ঢাকা ১০:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দৃশ্যম ৩-এর সাফল্য ও শতকোটি রুপির সম্পদ: অনন্য শ্রিয়া সরন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী সৃষ্টি ‘ভানু পেল লটারি’ আওয়ামী লীগ নেতাকে প্রত্যয়ন: বিএনপির দুই নেতার পদ স্থগিত ২২ দিন মেঘনায় মাছ ধরা বন্ধ, ৪২ হাজার জেলে পাবেন চাল ফুলপুরে ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর কন্যাসন্তান জন্ম, পিতৃত্বের স্বীকৃতি দাবি কঙ্গো নদীতে দুই নৌকার সংঘর্ষে ২২ জনের মৃত্যু মহেশখালীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত কলেজছাত্রের মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ শাহজালাল বিমানবন্দরে জুতায় লুকানো ১৬ কোটি টাকার স্বর্ণ উদ্ধার টেসলা ও মার্সিডিজের চেয়েও মাল্টা আমদানিতে শুল্ক বেশি বাংলাদেশে ঝিনাইদহে পোলট্রি খামারের দুর্গন্ধে শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে গাছতলায় পাঠদান

ঝিনাইদহে পোলট্রি খামারের দুর্গন্ধে শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে গাছতলায় পাঠদান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারপাকিয়া দাখিল মাদরাসার পাশে গড়ে ওঠা একটি পোলট্রি খামারের তীব্র দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। দুর্গন্ধে শ্রেণিকক্ষে বসে ক্লাস করা অসম্ভব হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে গাছতলায় পাঠদান করাতে হচ্ছে শিক্ষকদের। এর ফলে মাদরাসার স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বারপাকিয়া গ্রামের মলিনা বেগম নামে এক নারী তাঁর নিজ বাড়িতে এই পোলট্রি খামারটি গড়ে তুলেছেন। মাদরাসার একেবারে কাছাকাছি হওয়ায় খামারের বর্জ্য ও মুরগির তীব্র গন্ধ সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ছে। এর প্রভাবে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতির হারও আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুরসালি জানায়, শ্রেণিকক্ষে দুর্গন্ধে টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। এমন দমবন্ধ করা পরিবেশে পড়াশোনা করা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট আবুল কালাম আজাদ জানান, এই সমস্যা সমাধানের জন্য তাঁরা কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) শরণাপন্ন হয়েছিলেন। ইউএনওর পরামর্শ অনুযায়ী তাঁরা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সামাজিক পর্যায়েও বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে তাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন। দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকভাবে ক্লাস করানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে খামারের মালিক মলিনা বেগম দাবি করেন, তিনি তাঁর বাড়িতে সীমিত আকারে পোলট্রি পালন করেন। এক মাস বয়স হলেই মুরগিগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি অনুযায়ী, প্রথম ২০ দিন খামারে তেমন কোনো দুর্গন্ধ থাকে না। শেষের ১০ দিন কিছুটা গন্ধ ছড়ায়। এই সামান্য সময়টুকু মাদরাসার শিক্ষার্থীরা কেন সহ্য করতে পারছে না, তা নিয়ে উল্টো প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে স্থানীয় অভিভাবক ও পথচারীরা বলছেন ভিন্ন কথা। অভিভাবকদের মতে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে এমন খামার থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দুর্গন্ধের কারণে শুধু শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাই ব্যাহত হচ্ছে না, বরং পথচারীদের চলাচলও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তাঁরা দ্রুত খামারটি অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, মাদরাসার শিক্ষকরা তাঁর কাছে এসেছিলেন এবং বিষয়টি অবগত করেছেন। বর্তমানে বিষয়টি কী অবস্থায় রয়েছে তা খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কমল কুমার বর্মন আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি দ্রুত ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করবেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

ঝিনাইদহে পোলট্রি খামারের দুর্গন্ধে শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে গাছতলায় পাঠদান

আপডেট সময় : ০৯:০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারপাকিয়া দাখিল মাদরাসার পাশে গড়ে ওঠা একটি পোলট্রি খামারের তীব্র দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। দুর্গন্ধে শ্রেণিকক্ষে বসে ক্লাস করা অসম্ভব হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে গাছতলায় পাঠদান করাতে হচ্ছে শিক্ষকদের। এর ফলে মাদরাসার স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বারপাকিয়া গ্রামের মলিনা বেগম নামে এক নারী তাঁর নিজ বাড়িতে এই পোলট্রি খামারটি গড়ে তুলেছেন। মাদরাসার একেবারে কাছাকাছি হওয়ায় খামারের বর্জ্য ও মুরগির তীব্র গন্ধ সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ছে। এর প্রভাবে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতির হারও আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুরসালি জানায়, শ্রেণিকক্ষে দুর্গন্ধে টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। এমন দমবন্ধ করা পরিবেশে পড়াশোনা করা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট আবুল কালাম আজাদ জানান, এই সমস্যা সমাধানের জন্য তাঁরা কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) শরণাপন্ন হয়েছিলেন। ইউএনওর পরামর্শ অনুযায়ী তাঁরা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সামাজিক পর্যায়েও বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে তাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন। দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকভাবে ক্লাস করানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে খামারের মালিক মলিনা বেগম দাবি করেন, তিনি তাঁর বাড়িতে সীমিত আকারে পোলট্রি পালন করেন। এক মাস বয়স হলেই মুরগিগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি অনুযায়ী, প্রথম ২০ দিন খামারে তেমন কোনো দুর্গন্ধ থাকে না। শেষের ১০ দিন কিছুটা গন্ধ ছড়ায়। এই সামান্য সময়টুকু মাদরাসার শিক্ষার্থীরা কেন সহ্য করতে পারছে না, তা নিয়ে উল্টো প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে স্থানীয় অভিভাবক ও পথচারীরা বলছেন ভিন্ন কথা। অভিভাবকদের মতে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে এমন খামার থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দুর্গন্ধের কারণে শুধু শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাই ব্যাহত হচ্ছে না, বরং পথচারীদের চলাচলও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তাঁরা দ্রুত খামারটি অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, মাদরাসার শিক্ষকরা তাঁর কাছে এসেছিলেন এবং বিষয়টি অবগত করেছেন। বর্তমানে বিষয়টি কী অবস্থায় রয়েছে তা খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কমল কুমার বর্মন আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি দ্রুত ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করবেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh