সেমিকন্ডাক্টর শিল্প হতে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতির নতুন গন্তব্য

- আপডেট সময় : ০৮:৪৬:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের জন্য আরেকটি সম্ভাবনার অর্থনৈতিক গন্তব্য। শনিবার তেজগাঁওয়ে নভোথিয়েটারে আয়োজিত জাতীয় সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম এবং বায়োটেক, ইলেক্ট্রনিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক্স (বিইএআর) সম্মেলন-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি এসোসিয়েশন ও সিলিকন রিভারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই দুইদিনের সম্মেলনে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ১১টি অধিবেশন এবং ৭টি কৌশলগত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে বাংলাদেশ কৃষি, পোশাক শিল্প, প্রবাসী আয় এবং ডিজিটাল সেবায় সফলতা অর্জন করেছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, দেশের মেধাবী তারুণ্য ও উদ্ভাবনী শক্তির ওপর ভর করে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হবে অর্থনীতির পরবর্তী মূল গন্তব্য। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প খাত এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি হিসেবে সেমিকন্ডাক্টরের অপরিহার্যতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে মহাকাশের স্যাটেলাইট পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই এটি প্রয়োজনীয়। ২০৩০ সালের মধ্যে এই শিল্পের বৈশ্বিক বাজার ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ এই বাজারে প্রবেশে অপার সম্ভাবনা দেখছে এবং ২০৩০ সালের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সরকার সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে জাতীয় অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বাজেটে এই শিল্পের কাঁচামালের ওপর সব ধরনের শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং ডিজাইন সার্ভিসের রপ্তানি আয়ের ওপর নগদ প্রণোদনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বছরে ৫০০ কোটি টাকা স্টার্টআপ অনুদান বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বর্তমান সরকার বিনিয়োগবান্ধব নীতি, কর সুবিধা এবং বিশেষায়িত অবকাঠামো নিশ্চিত করতে কাজ করছে। বিদ্যমান হাইটেক পার্কগুলোর আধুনিকায়নের পাশাপাশি একটি বায়োটেক পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
প্রবাসে কর্মরত তিন হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি সেমিকন্ডাক্টর পেশাজীবীকে দেশের সমৃদ্ধির পথে যুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, যুক্তরাষ্ট্রের পারডু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মোহাম্মদ মুস্তফা হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন ও বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি এসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ জাব্বার বক্তব্য রাখেন। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী ‘বিইএআর ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬’ ঘুরে দেখেন এবং বিভিন্ন স্টলে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের উদ্ভাবন সম্পর্কে অবহিত হন।



























