ঢাকা ১২:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দুই দিনের সফরে পাকিস্তানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস রাজধানীতে চার দিনে ৪১ চাঁদাবাজ গ্রেপ্তার মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের যৌথ সামরিক শক্তি কত? পঞ্চগড়ে সাবেক এমপি নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তা গ্রেপ্তার সৌদি আরবে ফেনীর প্রবাসী যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই রাজ্যের নাম হবে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ মনুমেন্তাল ও মেসির ভালোবাসার গল্প: শেষবারের মতো নামছেন জাদুকর ভারতের ছয় আসনে উপনির্বাচন, চলছে ভোটগ্রহণ আবারও ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক, বাড়ল টেসলা-স্পেসএক্সের শেয়ারের দর দেশে নিয়ন্ত্রণহীন অনলাইন জুয়ার ৮ হাব, মাস্টারমাইন্ডরা বিদেশে

কিশোরগঞ্জে হিমাগারের অতিরিক্ত ভাড়ায় দিশেহারা আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৮:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা বর্তমানে চরম সংকটের মুখে পড়েছেন। হিমাগারে আলু সংরক্ষণের জন্য সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে মালিকদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কৌশলে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বাজারে আলুর দাম আশঙ্কাজনকভাবে কম থাকায় উৎপাদন খরচ তোলাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে কয়েক কোটি টাকার লোকসানের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলু উৎপাদন থেকে শুরু করে হিমাগারে সংরক্ষণ পর্যন্ত প্রতি কেজিতে চাষিদের খরচ হয়েছে ২২ থেকে ২৪ টাকা। অথচ বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৫ থেকে ১৬ টাকায়। হিমাগারে সংরক্ষিত বীজ আলুর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ; সেখানে প্রতি কেজি বীজ আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১৫ টাকা দরে।

চাষিদের অভিযোগ, লোকসানের এই পরিস্থিতির মধ্যে হিমাগার মালিকরা সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। সরকার প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের জন্য ছয় টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে দিলেও, হিমাগার কর্তৃপক্ষ বস্তা প্রতি (৫৫-৬০ কেজি) ৪০০ থেকে ৪১০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে, যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিকার চেয়ে সোহেল রানা নামে এক ভুক্তভোগী কৃষক কিশোরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তা হিমাগারে বস্তা প্রতি ৩০০ টাকা চুক্তিতে ১৫০ বস্তা আলু সংরক্ষণ করেছিলেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি ৩৫ বস্তা আলু খালাস করতে গেলে হিমাগার কর্তৃপক্ষ জোরপূর্বক বস্তা প্রতি ৪১০ টাকা করে আদায় করে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ। একই হিমাগারে আলু রাখা পুটিমারী ইউনিয়নের চাষি সানার আলী এবং ক্ষুদ্র চাষি আনারুল ইসলামও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন জানান, গত তিন বছর ধরে লোকসান গুনছেন এবং এবারও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

অভিযোগের বিষয়ে মুক্তা হিমাগারের ম্যানেজার হামিদুল ইসলাম বলেন, মালিকপক্ষ যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছে, তারা সেভাবেই কাজ করছেন। কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আব্দুল কুদ্দুছ লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, তদন্তসাপেক্ষ এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম জানিয়েছেন, বিষয়টি মূলত কৃষি বিপণন অধিদপ্তর দেখে থাকে, তবে তারা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

কিশোরগঞ্জে হিমাগারের অতিরিক্ত ভাড়ায় দিশেহারা আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা

আপডেট সময় : ০৮:৫৮:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা বর্তমানে চরম সংকটের মুখে পড়েছেন। হিমাগারে আলু সংরক্ষণের জন্য সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে মালিকদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কৌশলে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বাজারে আলুর দাম আশঙ্কাজনকভাবে কম থাকায় উৎপাদন খরচ তোলাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে কয়েক কোটি টাকার লোকসানের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলু উৎপাদন থেকে শুরু করে হিমাগারে সংরক্ষণ পর্যন্ত প্রতি কেজিতে চাষিদের খরচ হয়েছে ২২ থেকে ২৪ টাকা। অথচ বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৫ থেকে ১৬ টাকায়। হিমাগারে সংরক্ষিত বীজ আলুর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ; সেখানে প্রতি কেজি বীজ আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১৫ টাকা দরে।

চাষিদের অভিযোগ, লোকসানের এই পরিস্থিতির মধ্যে হিমাগার মালিকরা সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। সরকার প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের জন্য ছয় টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে দিলেও, হিমাগার কর্তৃপক্ষ বস্তা প্রতি (৫৫-৬০ কেজি) ৪০০ থেকে ৪১০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে, যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিকার চেয়ে সোহেল রানা নামে এক ভুক্তভোগী কৃষক কিশোরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তা হিমাগারে বস্তা প্রতি ৩০০ টাকা চুক্তিতে ১৫০ বস্তা আলু সংরক্ষণ করেছিলেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি ৩৫ বস্তা আলু খালাস করতে গেলে হিমাগার কর্তৃপক্ষ জোরপূর্বক বস্তা প্রতি ৪১০ টাকা করে আদায় করে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ। একই হিমাগারে আলু রাখা পুটিমারী ইউনিয়নের চাষি সানার আলী এবং ক্ষুদ্র চাষি আনারুল ইসলামও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন জানান, গত তিন বছর ধরে লোকসান গুনছেন এবং এবারও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

অভিযোগের বিষয়ে মুক্তা হিমাগারের ম্যানেজার হামিদুল ইসলাম বলেন, মালিকপক্ষ যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছে, তারা সেভাবেই কাজ করছেন। কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আব্দুল কুদ্দুছ লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, তদন্তসাপেক্ষ এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম জানিয়েছেন, বিষয়টি মূলত কৃষি বিপণন অধিদপ্তর দেখে থাকে, তবে তারা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh