ঢাকা ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্বকাপের গ্যালারিতে আলো ছড়াচ্ছেন লামিন ইয়ামালের ছোট ভাই কেইন বিশ্বকাপ ফুটবলের সাফল্যে ট্রাম্পের প্রশংসায় ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো প্রবাসীদের পাসপোর্ট সেবা সহজ করতে বিশেষ উদ্যোগ বাংলাদেশ দূতাবাসের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত সহায়তা চলবে: অর্থমন্ত্রী টিস্যু কালচার প্রযুক্তিতে দেশে বাড়ছে উচ্চমূল্যের ফসলের চাষ ৮ জেলায় দুপুরের মধ্যে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস নিউইয়র্কে লেগো দিয়ে তৈরি ২৭ ফুট উঁচু বিশ্বকাপ ট্রফি সাংহাইতে ওয়ার্ল্ড এআই কনফারেন্সে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আর্জেন্টিনার জয়ের সঙ্গে বিয়ের সম্পর্ক কী? প্রশ্ন তানজিন তিশার শহীদদের আত্মত্যাগ জাতি কোনোদিন ভুলবে না: সোনারগাঁয়ে এমপি মান্নান

টিস্যু কালচার প্রযুক্তিতে দেশে বাড়ছে উচ্চমূল্যের ফসলের চাষ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

একসময় উচ্চমূল্যের এবং ফলনশীল চারার জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হতো, তবে প্রযুক্তির কল্যাণে সেই চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বর্তমানে জি-৯ কলা, এমডি-২ আনারস, জারবেরা, লিলিয়াম কিংবা অর্কিডের মতো উচ্চমূল্যের ফল ও ফুলের চারা এখন দেশেই সরকারি গবেষণাগারে উৎপাদিত হচ্ছে। আধুনিক টিস্যু কালচার প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি ক্ষুদ্র উদ্ভিদ টিস্যু থেকে অসংখ্য রোগমুক্ত চারা তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে, যা কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি উদ্যান ফসলের চাষ সম্প্রসারণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) উদ্যোগে পরিচালিত ‘টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্প’ দেশের উদ্যান খাতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। অধিদপ্তরের হর্টিকালচার উইংয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে মাদারীপুর, বগুড়া ও ময়মনসিংহে তিনটি সরকারি ল্যাব কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গত এক বছরে এসব ল্যাবে দুই লাখ ১২ হাজার ৩৮৭টি রোগমুক্ত চারা উৎপাদিত হয়েছে, যার মধ্যে এক লাখ ৯২ হাজার ৬৩৭টি চারা কৃষক, নার্সারি মালিক ও কৃষি উদ্যোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। উৎপাদনের দিক থেকে মাদারীপুর ল্যাব শীর্ষে রয়েছে, যেখানে ৯০ হাজার ২৩৭টি চারা উৎপন্ন হয়েছে। এছাড়া বগুড়ায় ৬২ হাজার ৫০০টি এবং ময়মনসিংহে ৫৯ হাজার ৬৫০টি চারা উৎপাদিত হয়েছে।

ল্যাবের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে কৃষিবিদ এনামুল হক জানান, উন্নত মাতৃগাছ থেকে সংগৃহীত শুট টিপ জীবাণুমুক্ত করে বিশেষ পুষ্টিমাধ্যমে স্থাপন করা হয়। কোষ বিভাজনের মাধ্যমে হাজার হাজার চারা উৎপাদন শেষে সেগুলোকে পলি হাউস ও হার্ডেনিং জোনে বাইরের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া হয়। এসব চারা মাতৃগাছের সব বৈশিষ্ট্য ধারণ করে এবং রোগমুক্ত হওয়ায় মাঠে অধিক ফলন দেয়। উদাহরণস্বরূপ, ভারত থেকে আমদানি করা জারবেরা চারার দাম যেখানে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, সেখানে দেশীয় ল্যাবে উৎপাদিত চারা মাত্র ৩০ টাকার কাছাকাছি পাওয়া যাচ্ছে।

প্রকল্পটি কেবল চারা উৎপাদনই নয়, বরং নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি ও নার্সারি শিল্পকে শক্তিশালী করতেও ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে বান্দরবানের বালাঘাটা, সাভারের রাজালাখ, কুমিল্লা, ভোলার চরফ্যাশন এবং টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে আরো পাঁচটি ল্যাব নির্মাণাধীন রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম বলেন, মানসম্মত ও রোগমুক্ত চারা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। প্রকল্প পরিচালক তালহা জুবাইর মাসরুর জানান, জি-৯ কলার ক্ষেত্রে টিস্যু কালচার চারা ব্যবহারে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষিবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এমএ রহিম এই প্রযুক্তির কার্যকারিতাকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত উল্লেখ করে বলেন, নির্মাণাধীন ল্যাবগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানিমুখী উদ্যান খাতের বিকাশেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

টিস্যু কালচার প্রযুক্তিতে দেশে বাড়ছে উচ্চমূল্যের ফসলের চাষ

আপডেট সময় : ০৭:৩৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
print news

একসময় উচ্চমূল্যের এবং ফলনশীল চারার জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হতো, তবে প্রযুক্তির কল্যাণে সেই চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বর্তমানে জি-৯ কলা, এমডি-২ আনারস, জারবেরা, লিলিয়াম কিংবা অর্কিডের মতো উচ্চমূল্যের ফল ও ফুলের চারা এখন দেশেই সরকারি গবেষণাগারে উৎপাদিত হচ্ছে। আধুনিক টিস্যু কালচার প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি ক্ষুদ্র উদ্ভিদ টিস্যু থেকে অসংখ্য রোগমুক্ত চারা তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে, যা কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি উদ্যান ফসলের চাষ সম্প্রসারণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) উদ্যোগে পরিচালিত ‘টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্প’ দেশের উদ্যান খাতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। অধিদপ্তরের হর্টিকালচার উইংয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে মাদারীপুর, বগুড়া ও ময়মনসিংহে তিনটি সরকারি ল্যাব কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গত এক বছরে এসব ল্যাবে দুই লাখ ১২ হাজার ৩৮৭টি রোগমুক্ত চারা উৎপাদিত হয়েছে, যার মধ্যে এক লাখ ৯২ হাজার ৬৩৭টি চারা কৃষক, নার্সারি মালিক ও কৃষি উদ্যোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। উৎপাদনের দিক থেকে মাদারীপুর ল্যাব শীর্ষে রয়েছে, যেখানে ৯০ হাজার ২৩৭টি চারা উৎপন্ন হয়েছে। এছাড়া বগুড়ায় ৬২ হাজার ৫০০টি এবং ময়মনসিংহে ৫৯ হাজার ৬৫০টি চারা উৎপাদিত হয়েছে।

ল্যাবের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে কৃষিবিদ এনামুল হক জানান, উন্নত মাতৃগাছ থেকে সংগৃহীত শুট টিপ জীবাণুমুক্ত করে বিশেষ পুষ্টিমাধ্যমে স্থাপন করা হয়। কোষ বিভাজনের মাধ্যমে হাজার হাজার চারা উৎপাদন শেষে সেগুলোকে পলি হাউস ও হার্ডেনিং জোনে বাইরের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া হয়। এসব চারা মাতৃগাছের সব বৈশিষ্ট্য ধারণ করে এবং রোগমুক্ত হওয়ায় মাঠে অধিক ফলন দেয়। উদাহরণস্বরূপ, ভারত থেকে আমদানি করা জারবেরা চারার দাম যেখানে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, সেখানে দেশীয় ল্যাবে উৎপাদিত চারা মাত্র ৩০ টাকার কাছাকাছি পাওয়া যাচ্ছে।

প্রকল্পটি কেবল চারা উৎপাদনই নয়, বরং নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি ও নার্সারি শিল্পকে শক্তিশালী করতেও ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে বান্দরবানের বালাঘাটা, সাভারের রাজালাখ, কুমিল্লা, ভোলার চরফ্যাশন এবং টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে আরো পাঁচটি ল্যাব নির্মাণাধীন রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম বলেন, মানসম্মত ও রোগমুক্ত চারা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। প্রকল্প পরিচালক তালহা জুবাইর মাসরুর জানান, জি-৯ কলার ক্ষেত্রে টিস্যু কালচার চারা ব্যবহারে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষিবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এমএ রহিম এই প্রযুক্তির কার্যকারিতাকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত উল্লেখ করে বলেন, নির্মাণাধীন ল্যাবগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানিমুখী উদ্যান খাতের বিকাশেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh