১৮ জুলাই: শাটডাউনে অচল দেশ, সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৩১
- আপডেট সময় : ০১:০৩:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সারা দেশে পালিত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল পুরো দেশ। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও তৎকালীন তথ্য অনুযায়ী, সেদিনের সহিংসতায় সাংবাদিকসহ অন্তত ৩১ জন নিহত এবং প্রায় দেড় হাজার মানুষ আহত হন।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রূপ নেয়। দিনভর রাজধানীর উত্তরা, মিরপুর, রামপুরা, যাত্রাবাড়ী, মহাখালী, বাড্ডা, নীলক্ষেত ও ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। একই চিত্র দেখা যায় দেশের বিভিন্ন জেলাতেও।
সহিংসতার এক পর্যায়ে রাজধানীর রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবনে অগ্নিসংযোগ করা হয়, যার ফলে এর সম্প্রচার সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ বক্স, থানা, টোল প্লাজা ও নানা সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার সারা দেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করে। ঢাকায় সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি রাত ৯টার পর দেশব্যাপী ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং রেল যোগাযোগও দীর্ঘ সময় ব্যাহত হয়।
তৎকালীন সরকার এই আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুললেও, আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বলপ্রয়োগের কারণেই পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে দাবি করেন। একই দিন সরকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ দেখালেও আন্দোলনকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করে কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। পরদিন গায়েবানা জানাজা ও শাটডাউন কর্মসূচি পালনের ডাক দেওয়া হয়। মূলত সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের হাইকোর্টের রায়কে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন ধারাবাহিক কর্মসূচি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে নতুন মোড় নিয়েছিল।



























