায় এলেও বিএনপির পক্ষ থেকে এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশ করেছেন। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ই আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টার মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রশাসন শাখায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনারদের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে। এরপর ১৬ই আগস্ট সকাল ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। ১৮ই আগস্ট বিকাল ৪টার মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে এবং একই দিনে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। আগামী ২০শে আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। যদি একাধিক বৈধ প্রার্থী না থাকে, তবে একক প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।
সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতা থাকতে হবে। প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং বয়স ন্যূনতম ৩৫ বছর হতে হবে। এ ছাড়া প্রার্থীকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে এবং তার পক্ষে সংসদের দুই জন সদস্যের সমর্থন (প্রস্তাবক ও সমর্থক) থাকতে হবে। সংবিধানে আরও বলা হয়েছে, অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত কোনো ব্যক্তি এই নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য কোনো মনোনয়ন ফি দিতে হয় না।




























