ঢাকা ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বেঙ্গালুরুতে সিজেপির বিক্ষোভে উপস্থিত ধ্রুব রাঠী ও প্রকাশ রাজ সাংবাদিকদের নিয়ে ছাত্রদল নেতার বিতর্কিত মন্তব্য, ক্ষুব্ধ সংবাদকর্মীরা ১৮ কোটি মানুষের নিরাপদ পানির জন্য ২.১ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী উপকূলের পানিতে লবণাক্ততার সঙ্গে আর্সেনিক, জীবাণু ও সিসার মারাত্মক ঝুঁকি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের দাবিতে ইনভেস্ট বাংলাদেশের সামনে অবস্থান গুণগত শিক্ষার বদলে পাসের রাজনীতি হয়েছে: রিজভী নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা জিয়াউল আহসানের, ভার্চ্যুয়াল শুনানির প্রস্তাব প্রসিকিউশনের দেওয়ানগঞ্জে ৫০ হাজার টাকায় ৪ মাসের শিশু বিক্রির অভিযোগ, দাদির আহাজারি ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে বিধবার টিপসই নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ মাধবপুরে দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা

ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেবে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৯:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সাংবাদিকদের স্বার্থ ও কল্যাণের কথা বিবেচনা করে ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। রবিবার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রয়োজন হলে বিষয়টি মন্ত্রিসভায়ও উত্থাপন করা হবে।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই তাদের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের যথাযথ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা না গেলে এই পেশার প্রতি দক্ষ ও মেধাবীদের আগ্রহ কমে যাবে।

ওয়েজবোর্ড প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা এবং নবম ওয়েজবোর্ড যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ার বিষয়টি সরকার অবগত। একইসঙ্গে দশম ওয়েজবোর্ড ঘোষণার দাবিও সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং এই উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, সরকারের পাশাপাশি মিডিয়া হাউসের মালিকদেরও সাংবাদিকদের অধিকারের বিষয়ে আন্তরিক হতে হবে। মালিকরা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করলে সাংবাদিকরা এর সুফল পাবেন না।

সভায় সাংবাদিকের সংজ্ঞা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পেশাদার সাংবাদিকতা করা ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া ভুয়া সাংবাদিকদের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকরা হুমকির মুখে পড়ছেন। এতে জনগণ ও গণতন্ত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কারা সাংবাদিক হিসেবে বিবেচিত হবেন, সে বিষয়ে সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিত প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইনটি গণমাধ্যম বা সাংবাদিকদের লেখালেখি বন্ধ করার উদ্দেশ্যে করা হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে হয়রানি, মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার রোধ করে জনগণকে নিরাপদ রাখাই এর মূল লক্ষ্য। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে আসা প্রস্তাব, যেখানে ভুলবশত আইনের ব্যত্যয় ঘটলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা সরকার বিবেচনা করছে বলেও তিনি জানান। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিধান ও শব্দচয়ন কীভাবে আইনে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং গণমাধ্যম কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে সরকার হস্তক্ষেপ করবে না।

মতবিনিময় সভায় ডিইউজে সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জীবনের ঝুঁকি ও ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চনার কথা তুলে ধরে ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার অপপ্রবণতা বন্ধের দাবি জানান এবং ফেসবুক পেজ খুলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া ডিইউজের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. দিদারুল আলম দিদার দ্রুত দশম ওয়েজবোর্ড ঘোষণার দাবি জানান এবং ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন না করা গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে সরকারি বিজ্ঞাপন ও ক্রোড়পত্র না দেওয়ার বিষয়ে সরকারের কঠোর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। সভায় ডিইউজের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, কল্যাণ, ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন, সাংবাদিকের সংজ্ঞা নির্ধারণ, সাইবার নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ নানা বিষয়ে বক্তব্য দেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেবে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৩:৪৯:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

সাংবাদিকদের স্বার্থ ও কল্যাণের কথা বিবেচনা করে ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। রবিবার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রয়োজন হলে বিষয়টি মন্ত্রিসভায়ও উত্থাপন করা হবে।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই তাদের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের যথাযথ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা না গেলে এই পেশার প্রতি দক্ষ ও মেধাবীদের আগ্রহ কমে যাবে।

ওয়েজবোর্ড প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা এবং নবম ওয়েজবোর্ড যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ার বিষয়টি সরকার অবগত। একইসঙ্গে দশম ওয়েজবোর্ড ঘোষণার দাবিও সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং এই উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, সরকারের পাশাপাশি মিডিয়া হাউসের মালিকদেরও সাংবাদিকদের অধিকারের বিষয়ে আন্তরিক হতে হবে। মালিকরা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করলে সাংবাদিকরা এর সুফল পাবেন না।

সভায় সাংবাদিকের সংজ্ঞা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পেশাদার সাংবাদিকতা করা ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া ভুয়া সাংবাদিকদের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকরা হুমকির মুখে পড়ছেন। এতে জনগণ ও গণতন্ত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কারা সাংবাদিক হিসেবে বিবেচিত হবেন, সে বিষয়ে সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিত প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইনটি গণমাধ্যম বা সাংবাদিকদের লেখালেখি বন্ধ করার উদ্দেশ্যে করা হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে হয়রানি, মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার রোধ করে জনগণকে নিরাপদ রাখাই এর মূল লক্ষ্য। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে আসা প্রস্তাব, যেখানে ভুলবশত আইনের ব্যত্যয় ঘটলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা সরকার বিবেচনা করছে বলেও তিনি জানান। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিধান ও শব্দচয়ন কীভাবে আইনে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং গণমাধ্যম কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে সরকার হস্তক্ষেপ করবে না।

মতবিনিময় সভায় ডিইউজে সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জীবনের ঝুঁকি ও ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চনার কথা তুলে ধরে ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার অপপ্রবণতা বন্ধের দাবি জানান এবং ফেসবুক পেজ খুলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া ডিইউজের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. দিদারুল আলম দিদার দ্রুত দশম ওয়েজবোর্ড ঘোষণার দাবি জানান এবং ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন না করা গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে সরকারি বিজ্ঞাপন ও ক্রোড়পত্র না দেওয়ার বিষয়ে সরকারের কঠোর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। সভায় ডিইউজের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, কল্যাণ, ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন, সাংবাদিকের সংজ্ঞা নির্ধারণ, সাইবার নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ নানা বিষয়ে বক্তব্য দেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin