ঢাকা ১২:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিআইডি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইন ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি মেটাতে খাদ্যতালিকায় রাখুন মাশরুম ফেসবুক অনুসারীর সংখ্যায় সাকিবকে ছাড়িয়ে গেলেন পরীমনি সাতক্ষীরায় কর্মস্থলে অনুপস্থিতির দায়ে ৪ চিকিৎসক সাময়িক বরখাস্ত ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নামে কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টা, ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা নোয়াখালীর সেনবাগে নতুন গ্যাস কূপ খনন শুরু করল বাপেক্স আফরোজা হত্যায় গাড়িচালকের মৃত্যুদণ্ড, অনলাইন জুয়ার দেনার বলি চীন থেকে শত শত মিসাইল কিনছে ইরান, রয়টার্সের প্রতিবেদন ময়মনসিংহ মেডিকেলে ডেঙ্গু আক্রান্ত কিশোরের মৃত্যু শ্যোন অ্যারেস্ট নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করল আপিল বিভাগ

দেশের প্রতি ২০ জনে একজন মাদকাসক্ত: ইয়াবার থাবায় ধ্বংস জীবন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩১:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

দেশের ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় পাঁচ শতাংশই মাদকাসক্ত। নতুন ধরনের সিনথেটিক ও আধা-সিনথেটিক মাদকের ব্যাপক বিস্তার এ সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। বিশেষ করে মেথামফেটামিন ও ক্যাফেইনের সমন্বয়ে তৈরি ইয়াবা অগণিত মানুষের জীবন ধ্বংস করছে। থাই ভাষায় যার অর্থ 'পাগল করা ওষুধ', সেই 'ক-শ্রেণির' এই নিষিদ্ধ মাদকটি এখন দেশের লাখ লাখ মানুষের আসক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এই হার ক্রমাগত বাড়ছে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার মো. আরিফুজ্জামান জানান, ইয়াবার ব্যবহার এখন অত্যন্ত সাধারণ বিষয় হয়ে পড়েছে। অনেক ব্যবহারকারী ইয়াবার পাশাপাশি গাঁজা, হেরোইন, বুপ্রেনোরফিন ইনজেকশন ও ওমোরফোন বড়ির মতো মাদকও সেবন করছেন, যার ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। তিনি মনে করেন, মাদক নির্মূল করতে হলে এর সহজলভ্যতা কমানোর পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন করা জরুরি।

মাদকাসক্ত এক তরুণ জানান, হেরোইন বা আফিমের তুলনায় ইয়াবা এখন অনেক বেশি সহজলভ্য। ঢাকার বিভিন্ন রাস্তায়, বিশেষ করে মোহাম্মদপুর এলাকায় অল্প বয়সী ছেলেদের ছোট প্যাকেটে ইয়াবা বিক্রি করতে দেখা যায়, যা রিকশাচালকদের মতো পেশাজীবীরাও সহজেই সংগ্রহ করছেন। তিনি বলেন, নিয়মিত ইয়াবা সেবনের ফলে দাঁত ও মুখের মারাত্মক ক্ষতি হয়, খিঁচুনি দেখা দেয় এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া ব্যবহারকারীদের মানসিক ভারসাম্যহীনতা ও হিংস্র আচরণের প্রবণতাও লক্ষ্য করা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও লাওসের সীমান্ত এলাকা 'গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল' থেকে আসা সস্তা ইয়াবা ব্যবহারকারীদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এছাড়া ব্যক্তিগত জীবনের জটিলতা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তরুণদের দুশ্চিন্তাও মাদকাসক্তির পেছনে ভূমিকা রাখছে। অনেক আসক্ত ব্যক্তি মাদকের খরচ মেটাতে নিজেরাই ডিলার হয়ে পড়ছেন, আবার অনেকে বিষণ্ণতা বা উদ্বেগ থেকে মুক্তি পেতে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন।

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক দপ্তরের (ইউএনওডিসি) তথ্যমতে, নব্বইয়ের দশকের শেষে ইয়াবা তরুণদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠার আগে এটি মূলত ট্রাকচালকদের মতো পেশাজীবীরা সেবন করতেন। ২০০৭ সালে বাংলাদেশে ১২ লাখ ইয়াবা বড়ি জব্দ করা হয়েছিল। এদিকে, ২০১৮ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হলেও ইয়াবার ব্যবহার কমেনি। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে মাদকসংক্রান্ত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে নতুন বিল অনুমোদিত হয়েছে। গত জুন মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও দেশের মাদকাসক্তির এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

দেশের প্রতি ২০ জনে একজন মাদকাসক্ত: ইয়াবার থাবায় ধ্বংস জীবন

আপডেট সময় : ১১:৩১:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
print news

দেশের ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় পাঁচ শতাংশই মাদকাসক্ত। নতুন ধরনের সিনথেটিক ও আধা-সিনথেটিক মাদকের ব্যাপক বিস্তার এ সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। বিশেষ করে মেথামফেটামিন ও ক্যাফেইনের সমন্বয়ে তৈরি ইয়াবা অগণিত মানুষের জীবন ধ্বংস করছে। থাই ভাষায় যার অর্থ 'পাগল করা ওষুধ', সেই 'ক-শ্রেণির' এই নিষিদ্ধ মাদকটি এখন দেশের লাখ লাখ মানুষের আসক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এই হার ক্রমাগত বাড়ছে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার মো. আরিফুজ্জামান জানান, ইয়াবার ব্যবহার এখন অত্যন্ত সাধারণ বিষয় হয়ে পড়েছে। অনেক ব্যবহারকারী ইয়াবার পাশাপাশি গাঁজা, হেরোইন, বুপ্রেনোরফিন ইনজেকশন ও ওমোরফোন বড়ির মতো মাদকও সেবন করছেন, যার ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। তিনি মনে করেন, মাদক নির্মূল করতে হলে এর সহজলভ্যতা কমানোর পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন করা জরুরি।

মাদকাসক্ত এক তরুণ জানান, হেরোইন বা আফিমের তুলনায় ইয়াবা এখন অনেক বেশি সহজলভ্য। ঢাকার বিভিন্ন রাস্তায়, বিশেষ করে মোহাম্মদপুর এলাকায় অল্প বয়সী ছেলেদের ছোট প্যাকেটে ইয়াবা বিক্রি করতে দেখা যায়, যা রিকশাচালকদের মতো পেশাজীবীরাও সহজেই সংগ্রহ করছেন। তিনি বলেন, নিয়মিত ইয়াবা সেবনের ফলে দাঁত ও মুখের মারাত্মক ক্ষতি হয়, খিঁচুনি দেখা দেয় এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া ব্যবহারকারীদের মানসিক ভারসাম্যহীনতা ও হিংস্র আচরণের প্রবণতাও লক্ষ্য করা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও লাওসের সীমান্ত এলাকা 'গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল' থেকে আসা সস্তা ইয়াবা ব্যবহারকারীদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এছাড়া ব্যক্তিগত জীবনের জটিলতা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তরুণদের দুশ্চিন্তাও মাদকাসক্তির পেছনে ভূমিকা রাখছে। অনেক আসক্ত ব্যক্তি মাদকের খরচ মেটাতে নিজেরাই ডিলার হয়ে পড়ছেন, আবার অনেকে বিষণ্ণতা বা উদ্বেগ থেকে মুক্তি পেতে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন।

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক দপ্তরের (ইউএনওডিসি) তথ্যমতে, নব্বইয়ের দশকের শেষে ইয়াবা তরুণদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠার আগে এটি মূলত ট্রাকচালকদের মতো পেশাজীবীরা সেবন করতেন। ২০০৭ সালে বাংলাদেশে ১২ লাখ ইয়াবা বড়ি জব্দ করা হয়েছিল। এদিকে, ২০১৮ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হলেও ইয়াবার ব্যবহার কমেনি। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে মাদকসংক্রান্ত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে নতুন বিল অনুমোদিত হয়েছে। গত জুন মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও দেশের মাদকাসক্তির এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin