বাংলাদেশি পরিচয়ে ভারতীয় নারীকে পুশ-ইনের অভিযোগ, বেনাপোলে আতঙ্ক
- আপডেট সময় : ১১:৪৬:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

সীমান্তের অন্ধকার রাতে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশ-ইন করার ঘটনা নিয়ে ফের নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিএসএফ শুধুমাত্র ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকই নয়, বরং ভারতীয় নাগরিকদেরও বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে জোরপূর্বক সীমান্তে ঠেলে দিচ্ছে। এমনই এক ঘটনার শিকার হয়েছেন রেশমা বিবি নামের এক ভারতীয় নারী, যাকে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় পাওয়া যায়। তার সঙ্গে একটি শিশু সন্তান রয়েছে এবং তাদের চোখেমুখে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার ছাপ স্পষ্ট।
রেশমা বিবির পরিচয় সম্পর্কে জানা গেছে, তিনি ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের পাকুর জেলার মহেশপুর থানার খাগড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামীর নাম রাজু শেখ এবং বাবার নাম বুলু শেখ। দুই সন্তানের জননী রেশমা জীবিকার প্রয়োজনে মুম্বাইয়ে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। তার অভিযোগ, মুম্বাইয়ে অবস্থানকালে ভারতীয় পুলিশ তাকে আটক করে এবং বারবার ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরও তা গ্রাহ্য করা হয়নি। এরপর তাকে এবং বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিকে বিমানে করে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে গভীর রাতে চট্টগ্রাম বিভাগের কোনো এক সীমান্ত দিয়ে তাকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হয়।
বাংলাদেশে রেশমার কোনো আত্মীয় বা পরিচিত কেউ না থাকায় তিনি চরম বিপাকে পড়েন। স্থানীয় পথচারীদের সহায়তায় তিনি বাসে করে বেনাপোলে পৌঁছান। বর্তমানে তিনি নিজ দেশে স্বামী ও সন্তানের কাছে ফেরার আশায় চেকপোস্ট এলাকায় ঘুরছেন। রেশমার অপর সন্তান মুম্বাইয়ের একটি স্কুলের হোস্টেলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, যদি রেশমা প্রকৃতপক্ষে ভারতীয় নাগরিক হন, তবে মানবিক ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে তাকে নিজ দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা। বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, এ বিষয়ে তাদের সরাসরি করণীয় কিছু নেই; বিজিবি ও বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমেই এর সমাধান হওয়া সম্ভব। রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিকও একই মত প্রকাশ করে বলেন, আইনি জটিলতা এড়াতে এবং মা ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন।


























