১ আগস্ট ২০২৪: ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা

- আপডেট সময় : ০৪:৫১:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

২০২৪ সালের ১ আগস্ট (৩২ জুলাই) বৃহস্পতিবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাধা প্রদান করে। কিছু এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও আইনজীবীরাও অংশ নেন।
১৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংঘাত ও প্রাণহানির ঘটনাকে আন্দোলনকারীরা ‘জুলাই গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে। ২১ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কোটা সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ কমেনি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অংশ হিসেবে তারা ১ আগস্টকে ‘৩২ জুলাই’ এবং ২ আগস্টকে ‘৩৩ জুলাই’ হিসেবে গণনা শুরু করেন। ৩১ জুলাই ঘোষিত এই কর্মসূচিতে নির্যাতনের স্মৃতিচারণ, নিহত ও আহতদের স্মরণ এবং গ্রাফিতি ও দেয়াল লিখনসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল কাদের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ২ আগস্ট দেশব্যাপী ‘প্রার্থনা ও ছাত্র-জনতার গণমিছিল’ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। শুক্রবার জুমার নামাজের পর দোয়া, কবর জিয়ারত এবং মন্দির ও গির্জাসহ সব উপাসনালয়ে প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। এতে শ্রমিক, পেশাজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, বুদ্ধিজীবী ও আলেম-ওলামাসহ সর্বস্তরের নাগরিকদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
১ আগস্ট দুপুরে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ককে মুক্তি দেওয়া হয়। সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামের বাবা বদরুল ইসলাম জানান, ডিবি কার্যালয়ে দুই দিন অনশন শেষে তাদের বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয় এবং তারা শারীরিকভাবে বিপর্যস্থ ছিলেন। একই দিনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং বিভাগের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এছাড়া শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী নীলদল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পথ পরিহারের আহ্বান জানায়।
অন্যদিকে, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকানরা বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থী হত্যার বিচার দাবি করেন এবং রেমিট্যান্স না পাঠানোর আহ্বান জানান। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বর্তমান সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়েছেন, সহিংসতা ও হতাহতের ঘটনা তদন্তে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১৬ থেকে ২১ জুলাইয়ের সহিংসতা তদন্তে হাইকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে একটি কমিশন গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, জাতির এই দুর্দিনে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অপরাধে শহীদ, আহত, পঙ্গু ও গ্রেফতার হওয়া সবার স্মরণে শুক্রবার দেশব্যাপী ‘প্রার্থনা ও ছাত্র-জনতার গণমিছিল’ কর্মসূচি ঘোষণা করছি। গণহত্যা ও গণগ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এবং শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ২ আগস্ট শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে দোয়া, শ
ওই সময় সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামের বাবা বদরুল ইসলাম জানান, ভোর ৬টায় সবার বাসায় ফোন দিয়ে ডিবি অফিসে আসতে বলা হয়। পরে দুপুর দেড়টার দিকে ডিবি কার্যালয়ের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থায় তাদেরকে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। তারা দুই দিন ডিবি অফিসে অনশন করেছে। তারা এখন শারীরিকভাবে বিপর্যস্থ বলেও জানান তিনি।


























