ব্যয় কমাতে ১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহার

- আপডেট সময় : ১০:২১:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

রাষ্ট্রীয় ব্যয় হ্রাস, জ্বালানি সাশ্রয় এবং পুলিশ বাহিনীর জনবল ও গাড়ির সংকট দূর করতে ১৮ জন মন্ত্রীর বিশেষ পুলিশ এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহার করেছে সরকার। তবে দায়িত্বের গুরুত্ব বিবেচনা করে মন্ত্রিসভার ছয়জন জ্যেষ্ঠ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার ক্ষেত্রে এই সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে পর্যায়ক্রমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা শুরু হয়েছে বলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
বর্তমানে মন্ত্রিসভায় পূর্ণ মন্ত্রীর সংখ্যা ২৪ জন। নতুন নির্দেশনার ফলে বেশিরভাগ মন্ত্রীর এসকর্ট সুবিধা বাতিল হলেও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তারা আগের মতোই গানম্যান, বাসভবনের নিরাপত্তা (হাউজ গার্ড) এবং ঢাকার বাইরে সফরের সময় প্রয়োজনীয় পুলিশি নিরাপত্তা পাবেন। সাধারণত একজন মন্ত্রীর এসকর্ট দলে একজন উপপরিদর্শক (এসআই), চারজন কনস্টেবল এবং একটি পুলিশ পিকআপ ভ্যান থাকে, যার যাবতীয় খরচ ও জ্বালানি ব্যয় সরকারি তহবিল থেকে মেটানো হয়।
বিশেষ এসকর্ট সুবিধা বহাল থাকা ছয় জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী হলেন—স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ; মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরও এই সুবিধা পাচ্ছেন।
ডিএমপির তথ্যমতে, বর্তমানে ঢাকার ৪৯ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন ১ হাজার ৬৯১ জন পুলিশ সদস্য। তবে এই কাজের জন্য প্রয়োজন ২ হাজার ৫৭৫ জন সদস্যের, অর্থাৎ প্রায় ৯০০ জন পুলিশের ঘাটতি রয়েছে। এই বিশাল ঘাটতির কারণে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে, যা তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে।
জনবল সংকটের পাশাপাশি যানবাহনের তীব্র সংকটও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় বিভিন্ন থানা ও পুলিশ স্থাপনায় হামলায় প্রোটেকশন ইউনিটের বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে বর্তমানে একটি গাড়ি দিয়েই একাধিক ভিআইপির নিরাপত্তা সামলাতে হচ্ছে। এই সীমিত সম্পদ নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতিনিয়ত নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।



























