ঢাকা ০১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাগুরার নড়িহাটি গ্রামে মেসি ভক্তদের রঙে সাজল ‘আর্জেন্টিনা সেতু’ ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি ৫ হাজার পার ১৮ জুলাই: শাটডাউনে অচল দেশ, সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৩১ ঘুম না আসায় মোবাইল খেলতে গিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকা জিতলেন নারী কুয়েতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির আলোচনায় পাকিস্তান, কেমন দেশটির সামরিক শক্তি শোক কাটিয়ে নতুন দিনের আশায় শহীদ ওয়াসিমের পরিবার বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে রেফারির ভূমিকা নিয়ে সতর্ক স্পেনের কোচ বাংলাদেশি পরিচয়ে ভারতীয় নারীকে পুশ-ইনের অভিযোগ, বেনাপোলে আতঙ্ক কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে বন্দি পালানোয় ৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত আরপিএমপি হাজীরহাট থানার অভিযানে মাদক সেবনের অভিযোগে গ্রেফতার-৩

শোক কাটিয়ে নতুন দিনের আশায় শহীদ ওয়াসিমের পরিবার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১৬:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় শহীদ হিসেবে পরিচিত ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামের পরিবার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছে। ছেলে হারানোর গভীর শোক কাটিয়ে পরিবারের সদস্যরা এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন। সরকারি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সহায়তায় তাদের অর্থনৈতিক সংকট অনেকটা কেটেছে, তবে ওয়াসিম হত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং পরিবারের এক সদস্যের সরকারি চাকরির দাবি এখনো পূরণ হয়নি।

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরারপাড়ার বাসিন্দা ওয়াসিম আকরাম ছিলেন বাবা-মায়ের তিন সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়। চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়াসিম কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে মুরাদপুর ফ্লাইওভারের নিচে সংঘর্ষের সময় ছুরিকাঘাতে তিনি নিহত হন। তার মৃত্যুর ঘটনা সরকারবিরোধী আন্দোলনকে আরও বেগবান করেছিল।

ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম জানান, শোকে মুহ্যমান হয়ে তিনি দীর্ঘ সময় ছেলের কবরের পাশেই কাটিয়েছেন। বর্তমানে তিনি কৃষিকাজ ও চিংড়িঘেরের আয়ের ওপর নির্ভর করছেন। ওয়াসিমের বড় ভাই আশেক আলী সৌদি আরব থেকে ফিরে বর্তমানে কর্মহীন। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তার জন্য একটি সরকারি চাকরির আবেদন করা হয়েছে। শফিউল আলমের ভাষ্যমতে, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কবর জিয়ারত করতে এসে চাকরির ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া ওয়াসিমের একমাত্র বোন সাবরিনার কাবিন সম্পন্ন হয়েছে এবং শিগগিরই তাকে শ্বশুরবাড়ি পাঠানো হবে।

সরকারি ও বিভিন্ন সংস্থা থেকে পরিবারটি প্রায় ৩০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দিয়েছেন। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আ. মান্নান এবং পেকুয়ার ইউএনও রফিকুল ইসলাম জানান, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে তারা প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা পাচ্ছেন। এছাড়া বাড়ির আঙিনায় রাস্তা ও একটি ছোট মসজিদ নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। তবে শফিউল আলমের মতে, মাসিক ভাতা দিয়ে পরিবারের ব্যয় মেটানো কঠিন, তাই তিনি কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের জন্য ২০টি চেয়ার ও একটি ফিশ ফ্রাই দোকানের অনুমোদনের আবেদন করেছেন।

রাজনৈতিক সহায়তার বিষয়ে শফিউল আলমের অভিযোগ, বিএনপি তাদের পরিবারের তেমন খোঁজখবর রাখে না। তবে পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম ইকবাল হোসেন এই দাবি অস্বীকার করে বলেছেন, বিএনপি পরিবারের পাশে আছে এবং রাস্তাঘাট ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণসহ বিভিন্নভাবে সহায়তা করা হয়েছে।

ওয়াসিমের পরিবার এখন একমাত্র প্রত্যাশা করে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে এবং কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন। এছাড়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ওয়াসিমের বাবা।

শফিউল আলম বলেন, আমি কৃষিকাজ করি। চাষাবাদ করার পাশাপাশি ১২ একর জমিতে চিংড়িঘের রয়েছে। গত বছর লোকসান হলেও এবার ভালো ফলনের আশা করছি। তিনি বলেন, রিজিকের মালিক আল্লাহ। তিনিই আমাদের জীবিকার ব্যবস্থা করবেন।

চলতি বছরের ১৩ জুন কক্সবাজার সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পেকুয়ায় ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ কয়েকজন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

শোক কাটিয়ে নতুন দিনের আশায় শহীদ ওয়াসিমের পরিবার

আপডেট সময় : ১২:১৬:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
print news

জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় শহীদ হিসেবে পরিচিত ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামের পরিবার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছে। ছেলে হারানোর গভীর শোক কাটিয়ে পরিবারের সদস্যরা এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন। সরকারি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সহায়তায় তাদের অর্থনৈতিক সংকট অনেকটা কেটেছে, তবে ওয়াসিম হত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং পরিবারের এক সদস্যের সরকারি চাকরির দাবি এখনো পূরণ হয়নি।

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরারপাড়ার বাসিন্দা ওয়াসিম আকরাম ছিলেন বাবা-মায়ের তিন সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়। চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়াসিম কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে মুরাদপুর ফ্লাইওভারের নিচে সংঘর্ষের সময় ছুরিকাঘাতে তিনি নিহত হন। তার মৃত্যুর ঘটনা সরকারবিরোধী আন্দোলনকে আরও বেগবান করেছিল।

ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম জানান, শোকে মুহ্যমান হয়ে তিনি দীর্ঘ সময় ছেলের কবরের পাশেই কাটিয়েছেন। বর্তমানে তিনি কৃষিকাজ ও চিংড়িঘেরের আয়ের ওপর নির্ভর করছেন। ওয়াসিমের বড় ভাই আশেক আলী সৌদি আরব থেকে ফিরে বর্তমানে কর্মহীন। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তার জন্য একটি সরকারি চাকরির আবেদন করা হয়েছে। শফিউল আলমের ভাষ্যমতে, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কবর জিয়ারত করতে এসে চাকরির ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া ওয়াসিমের একমাত্র বোন সাবরিনার কাবিন সম্পন্ন হয়েছে এবং শিগগিরই তাকে শ্বশুরবাড়ি পাঠানো হবে।

সরকারি ও বিভিন্ন সংস্থা থেকে পরিবারটি প্রায় ৩০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দিয়েছেন। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আ. মান্নান এবং পেকুয়ার ইউএনও রফিকুল ইসলাম জানান, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে তারা প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা পাচ্ছেন। এছাড়া বাড়ির আঙিনায় রাস্তা ও একটি ছোট মসজিদ নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। তবে শফিউল আলমের মতে, মাসিক ভাতা দিয়ে পরিবারের ব্যয় মেটানো কঠিন, তাই তিনি কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের জন্য ২০টি চেয়ার ও একটি ফিশ ফ্রাই দোকানের অনুমোদনের আবেদন করেছেন।

রাজনৈতিক সহায়তার বিষয়ে শফিউল আলমের অভিযোগ, বিএনপি তাদের পরিবারের তেমন খোঁজখবর রাখে না। তবে পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম ইকবাল হোসেন এই দাবি অস্বীকার করে বলেছেন, বিএনপি পরিবারের পাশে আছে এবং রাস্তাঘাট ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণসহ বিভিন্নভাবে সহায়তা করা হয়েছে।

ওয়াসিমের পরিবার এখন একমাত্র প্রত্যাশা করে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে এবং কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন। এছাড়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ওয়াসিমের বাবা।

শফিউল আলম বলেন, আমি কৃষিকাজ করি। চাষাবাদ করার পাশাপাশি ১২ একর জমিতে চিংড়িঘের রয়েছে। গত বছর লোকসান হলেও এবার ভালো ফলনের আশা করছি। তিনি বলেন, রিজিকের মালিক আল্লাহ। তিনিই আমাদের জীবিকার ব্যবস্থা করবেন।

চলতি বছরের ১৩ জুন কক্সবাজার সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পেকুয়ায় ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ কয়েকজন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh