ঢাকা ১২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হলেন নোমান মাহমুদ হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাত্র কল্যাণ পরিষদের নবীনবরণ ও বিদায় কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং দমনে একরাতে ৬২৪ জন আটক বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দেশের বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় পতন এআই-এর যুগেও নিজের অবস্থানে অনড় ‘লিপস্টিক কিং’ লি জিয়াকি টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের শুনানি আজ যুক্তরাষ্ট্রে শি জিনপিংকে লাল গালিচা অভ্যর্থনা, আলোচনায় বাণিজ্যসহ নানা ইস্যু

এলএনজি টার্মিনালের সংকট কাটছে না, ভোগান্তিতে গ্রাহকরা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশে গ্যাসের সংকট দীর্ঘায়িত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। রাজধানীতে কলাবাগান, মোহাম্মদপুর, কাফরুল, কাজীপাড়া, পশ্চিম তেজতুরী বাজার ও বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকরা তীব্র গ্যাস সংকটের সম্মুখীন হচ্ছেন। অনেক এলাকায় চুলায় গ্যাস নেই বললেই চলে, যার ফলে রান্নার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

দেশে আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর করে সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে, যার একটি পরিচালনা করে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি এবং অন্যটি সামিট। গত মঙ্গলবার এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুন লাগলে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা প্রতিদিন ৩৮০ কোটি ঘনফুট, তবে গত বছর থেকে গড়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর সরবরাহ কমে ২১৫ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে দুটি বয়লারের একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি চালু করা গেলে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হতো। গত বৃহস্পতিবার থেকে যুক্তরাজ্য ও আরব আমিরাত থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল মেরামতের কাজ শুরু করলেও এখনো টার্মিনালটি চালু করার মতো অবস্থায় আনা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, কাজ চলমান থাকলেও ঠিক কত সময় লাগবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ খাতে প্রভাব পড়েছে, যেখানে প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। এছাড়া শিল্পকারখানা ও সিএনজি স্টেশনগুলোতেও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে এবং রান্নার জন্য অনেকে বিদ্যুৎচালিত চুলা কিনছেন বা মাটির চুলায় লাকড়ি ব্যবহার করছেন। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের স্বল্পচাপ থাকবে।

মোহাম্মদপুরের গ্রাহকরা এই সংকটের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম তামিম বলেন, গ্যাস খাত দীর্ঘদিন ধরে নাজুক অবস্থায় ছিল। বিকল্প ব্যবস্থার অভাব এবং স্থলভাগে টার্মিনাল না থাকার কারণে একটি টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার প্রভাব এখন মারাত্মকভাবে অনুভূত হচ্ছে। পেট্রোবাংলা এক বিবৃতিতে গ্রাহকদের কাছে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।

প্রতিদিন সরবরাহ করা মোট গ্যাসের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশই আসে এলএনজি থেকে।.পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) মো.

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

এলএনজি টার্মিনালের সংকট কাটছে না, ভোগান্তিতে গ্রাহকরা

আপডেট সময় : ০৮:০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশে গ্যাসের সংকট দীর্ঘায়িত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। রাজধানীতে কলাবাগান, মোহাম্মদপুর, কাফরুল, কাজীপাড়া, পশ্চিম তেজতুরী বাজার ও বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকরা তীব্র গ্যাস সংকটের সম্মুখীন হচ্ছেন। অনেক এলাকায় চুলায় গ্যাস নেই বললেই চলে, যার ফলে রান্নার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

দেশে আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর করে সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে, যার একটি পরিচালনা করে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি এবং অন্যটি সামিট। গত মঙ্গলবার এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুন লাগলে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা প্রতিদিন ৩৮০ কোটি ঘনফুট, তবে গত বছর থেকে গড়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর সরবরাহ কমে ২১৫ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে দুটি বয়লারের একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি চালু করা গেলে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হতো। গত বৃহস্পতিবার থেকে যুক্তরাজ্য ও আরব আমিরাত থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল মেরামতের কাজ শুরু করলেও এখনো টার্মিনালটি চালু করার মতো অবস্থায় আনা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, কাজ চলমান থাকলেও ঠিক কত সময় লাগবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ খাতে প্রভাব পড়েছে, যেখানে প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। এছাড়া শিল্পকারখানা ও সিএনজি স্টেশনগুলোতেও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে এবং রান্নার জন্য অনেকে বিদ্যুৎচালিত চুলা কিনছেন বা মাটির চুলায় লাকড়ি ব্যবহার করছেন। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের স্বল্পচাপ থাকবে।

মোহাম্মদপুরের গ্রাহকরা এই সংকটের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম তামিম বলেন, গ্যাস খাত দীর্ঘদিন ধরে নাজুক অবস্থায় ছিল। বিকল্প ব্যবস্থার অভাব এবং স্থলভাগে টার্মিনাল না থাকার কারণে একটি টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার প্রভাব এখন মারাত্মকভাবে অনুভূত হচ্ছে। পেট্রোবাংলা এক বিবৃতিতে গ্রাহকদের কাছে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।

প্রতিদিন সরবরাহ করা মোট গ্যাসের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশই আসে এলএনজি থেকে।.পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) মো.

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo