ঢাকা ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ, ৭ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ বিশ্বের ৪১টি সবচেয়ে পুষ্টিকর খাবারের তালিকা প্রকাশ ছাত্র ইউনিয়ন ছাড়লেন মেঘমল্লার বসু ও মাঈন আহমেদ ব্যয় কমাতে ১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহার গ্রাহকদের লাগামহীন ব্যাংক ঋণে আসছে কড়া সীমা বান্দরবানে সাঙ্গু নদীতে নৌকাডুবি: নিখোঁজ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার মিসাইল সংকটে ইরানে হামলা বন্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনে আর থাকছে না ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ কেউই: কঠোর অবস্থানে সরকার ভেনেজুয়েলায় নির্বাচন আয়োজনের সময় এখনও আসেনি: ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩৬ দিন সাগরে ভেসে থাকার পর মহেশখালীতে দুই শ্রীলঙ্কান জেলে উদ্ধার

সীমান্তের প্রতিরক্ষায় বিজিবির পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ান স্থানীয় নারীরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৮:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী জনপদে জীবন মানেই যেন এক অসম সাহসের লড়াই। কাঁটাতারের ওপার থেকে বিএসএফের যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিপরীতে বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন স্থানীয় নারীরা। তারা কেবল সীমান্তের ঘটনাপ্রবাহের দর্শক নন, বরং দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। রৌমারীর দাঁতভাঙা ইউনিয়নের সাতকড়াইবাড়ি গ্রামের সাহসী এসব নারীর বীরত্বগাথা এখন সীমান্ত এলাকার পরিচিত এক আখ্যান।

১২ জুলাই রৌমারীর সীমান্ত এলাকায় আলাপকালে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু নারীরাই নন, এই প্রতিরোধ লড়াইয়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেন স্থানীয় শিশু-কিশোররাও। সাতখাই গ্রামের বাসিন্দা নুনিজান, যিনি গত ৫০ বছর ধরে সীমান্তের কাছেই বসবাস করছেন, তিনি জানান, পরিস্থিতির প্রয়োজনে জীবন দিতেও তারা দ্বিধাবোধ করেন না। বড়াইবাড়ির গণ্ডগোলের সময় স্থানীয় জনগণই বিজিবির পাশে দাঁড়িয়েছিল। নুনিজানের মতে, দেশের নিরাপত্তা রক্ষা করা কেবল বাহিনীর দায়িত্ব নয়, বরং এটি প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়বদ্ধতা।

স্থানীয় গৃহবধূ শাহানা বেগম জানান, সীমান্তে এখন পরিস্থিতি বেশ শান্ত এবং বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে জনসাধারণের সম্পর্ক অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ। স্থানীয়রা বিজিবির দৈনন্দিন কাজে নিয়মিত সহায়তা করেন। সীমান্তে অনুপ্রবেশ বা রোহিঙ্গা সংক্রান্ত কোনো সন্দেহজনক তথ্য পেলেই তারা বিজিবিকে ফোন করে দ্রুত অবহিত করেন। শাহানা আরও বলেন, সীমান্তের ওপারে আত্মীয়স্বজন থাকলেও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ছাড়া বিজিবির পক্ষে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। ২০০১ সালের ১৮ এপ্রিল রৌমারীর বড়াইবাড়ি যুদ্ধের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, সেই উত্তাল সময়ে বিজিবি সদস্যরা যখন সরাসরি সীমান্তে অবস্থান করতে পারেননি, তখন গ্রামবাসী তাদের নিজেদের ঘরবাড়ি ও মসজিদ খুলে দিয়ে আশ্রয় দিয়েছিলেন এবং দীর্ঘ এক সপ্তাহ ডিউটি পালনে সহায়তা করেছিলেন।

সীমান্তের আরেক বাসিন্দা ৪৫ বছর বয়সি মেহেরচান জানান, গবাদি পশু চরানোর সময় বিজিবি সদস্যরা তাদের সতর্ক করেন। বিএসএফের সঙ্গে কোনো বিবাদ তৈরি হলে স্থানীয়রা বিজিবির পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সহযোগিতা করেন। একই চিত্র দেখা যায় স্থানীয় কিশোরদের মধ্যেও। সাতকরাই গ্রামের দুই কিশোর মোহাম্মদ রাব্বি ও ইসরাফিল জানায়, সীমান্ত এলাকায় বেড়ে ওঠার কারণে বিএসএফের উপস্থিতি তাদের কাছে ভয়ের কারণ নয়। তারা বিজিবি সদস্যদের টহলে পানি পান করানোসহ বিভিন্ন ছোটখাটো কাজে নিয়মিত সহায়তা করে। সীমান্তে পুশইন বা যেকোনো অনুপ্রবেশের চেষ্টা রুখতে তারা নিজেরাই এলাকা পাহারা দেওয়ার কথা জানায় এবং ভবিষ্যতে যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে বিজিবির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

সীমান্তের প্রতিরক্ষায় বিজিবির পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ান স্থানীয় নারীরা

আপডেট সময় : ০৮:৪৮:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
print news

কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী জনপদে জীবন মানেই যেন এক অসম সাহসের লড়াই। কাঁটাতারের ওপার থেকে বিএসএফের যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিপরীতে বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন স্থানীয় নারীরা। তারা কেবল সীমান্তের ঘটনাপ্রবাহের দর্শক নন, বরং দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। রৌমারীর দাঁতভাঙা ইউনিয়নের সাতকড়াইবাড়ি গ্রামের সাহসী এসব নারীর বীরত্বগাথা এখন সীমান্ত এলাকার পরিচিত এক আখ্যান।

১২ জুলাই রৌমারীর সীমান্ত এলাকায় আলাপকালে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু নারীরাই নন, এই প্রতিরোধ লড়াইয়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেন স্থানীয় শিশু-কিশোররাও। সাতখাই গ্রামের বাসিন্দা নুনিজান, যিনি গত ৫০ বছর ধরে সীমান্তের কাছেই বসবাস করছেন, তিনি জানান, পরিস্থিতির প্রয়োজনে জীবন দিতেও তারা দ্বিধাবোধ করেন না। বড়াইবাড়ির গণ্ডগোলের সময় স্থানীয় জনগণই বিজিবির পাশে দাঁড়িয়েছিল। নুনিজানের মতে, দেশের নিরাপত্তা রক্ষা করা কেবল বাহিনীর দায়িত্ব নয়, বরং এটি প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়বদ্ধতা।

স্থানীয় গৃহবধূ শাহানা বেগম জানান, সীমান্তে এখন পরিস্থিতি বেশ শান্ত এবং বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে জনসাধারণের সম্পর্ক অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ। স্থানীয়রা বিজিবির দৈনন্দিন কাজে নিয়মিত সহায়তা করেন। সীমান্তে অনুপ্রবেশ বা রোহিঙ্গা সংক্রান্ত কোনো সন্দেহজনক তথ্য পেলেই তারা বিজিবিকে ফোন করে দ্রুত অবহিত করেন। শাহানা আরও বলেন, সীমান্তের ওপারে আত্মীয়স্বজন থাকলেও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ছাড়া বিজিবির পক্ষে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। ২০০১ সালের ১৮ এপ্রিল রৌমারীর বড়াইবাড়ি যুদ্ধের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, সেই উত্তাল সময়ে বিজিবি সদস্যরা যখন সরাসরি সীমান্তে অবস্থান করতে পারেননি, তখন গ্রামবাসী তাদের নিজেদের ঘরবাড়ি ও মসজিদ খুলে দিয়ে আশ্রয় দিয়েছিলেন এবং দীর্ঘ এক সপ্তাহ ডিউটি পালনে সহায়তা করেছিলেন।

সীমান্তের আরেক বাসিন্দা ৪৫ বছর বয়সি মেহেরচান জানান, গবাদি পশু চরানোর সময় বিজিবি সদস্যরা তাদের সতর্ক করেন। বিএসএফের সঙ্গে কোনো বিবাদ তৈরি হলে স্থানীয়রা বিজিবির পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সহযোগিতা করেন। একই চিত্র দেখা যায় স্থানীয় কিশোরদের মধ্যেও। সাতকরাই গ্রামের দুই কিশোর মোহাম্মদ রাব্বি ও ইসরাফিল জানায়, সীমান্ত এলাকায় বেড়ে ওঠার কারণে বিএসএফের উপস্থিতি তাদের কাছে ভয়ের কারণ নয়। তারা বিজিবি সদস্যদের টহলে পানি পান করানোসহ বিভিন্ন ছোটখাটো কাজে নিয়মিত সহায়তা করে। সীমান্তে পুশইন বা যেকোনো অনুপ্রবেশের চেষ্টা রুখতে তারা নিজেরাই এলাকা পাহারা দেওয়ার কথা জানায় এবং ভবিষ্যতে যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে বিজিবির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh