বিদেশি অপারেটরের হাতে বন্দর, ক্ষুব্ধ চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক সংগঠনগুলো
- আপডেট সময় : ০৬:৫৭:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক কোনো অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। গত বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে এবং দুবাইভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘদিনের আলোচনার কথা জানা গেছে।
তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তে বন্দরের শ্রমিক সংগঠনগুলো তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং এর প্রতিবাদে তারা লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এই টার্মিনালটি বর্তমানে দেশীয় দক্ষ জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে পরিচালনার ভার হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি দেশের স্বার্থপরিপন্থী বলে তারা দাবি করছেন।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার অভিযোগ করেন, একটি মহল প্ররোচনার মাধ্যমে সরকারকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। তিনি বলেন, জনগণের সম্পদ ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং সরকার এই চুক্তি থেকে সরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির একে গণবিরোধী ও হঠকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করে বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চুক্তির শর্ত, রাজস্ব কাঠামো ও কর্মসংস্থানের ওপর প্রভাব জনসমক্ষে আনা প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র অনুযায়ী, চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। ২০২৫ সালে বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪৪ শতাংশই ছিল এই টার্মিনালের দখলে। ২০০৭ সালে প্রায় ২,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনালে পাঁচটি জেটি ও ১৪টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেন রয়েছে। বর্তমানে এটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) পরিচালনা করছে। পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রোফাইল অনুযায়ী সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে কনসেশন দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও বৃহস্পতিবারের অনুমোদনে সুনির্দিষ্ট কোনো অপারেটরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

























