ঝিনাইগাতীতে কালভার্ট ভেঙে চরম জনদুর্ভোগ, ঝুঁকি নিয়ে চলছে চলাচল
- আপডেট সময় : ০৯:০১:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ভারুয়া কুশাইকুড়া সড়কের একটি কালভার্ট ভেঙে পড়ায় স্থানীয় কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। ২০২৪ সালের বন্যায় পাহাড়ি ঢলের তোড়ে কালভার্টটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করলেও সেটিও সম্প্রতি ভেঙে পড়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয়রা জানান, ভারুয়া ও কুশাইকুড়াসহ আশপাশের গ্রামের প্রায় তিন হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। কালভার্ট ও সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় এখন ইজিবাইক, রিকশা ও ভ্যানসহ সাধারণ মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বৃদ্ধ, অসুস্থ ব্যক্তি, শিক্ষক এবং স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের চলাচলের ক্ষেত্রে মারাত্মক সমস্যা তৈরি হয়েছে। সাঁকো পার হতে গিয়ে ইতোমধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও বয়স্ক ব্যক্তি পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন।
কুশাইকুড়া গ্রামের বাসিন্দা সুমন মিয়া জানান, বন্যায় সড়কের মাঝখানে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দেয়। ওই এলাকায় আগে পানি নিষ্কাশনের জন্য তিনটি কালভার্ট, একটি ব্রিজ ও একটি ইউড্রেন ছিল, যার সবগুলোই এখন নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে বর্ষার সময় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে এবং কৃষিজমি ও ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আব্দুল করিম নামে আরেক বাসিন্দা জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সড়কের আরও কিছু অংশ এবং ইউড্রেনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভয়েস অব ঝিনাইগাতীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জাহিদুল হক মনির জানান, নলকুড়া ইউনিয়নের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দিয়ে স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। তিনি দ্রুত সেখানে একটি বক্স কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানান। নলকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুকুনুজ্জামান জানিয়েছেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে এবং সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করা প্রয়োজন।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন জানান, ভারুয়া-কুশাইকুড়া সড়কের এই ভাঙা কালভার্টের বিষয়টি ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। জনস্বার্থ বিবেচনায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।


























