ঢাকা ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীদের জন্য বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা ও প্রাণহানির ঝুঁকি ইসলামের দৃষ্টিতে কথা বলার আদব ও শিষ্টাচার গোপনে আবুধাবি সফরে নেতানিয়াহু, বৈঠক আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্ক সুন্দর ও দৃঢ় করতে সালামের গুরুত্ব অপরিসীম আশুলিয়ায় উচ্ছেদ অভিযানে আনসার-হকার সংঘর্ষ, আহত ৪ শরীয়তপুর পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে তালা ভেঙে ল্যাপটপ ও ট্যাব চুরি এইচএসসি উত্তীর্ণদের শিক্ষাবৃত্তি দেবে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন আজকের পর্দায় বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর ম্যাচসহ নেশন্স লিগের ফুটবল লড়াই কাশীয়ানীতে ১৯৮ ইয়াবাসহ ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার ট্রাম্প-শি বৈঠকে সমঝোতা না হলেও যুক্তরাষ্ট্রে আসবে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি

ইসলামে দাড়ি রাখা কেন জরুরি: কোরআন ও হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:১৬:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ৬০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ইসলাম ধর্মে দাড়ি রাখাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান হিসেবে গণ্য করা হয়, যা একজন মুসলিমের স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করে। আধুনিক সমাজে কেউ কেউ এটিকে ঐচ্ছিক মনে করলেও, পবিত্র কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা অনুসারে দাড়ি রাখার বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আবশ্যকীয়।

দাড়ি রাখা কেবল সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নতই নয়, বরং এটি তাঁর পূর্ববর্তী নবী-রাসুলদেরও একটি স্বীকৃত রীতি ছিল। পবিত্র কোরআনে নবী হারুনের (আ.) দাড়ি রাখার উল্লেখ রয়েছে, যখন তিনি তাঁর ভাই নবী মুসাকে (আ.) উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘হে আমার সহোদর, আমার দাড়ি ও মাথার চুল ধরো না।’ (সুরা ত্বহা, আয়াত: ৯৪)। এই আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, দাড়ি নবীদের একটি স্বাভাবিক ও স্বীকৃত বৈশিষ্ট্য ছিল।

দাড়ি রাখার ব্যাপারে পবিত্র হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়। নবীজি (সা.) নিজে দাড়ি রাখতেন এবং তাঁর উম্মতকে দাড়ি লম্বা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘মোচ কাটো এবং দাড়ি ছেড়ে দাও (লম্বা করো), আর অগ্নিপূজকদের বিপরীত আচরণ করো।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬০)। এই নির্দেশনার মাধ্যমে ইসলামি শরিয়তে দাড়ি রাখা একটি স্বতন্ত্র পরিচয় ও রীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

দাড়ি ইসলামের শিআর বা পরিচয়চিহ্ন হিসেবে বিবেচিত হয়। যেহেতু এটি সকল নবীর পবিত্র রীতি ছিল, তাই একে ‘সুন্নত’ বলা হয়। তবে এটি সাধারণ ঐচ্ছিক সুন্নতের মতো নয়, বরং ‘সুন্নাতে ওয়াজিবা’ হিসেবে গণ্য, যা সুন্নাতে মুআক্কাদা অপেক্ষাও অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং যা পরিত্যাগ করলে পাপ হতে পারে। ইসলামি ফিকহশাস্ত্র অনুযায়ী, দাড়ি রাখার সর্বনিম্ন পরিমাণ হলো এক মুষ্টি। এর কম দাড়ি কাটা সকল ইমামের ঐকমত্যে নিষিদ্ধ।

  • **সুন্নতের অনুসরণ:** দাড়ি রাখার মাধ্যমে মুসলিমরা রাসুল (সা.) ও পূর্ববর্তী নবীদের সুন্নতকে জীবনে বাস্তবায়ন করে, যা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয় তোমাদের জন্য রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।’ (সুরা আহজাব, আয়াত: ২১)২.
  • **রাসুলের আদেশ মান্য:** দাড়ি রাখা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশ মান্য করার একটি দৃশ্যমান প্রকাশ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমি যখন তোমাদের কোনো ব্যাপারে নিষেধ করি, তখন তা থেকে বেঁচে থাকো। আর যখন কোনো বিষয়ে আদেশ করি, তখন সাধ্যানুযায়ী তা পালন করো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭২৮৮)৩.
  • **অন্যান্য জাতি থেকে স্বাতন্ত্র্য:** দাড়ি রাখার মাধ্যমে একজন মুসলিম মুশরিক ও অন্যান্য জাতি থেকে নিজেকে পৃথক রাখে, যা নবীজির সুস্পষ্ট নির্দেশ। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা মুশরিকদের উল্টো করবে—দাড়ি লম্বা রাখবে, গোঁফ ছোট করবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৮৯২)৪.
  • **পাপ থেকে সুরক্ষা:** মুখে দাড়ি থাকলে একজন মানুষ স্বভাবতই অনেক অন্যায়, অশ্লীল বা পাপের কাজ থেকে লজ্জাবোধ করে দূরে থাকে, আর লজ্জা ইমানের একটি অংশ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘ইমানের ষাটেরও অধিক শাখা আছে। আর লজ্জা হচ্ছে ইমানের একটি শাখা।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯)৫.
  • **শহীদের সমপরিমাণ সওয়াব:** বর্তমান সময়ে ভিন্নধর্মীদের অনুকরণ মুসলিমদের মাঝে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এমন নাজুক সময়ে যে নবীজির সুন্নত পালনকারীর জন্য রয়েছে মহা সুসংবাদ। হাদিসে এসেছে, ‘আমার উম্মতের ফাসাদের সময় যে আমার সুন্নতকে ধারণ করবে, সে শহীদের মর্যাদা লাভ করবে।’ (তাবরানি, হাদিস ৫৪১৪)৬.
  • **নবীজির চেহারার সঙ্গে সাদৃশ্য:** একজন মুমিনের জন্য এর চেয়ে বড় সৌভাগ্য আর কী হতে পারে যে তার চেহারা প্রিয় নবীজির চেহারার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হবে! তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪০৩১)৭.

সুতরাং, দাড়ি রাখা ইসলামি শরিয়তে একটি স্বীকৃত সুন্নত এবং মুসলিম পরিচয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা পালনের মাধ্যমে একজন মুসলিম আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে এবং নবীজির সান্নিধ্যের আশা করতে পারে।

(আনওয়ার শাহ কাশ্মিরি, ফাইজুল বারি শারহু বুখারি, ৬/৯৯, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ২০০৫).দাড়ি ইসলামি শরিয়তে একটি স্বীকৃত সুন্নত ও মুসলিম পরিচয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

আর যে আমাকে ভালোবাসল, সে জান্নাতে আমার সঙ্গে থাকবে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৬৭৮).ঘর থেকে বের হওয়ার সুন্নাহ পদ্ধতি

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসলামে দাড়ি রাখা কেন জরুরি: কোরআন ও হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা

আপডেট সময় : ০৫:১৬:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

ইসলাম ধর্মে দাড়ি রাখাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান হিসেবে গণ্য করা হয়, যা একজন মুসলিমের স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করে। আধুনিক সমাজে কেউ কেউ এটিকে ঐচ্ছিক মনে করলেও, পবিত্র কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা অনুসারে দাড়ি রাখার বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আবশ্যকীয়।

দাড়ি রাখা কেবল সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নতই নয়, বরং এটি তাঁর পূর্ববর্তী নবী-রাসুলদেরও একটি স্বীকৃত রীতি ছিল। পবিত্র কোরআনে নবী হারুনের (আ.) দাড়ি রাখার উল্লেখ রয়েছে, যখন তিনি তাঁর ভাই নবী মুসাকে (আ.) উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘হে আমার সহোদর, আমার দাড়ি ও মাথার চুল ধরো না।’ (সুরা ত্বহা, আয়াত: ৯৪)। এই আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, দাড়ি নবীদের একটি স্বাভাবিক ও স্বীকৃত বৈশিষ্ট্য ছিল।

দাড়ি রাখার ব্যাপারে পবিত্র হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়। নবীজি (সা.) নিজে দাড়ি রাখতেন এবং তাঁর উম্মতকে দাড়ি লম্বা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘মোচ কাটো এবং দাড়ি ছেড়ে দাও (লম্বা করো), আর অগ্নিপূজকদের বিপরীত আচরণ করো।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬০)। এই নির্দেশনার মাধ্যমে ইসলামি শরিয়তে দাড়ি রাখা একটি স্বতন্ত্র পরিচয় ও রীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

দাড়ি ইসলামের শিআর বা পরিচয়চিহ্ন হিসেবে বিবেচিত হয়। যেহেতু এটি সকল নবীর পবিত্র রীতি ছিল, তাই একে ‘সুন্নত’ বলা হয়। তবে এটি সাধারণ ঐচ্ছিক সুন্নতের মতো নয়, বরং ‘সুন্নাতে ওয়াজিবা’ হিসেবে গণ্য, যা সুন্নাতে মুআক্কাদা অপেক্ষাও অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং যা পরিত্যাগ করলে পাপ হতে পারে। ইসলামি ফিকহশাস্ত্র অনুযায়ী, দাড়ি রাখার সর্বনিম্ন পরিমাণ হলো এক মুষ্টি। এর কম দাড়ি কাটা সকল ইমামের ঐকমত্যে নিষিদ্ধ।

  • **সুন্নতের অনুসরণ:** দাড়ি রাখার মাধ্যমে মুসলিমরা রাসুল (সা.) ও পূর্ববর্তী নবীদের সুন্নতকে জীবনে বাস্তবায়ন করে, যা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয় তোমাদের জন্য রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।’ (সুরা আহজাব, আয়াত: ২১)২.
  • **রাসুলের আদেশ মান্য:** দাড়ি রাখা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশ মান্য করার একটি দৃশ্যমান প্রকাশ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমি যখন তোমাদের কোনো ব্যাপারে নিষেধ করি, তখন তা থেকে বেঁচে থাকো। আর যখন কোনো বিষয়ে আদেশ করি, তখন সাধ্যানুযায়ী তা পালন করো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭২৮৮)৩.
  • **অন্যান্য জাতি থেকে স্বাতন্ত্র্য:** দাড়ি রাখার মাধ্যমে একজন মুসলিম মুশরিক ও অন্যান্য জাতি থেকে নিজেকে পৃথক রাখে, যা নবীজির সুস্পষ্ট নির্দেশ। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা মুশরিকদের উল্টো করবে—দাড়ি লম্বা রাখবে, গোঁফ ছোট করবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৮৯২)৪.
  • **পাপ থেকে সুরক্ষা:** মুখে দাড়ি থাকলে একজন মানুষ স্বভাবতই অনেক অন্যায়, অশ্লীল বা পাপের কাজ থেকে লজ্জাবোধ করে দূরে থাকে, আর লজ্জা ইমানের একটি অংশ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘ইমানের ষাটেরও অধিক শাখা আছে। আর লজ্জা হচ্ছে ইমানের একটি শাখা।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯)৫.
  • **শহীদের সমপরিমাণ সওয়াব:** বর্তমান সময়ে ভিন্নধর্মীদের অনুকরণ মুসলিমদের মাঝে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এমন নাজুক সময়ে যে নবীজির সুন্নত পালনকারীর জন্য রয়েছে মহা সুসংবাদ। হাদিসে এসেছে, ‘আমার উম্মতের ফাসাদের সময় যে আমার সুন্নতকে ধারণ করবে, সে শহীদের মর্যাদা লাভ করবে।’ (তাবরানি, হাদিস ৫৪১৪)৬.
  • **নবীজির চেহারার সঙ্গে সাদৃশ্য:** একজন মুমিনের জন্য এর চেয়ে বড় সৌভাগ্য আর কী হতে পারে যে তার চেহারা প্রিয় নবীজির চেহারার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হবে! তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪০৩১)৭.

সুতরাং, দাড়ি রাখা ইসলামি শরিয়তে একটি স্বীকৃত সুন্নত এবং মুসলিম পরিচয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা পালনের মাধ্যমে একজন মুসলিম আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে এবং নবীজির সান্নিধ্যের আশা করতে পারে।

(আনওয়ার শাহ কাশ্মিরি, ফাইজুল বারি শারহু বুখারি, ৬/৯৯, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ২০০৫).দাড়ি ইসলামি শরিয়তে একটি স্বীকৃত সুন্নত ও মুসলিম পরিচয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

আর যে আমাকে ভালোবাসল, সে জান্নাতে আমার সঙ্গে থাকবে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৬৭৮).ঘর থেকে বের হওয়ার সুন্নাহ পদ্ধতি

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo