ডাল-ভাতের লাইনে দাঁড়িয়ে দেয়ালচাপা মৃত্যু: দায় কার?
- আপডেট সময় : ০৫:৫৯:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পাশে নিয়মিত টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হয়। গত মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে টিসিবির পণ্য কিনতে আসা মানুষগুলোর ওপর কলেজের একটি দেয়াল ধসে পড়ে। এতে নাসিমা বেগমসহ (৪৪) তিনজন নিহত হয়েছেন। নাসিমা বেগম তার কর্মস্থলের খাবারের বিরতিতে বাসার জন্য পণ্য কিনতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। এই ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনাটি জার্মান তাত্ত্বিক হান্না আরেন্ডের 'ব্যানালিটি অব এভিল' বা অপকর্মের স্বাভাবিকীকরণ ধারণার কথা মনে করিয়ে দেয়। কোনো একক ব্যক্তিকে দায়ী না করে গোটা ব্যবস্থাকে কাঠামোগত ত্রুটির জন্য দায়ী করা হয়। টিসিবির লাইনে পণ্য কিনতে আসা মানুষগুলো মূলত 'প্রিকারিয়েত' বা অনিশ্চিত শ্রমজীবী শ্রেণির। তাঁদের জীবন ও মৃত্যু উভয়ই যেন এই ব্যবস্থায় উপেক্ষিত।
সমাজবিজ্ঞানীরা এ ধরনের মৃত্যুকে 'স্ট্রাকচারাল মার্ডার' বা কাঠামোগত হত্যা বলে অভিহিত করেন। ঢাকা শহরে নিয়মিত বিরতিতে দেয়ালধস, অগ্নিকাণ্ড বা মেট্রোরেলের বিয়ারিং মাথায় পড়ার মতো ঘটনা ঘটছে। লেখক এই শহরকে এখন 'জিন্দা-লাশ' বা অ-জীবিত শহর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যেখানে বেঁচে থাকাটা যেকোনো সময়ের জন্য অনিশ্চিত।
নাগরিকের জানমাল রক্ষা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। টিসিবির পণ্য বিতরণের মতো সেবাকে কেবল একটি কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শহরকে বসবাসযোগ্য করে তোলা জরুরি। অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। মানুষের জীবনের মূল্য সরকারের কাছে অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত, যাতে আর কোনো নাগরিককে এভাবে অপমৃত্যুর শিকার হতে না হয়।




























