ঢাকা ০২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আরপিএমপি তাজহাট থানা পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে নাসিমা ওরফে বুন্দি গ্রেফতার সৈয়দপুরে নষ্ট হচ্ছে রেলওয়ের ট্যাংক, মোটর, পাইপসহ ১৫০ কোটি টাকার সরঞ্জাম আগস্টের মাঝামাঝি থেকে প্রবাসীদের জন্য চালু হচ্ছে বিশেষ প্রবাসী কার্ড মিরসরাইয়ে ৩৬৬ কোটি টাকা বিনিয়োগে বস্ত্র কারখানা করবে চীনা কোম্পানি গণভোটের রায় না মানলে সরকারকেও ব্যর্থ করা হবে: জামায়াত আমির আর্জেন্টিনাকে ‘ঝামেলার প্রতিপক্ষ’ বললেন স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী কোচ দেল বস্ক প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে দেশে গুণগত পরিবর্তনের ধারা শুরু: প্রেস সচিব আগামী মাসেই প্রবাসী কার্ডের পরীক্ষামূলক যাত্রা, মিলবে ১০ বিশেষ সুবিধা নেতৃত্বে বাংলাদেশ না থাকলে তিনি কিসের নেতা, প্রশ্ন রিজভীর অর্থনীতিই বাংলাদেশের কূটনীতির মূল ভিত্তি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

মুমিনের ঈমান যেভাবে বৃদ্ধি পায় ও শক্তিশালী হয়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

আভিধানিক অর্থে ঈমান বলতে বোঝায় বিশ্বাস করা, স্বীকার করা এবং আস্থা স্থাপন করা। শরিয়তের পরিভাষায়, মহানবী (সা.) আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে দ্বীন হিসেবে যা কিছু নিয়ে এসেছেন, তা মনেপ্রাণে গ্রহণ করা এবং দৃঢ়প্রত্যয়ের সঙ্গে মেনে নেওয়াই হলো ঈমান। ঈমানদার ব্যক্তি চিরস্থায়ী জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে, অথচ ঈমানহীন বা কাফেররা জাহান্নামের আগুনে অনন্তকাল জ্বলবে।

কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে ঈমান বৃদ্ধির উপায় ও এর লক্ষণ বর্ণিত হয়েছে। সুরা তওবা-এর ১২৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যখন কোনো সুরা অবতীর্ণ হয়, তখন মুমিনদের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং তারা আনন্দিত হয়। একইভাবে সুরা আনফালের ২ নম্বর আয়াতে উল্লেখ আছে যে, যখন তাদের সামনে কোরআনের আয়াত তিলাওয়াত করা হয়, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায়। এর অর্থ হলো, কোরআনের মর্মার্থ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা এবং সে অনুযায়ী আমল করলে ঈমানের নূর ও শক্তি বৃদ্ধি পায়। তাফসিরে মাজহারিতে আলি (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, ঈমান যখন অন্তরে প্রবেশ করে, তখন তা একটি শ্বেত বিন্দুর মতো দেখায়; এরপর উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে সেই বিন্দু সম্প্রসারিত হয়ে পুরো অন্তর আলোয় ভরিয়ে দেয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ঈমানের সত্তরের ওপর শাখা রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোত্তম শাখা হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু' বলা, আর সর্বনিম্ন শাখা হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া। এছাড়া লজ্জাশীলতাকেও ঈমানের অন্যতম শাখা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। মুমিনের জন্য নবীজি (সা.)-এর জীবন অনুসরণ অপরিহার্য, কারণ তিনি সর্বোত্তম চরিত্রের মডেল। সুরা আলে ইমরানের ৩১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও, তবে আমাকে অনুসরণ করো; এতে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং অপরাধ ক্ষমা করে দেবেন।

ঈমানকে মজবুত করার জন্য ইসলামের বিধি-বিধান ও আকিদা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন এবং তা পালন করা জরুরি। সুরা হুজুরাতের ৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মুমিনদের হৃদয়ে ঈমানকে প্রিয় করে দিয়েছেন এবং তা সুশোভিত করেছেন। এছাড়া 'ইহসান' ঈমান বৃদ্ধিতে সহায়ক। বোখারি শরিফের ৫০ নম্বর হাদিসে নবীজি (সা.) ইহসানের ব্যাখ্যায় বলেছেন, আপনি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবেন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন, আর যদি তাঁকে দেখতে না পান তবে মনে করবেন তিনি আপনাকে দেখছেন।

কোরআনে আছে, ‘যখন তাদের নিকট কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করা হয়, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায়।’ (সুরা আনফাল : ২)। এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত, তা মর্মার্থ সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা এবং সে অনুযায়ী আমল করার ফলে ঈমানের উন্নতি অগ্রগতি ঘটে; অর্থাৎ ঈমানের নূর, আস্বাদ ও শক্তি বৃদ্ধি পায়। আলি (রা.) বলেন, ‘যখন ঈমান অন্তরে প্রব

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ঈমানের সত্তরের ওপর শাখা আছে। তন্মধ্যে সর্বোত্তম শাখা হলো, (দিলের বিশ্বাসের সাথে) লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলা এবং সর্বনিম্ন শাখা হলো, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে দেয়া। আর লজ্জাশীলতা ঈমানের একটি অন্যতম শাখা।’ (মুসলিম : ১/৪৭)

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

মুমিনের ঈমান যেভাবে বৃদ্ধি পায় ও শক্তিশালী হয়

আপডেট সময় : ১১:০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
print news

আভিধানিক অর্থে ঈমান বলতে বোঝায় বিশ্বাস করা, স্বীকার করা এবং আস্থা স্থাপন করা। শরিয়তের পরিভাষায়, মহানবী (সা.) আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে দ্বীন হিসেবে যা কিছু নিয়ে এসেছেন, তা মনেপ্রাণে গ্রহণ করা এবং দৃঢ়প্রত্যয়ের সঙ্গে মেনে নেওয়াই হলো ঈমান। ঈমানদার ব্যক্তি চিরস্থায়ী জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে, অথচ ঈমানহীন বা কাফেররা জাহান্নামের আগুনে অনন্তকাল জ্বলবে।

কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে ঈমান বৃদ্ধির উপায় ও এর লক্ষণ বর্ণিত হয়েছে। সুরা তওবা-এর ১২৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যখন কোনো সুরা অবতীর্ণ হয়, তখন মুমিনদের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং তারা আনন্দিত হয়। একইভাবে সুরা আনফালের ২ নম্বর আয়াতে উল্লেখ আছে যে, যখন তাদের সামনে কোরআনের আয়াত তিলাওয়াত করা হয়, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায়। এর অর্থ হলো, কোরআনের মর্মার্থ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা এবং সে অনুযায়ী আমল করলে ঈমানের নূর ও শক্তি বৃদ্ধি পায়। তাফসিরে মাজহারিতে আলি (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, ঈমান যখন অন্তরে প্রবেশ করে, তখন তা একটি শ্বেত বিন্দুর মতো দেখায়; এরপর উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে সেই বিন্দু সম্প্রসারিত হয়ে পুরো অন্তর আলোয় ভরিয়ে দেয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ঈমানের সত্তরের ওপর শাখা রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোত্তম শাখা হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু' বলা, আর সর্বনিম্ন শাখা হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া। এছাড়া লজ্জাশীলতাকেও ঈমানের অন্যতম শাখা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। মুমিনের জন্য নবীজি (সা.)-এর জীবন অনুসরণ অপরিহার্য, কারণ তিনি সর্বোত্তম চরিত্রের মডেল। সুরা আলে ইমরানের ৩১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও, তবে আমাকে অনুসরণ করো; এতে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং অপরাধ ক্ষমা করে দেবেন।

ঈমানকে মজবুত করার জন্য ইসলামের বিধি-বিধান ও আকিদা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন এবং তা পালন করা জরুরি। সুরা হুজুরাতের ৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মুমিনদের হৃদয়ে ঈমানকে প্রিয় করে দিয়েছেন এবং তা সুশোভিত করেছেন। এছাড়া 'ইহসান' ঈমান বৃদ্ধিতে সহায়ক। বোখারি শরিফের ৫০ নম্বর হাদিসে নবীজি (সা.) ইহসানের ব্যাখ্যায় বলেছেন, আপনি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবেন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন, আর যদি তাঁকে দেখতে না পান তবে মনে করবেন তিনি আপনাকে দেখছেন।

কোরআনে আছে, ‘যখন তাদের নিকট কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করা হয়, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায়।’ (সুরা আনফাল : ২)। এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত, তা মর্মার্থ সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা এবং সে অনুযায়ী আমল করার ফলে ঈমানের উন্নতি অগ্রগতি ঘটে; অর্থাৎ ঈমানের নূর, আস্বাদ ও শক্তি বৃদ্ধি পায়। আলি (রা.) বলেন, ‘যখন ঈমান অন্তরে প্রব

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ঈমানের সত্তরের ওপর শাখা আছে। তন্মধ্যে সর্বোত্তম শাখা হলো, (দিলের বিশ্বাসের সাথে) লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলা এবং সর্বনিম্ন শাখা হলো, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে দেয়া। আর লজ্জাশীলতা ঈমানের একটি অন্যতম শাখা।’ (মুসলিম : ১/৪৭)

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh