ঢাকা ০৯:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই: অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক সংবিধান সংশোধনের নামে নতুন গণভোট জাতির সাথে তামাশা: রাশেদ প্রধান কিছু করে দেখান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘ছোটদের সময় প্রকাশনী’র ৮ নতুন বইয়ের প্রকাশ কৃষকরাই দেশের শ্রেষ্ঠ মানুষ, তাদের উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ: রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদপুরে জমি দখলের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই কর্ণফুলী ইপিজেডে ২০ বছরে বিনিয়োগ ৪১২ গুণ বৃদ্ধি নদীর সংখ্যা আছে, কিন্তু প্রাণ হারিয়েছে বাংলাদেশের নদ-নদী আলোকঝাড়ীর ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানের মৃত্যুতে হুইপের শোক চট্টগ্রাম আদালতে নারীকে টেনেহিঁচড়ে মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

হাফপ্যান্ট পরায় অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে মেট্রোস্টেশনে হেনস্তা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৩:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে শরীরচর্চার পোশাক হিসেবে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরায় সাজ্জাদ হোসেন নামে এক অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে ৪০ মিনিট আটকে রেখে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার সকালে নিয়মিত প্রশিক্ষণ শেষে মেট্রোরেলে ওঠার সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাঁর পোশাককে ‘অশালীন’ আখ্যা দিয়ে এই হয়রানি করেন। সাজ্জাদ হোসেন প্রায় ১০ বছর ধরে ম্যারাথন ও আল্ট্রাম্যারাথনের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন এবং ঢাকার বিভিন্ন পার্কে নিয়মিত দৌড়ান।

ঘটনার পর সাজ্জাদ হোসেন নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ৫৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওর শুরুতে জাকির নামে এক পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়, যিনি অ্যাথলেটকে বলেন, ‘আপনাকে বলা হয়েছে আপনি একটু শালীনতার সঙ্গে যান। এইটা একেবারে পুরোপুরি শালীনতার মধ্যে পড়ে না।’ সাজ্জাদ হোসেন তখন জানতে চান, পোশাকের কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম বা শালীনতার সংজ্ঞা কোথাও লেখা আছে কি না। জবাবে ওই পুলিশ সদস্য দাবি করেন, ‘এটা দেখা আমার দায়িত্ব।’

ভুক্তভোগী সাজ্জাদ হোসেন জানান, সেখানে উপস্থিত আরও দুই পুলিশ সদস্য তাঁকে ট্রাউজার পরে আসতে বলেন এবং শর্টস খুলে আসার পরামর্শ দেন। এমনকি মেট্রোরেলের কন্ট্রোল বোর্ডের এক নারী কর্মকর্তাও তাঁর পোশাক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং ছবি তুলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে যান। শেষ পর্যন্ত মেট্রোরেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাওয়ার পর তিনি মেট্রোতে উঠতে সক্ষম হন।

সাজ্জাদ হোসেন ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অভিযোগের কোনো কপি বা ছবি তাঁকে দেওয়া হয়নি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ব্যায়ামের পোশাক পরা একজন অ্যাথলেটের জন্য স্বাভাবিক বিষয়। মেট্রোরেলে শর্টস পরা নিষিদ্ধ হলে তার লিখিত নিয়ম থাকা উচিত ছিল। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পোশাক নিয়ে মন্তব্য পাওয়া আর প্রশাসনের একটি জায়গায় পোশাকের কারণে গণপরিবহনে উঠতে বাধা দেওয়া এক বিষয় নয়।

এ বিষয়ে মেট্রোরেলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, মেট্রোরেলে চলাচলের জন্য কোনো ড্রেস কোড নেই এবং কেন এই হেনস্তা করা হয়েছে তা তিনি জানেন না। এমআরটি পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তাকে একাধিকবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠালেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক সাজ্জাদ সিদ্দিকী এই ঘটনাকে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তিকে ঘিরে মব তৈরি হলে বা কেউ অন্যায়ভাবে আক্রান্ত হলে পুলিশের দায়িত্ব তাঁকে উদ্ধার করা। কিন্তু সেই পুলিশই যদি নিপীড়কের ভূমিকায় চলে যায়, তাহলে বিষয়টি আরও ভয়ংকর। সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত উগ্রতার সঙ্গে যখন পুলিশের পোশাক ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার অপব্যবহার যুক্ত হয়, তখন সেটি সামাজিক অবক্ষয়ের আরও ভয়ংকর রূপ নেয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

হাফপ্যান্ট পরায় অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে মেট্রোস্টেশনে হেনস্তা

আপডেট সময় : ০৬:৩৩:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে শরীরচর্চার পোশাক হিসেবে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরায় সাজ্জাদ হোসেন নামে এক অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে ৪০ মিনিট আটকে রেখে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার সকালে নিয়মিত প্রশিক্ষণ শেষে মেট্রোরেলে ওঠার সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাঁর পোশাককে ‘অশালীন’ আখ্যা দিয়ে এই হয়রানি করেন। সাজ্জাদ হোসেন প্রায় ১০ বছর ধরে ম্যারাথন ও আল্ট্রাম্যারাথনের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন এবং ঢাকার বিভিন্ন পার্কে নিয়মিত দৌড়ান।

ঘটনার পর সাজ্জাদ হোসেন নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ৫৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওর শুরুতে জাকির নামে এক পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়, যিনি অ্যাথলেটকে বলেন, ‘আপনাকে বলা হয়েছে আপনি একটু শালীনতার সঙ্গে যান। এইটা একেবারে পুরোপুরি শালীনতার মধ্যে পড়ে না।’ সাজ্জাদ হোসেন তখন জানতে চান, পোশাকের কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম বা শালীনতার সংজ্ঞা কোথাও লেখা আছে কি না। জবাবে ওই পুলিশ সদস্য দাবি করেন, ‘এটা দেখা আমার দায়িত্ব।’

ভুক্তভোগী সাজ্জাদ হোসেন জানান, সেখানে উপস্থিত আরও দুই পুলিশ সদস্য তাঁকে ট্রাউজার পরে আসতে বলেন এবং শর্টস খুলে আসার পরামর্শ দেন। এমনকি মেট্রোরেলের কন্ট্রোল বোর্ডের এক নারী কর্মকর্তাও তাঁর পোশাক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং ছবি তুলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে যান। শেষ পর্যন্ত মেট্রোরেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাওয়ার পর তিনি মেট্রোতে উঠতে সক্ষম হন।

সাজ্জাদ হোসেন ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অভিযোগের কোনো কপি বা ছবি তাঁকে দেওয়া হয়নি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ব্যায়ামের পোশাক পরা একজন অ্যাথলেটের জন্য স্বাভাবিক বিষয়। মেট্রোরেলে শর্টস পরা নিষিদ্ধ হলে তার লিখিত নিয়ম থাকা উচিত ছিল। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পোশাক নিয়ে মন্তব্য পাওয়া আর প্রশাসনের একটি জায়গায় পোশাকের কারণে গণপরিবহনে উঠতে বাধা দেওয়া এক বিষয় নয়।

এ বিষয়ে মেট্রোরেলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, মেট্রোরেলে চলাচলের জন্য কোনো ড্রেস কোড নেই এবং কেন এই হেনস্তা করা হয়েছে তা তিনি জানেন না। এমআরটি পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তাকে একাধিকবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠালেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক সাজ্জাদ সিদ্দিকী এই ঘটনাকে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তিকে ঘিরে মব তৈরি হলে বা কেউ অন্যায়ভাবে আক্রান্ত হলে পুলিশের দায়িত্ব তাঁকে উদ্ধার করা। কিন্তু সেই পুলিশই যদি নিপীড়কের ভূমিকায় চলে যায়, তাহলে বিষয়টি আরও ভয়ংকর। সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত উগ্রতার সঙ্গে যখন পুলিশের পোশাক ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার অপব্যবহার যুক্ত হয়, তখন সেটি সামাজিক অবক্ষয়ের আরও ভয়ংকর রূপ নেয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo