ঢাকা ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
খুলনায় দেড় মাসের ব্যবধানে বাবা-ছেলে খুন, আতঙ্কে এলাকাবাসী শ্যামনগরে স্কাউটিং বিষয়ক ৬৯৫ তম ওরিয়েন্টেশন কোর্স সম্পন্ন ঢাবি হলের নয়তলা থেকে ঝাঁপ দিয়েও প্রাণে বাঁচলেন শিক্ষার্থী দুর্গাপূজায় সরকারি চাকরিজীবীদের টানা সাত দিনের ছুটি ঘোষণা এশিয়ার বাজারে তেলের দামে বড় ছাড় দিলো সৌদি আরব শারদীয় দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটির ঘোষণা সরকারের দুর্গাপূজায় টানা পাঁচ দিনের ছুটি, অফিস খোলা ১৭ অক্টোবর ডিএইতে চেয়ার দখলে কর্মকর্তাদের ‘ফ্যাসিস্ট’ তকমা দেওয়ার অভিযোগ কুষ্টিয়ায় এনসিপি নেতার ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, পুলিশের বাধা পিরোজপুরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ ও হত্যার প্রধান আসামি মাদারীপুরে গ্রেপ্তার

ডিএইতে চেয়ার দখলে কর্মকর্তাদের ‘ফ্যাসিস্ট’ তকমা দেওয়ার অভিযোগ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:২৬:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাজধানীর খামারবাড়িতে অবস্থিত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) একটি প্রভাবশালী চক্র গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল, বদলি-পদায়নে প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন প্রকল্পের টেন্ডার ও কাজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এই চক্রের চাহিদামতো কাজ না করলে, অনৈতিক সুবিধা বা চাঁদা না দিলে কিংবা পছন্দের ব্যক্তিকে দায়িত্ব না দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ‘স্বৈরাচারের দোসর’ বা ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবে প্রচার চালানো হচ্ছে।

গত সোমবার এবং এর আগে গত বুধবার ডিএইর প্রধান কার্যালয়ের আশপাশের দেয়াল ও পিলারে তিন কর্মকর্তার ছবি সম্বলিত পোস্টার সাঁটানো হয়। ‘জাতীয়তাবাদী সচেতন কৃষিবিদ সমাজের’ ব্যানারে লাগানো এসব পোস্টারে ডিএইর পরিকল্পনা উইংয়ের উপপরিচালক সাখাওয়াত হোসেন, প্রশাসন উইংয়ের উপপরিচালক মুরাদুল হাসান এবং টিস্যু কালচার প্রকল্পের পরিচালক তালহা জুবায়ের মাশরুরকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তাদের অপসারণের দাবি জানানো হয়। যদিও সোমবার লাগানো পোস্টারগুলো কয়েক ঘণ্টা পর ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, তবে এই ঘটনা কর্মকর্তাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

ডিএইর কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই অধিদপ্তরে বদলি ও পদায়ন নিয়ে অস্থিরতা চলছে। অভিযোগ রয়েছে যে, অ্যাগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) এবং কৃষক দলের কিছু নেতা কৃষি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে চাপ সৃষ্টি করে নিজেদের পছন্দের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর তদবির করছেন। এই তদবিরে বাধা পেলে বা অনৈতিক সুবিধা না পাওয়া গেলে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক তকমা ব্যবহারের কৌশল নেওয়া হচ্ছে।

পোস্টারে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে মুরাদুল হাসান ও সাখাওয়াত হোসেন ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মুরাদুল হাসান শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি জানান, ২৫ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে কাজ করার পরও তাকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলা হচ্ছে, যা মূলত বদলি ও পদায়ন বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত চক্রের কাজ। একইভাবে সাখাওয়াত হোসেনও তার ছাত্রজীবন এবং পটুয়াখালী কৃষি কলেজে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে বলেন, চেয়ার দখলের উদ্দেশ্যেই তাকে এমন তকমা দেওয়া হচ্ছে। তালহা জুবায়ের মাশরুরও তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, যিনি বিভিন্ন সময় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কৃষি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, শুধু পদায়ন নয়, ১২ জন প্রকল্প পরিচালককে সরানোর পর এখন আরও কয়েকজনকে সরাতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ডিএইর সাবেক মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ জানান, রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে দক্ষতা ও প্রশাসনিক যোগ্যতাকে মূল্যায়ন করা জরুরি এবং প্রমাণ ছাড়া কাউকে রাজনৈতিক তকমা দেওয়া পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় বিষয়টি নজরে রেখেছে এবং বদলি-পদায়নে কোনো অনিয়ম বা চাপ সৃষ্টি সহ্য করা হবে না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

ডিএইতে চেয়ার দখলে কর্মকর্তাদের ‘ফ্যাসিস্ট’ তকমা দেওয়ার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:২৬:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর খামারবাড়িতে অবস্থিত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) একটি প্রভাবশালী চক্র গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল, বদলি-পদায়নে প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন প্রকল্পের টেন্ডার ও কাজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এই চক্রের চাহিদামতো কাজ না করলে, অনৈতিক সুবিধা বা চাঁদা না দিলে কিংবা পছন্দের ব্যক্তিকে দায়িত্ব না দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ‘স্বৈরাচারের দোসর’ বা ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবে প্রচার চালানো হচ্ছে।

গত সোমবার এবং এর আগে গত বুধবার ডিএইর প্রধান কার্যালয়ের আশপাশের দেয়াল ও পিলারে তিন কর্মকর্তার ছবি সম্বলিত পোস্টার সাঁটানো হয়। ‘জাতীয়তাবাদী সচেতন কৃষিবিদ সমাজের’ ব্যানারে লাগানো এসব পোস্টারে ডিএইর পরিকল্পনা উইংয়ের উপপরিচালক সাখাওয়াত হোসেন, প্রশাসন উইংয়ের উপপরিচালক মুরাদুল হাসান এবং টিস্যু কালচার প্রকল্পের পরিচালক তালহা জুবায়ের মাশরুরকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তাদের অপসারণের দাবি জানানো হয়। যদিও সোমবার লাগানো পোস্টারগুলো কয়েক ঘণ্টা পর ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, তবে এই ঘটনা কর্মকর্তাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

ডিএইর কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই অধিদপ্তরে বদলি ও পদায়ন নিয়ে অস্থিরতা চলছে। অভিযোগ রয়েছে যে, অ্যাগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) এবং কৃষক দলের কিছু নেতা কৃষি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে চাপ সৃষ্টি করে নিজেদের পছন্দের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর তদবির করছেন। এই তদবিরে বাধা পেলে বা অনৈতিক সুবিধা না পাওয়া গেলে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক তকমা ব্যবহারের কৌশল নেওয়া হচ্ছে।

পোস্টারে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে মুরাদুল হাসান ও সাখাওয়াত হোসেন ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মুরাদুল হাসান শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি জানান, ২৫ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে কাজ করার পরও তাকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলা হচ্ছে, যা মূলত বদলি ও পদায়ন বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত চক্রের কাজ। একইভাবে সাখাওয়াত হোসেনও তার ছাত্রজীবন এবং পটুয়াখালী কৃষি কলেজে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে বলেন, চেয়ার দখলের উদ্দেশ্যেই তাকে এমন তকমা দেওয়া হচ্ছে। তালহা জুবায়ের মাশরুরও তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, যিনি বিভিন্ন সময় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কৃষি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, শুধু পদায়ন নয়, ১২ জন প্রকল্প পরিচালককে সরানোর পর এখন আরও কয়েকজনকে সরাতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ডিএইর সাবেক মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ জানান, রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে দক্ষতা ও প্রশাসনিক যোগ্যতাকে মূল্যায়ন করা জরুরি এবং প্রমাণ ছাড়া কাউকে রাজনৈতিক তকমা দেওয়া পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় বিষয়টি নজরে রেখেছে এবং বদলি-পদায়নে কোনো অনিয়ম বা চাপ সৃষ্টি সহ্য করা হবে না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh