ঢাকা ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকর মারা গেছেন লালমনিরহাটে এবি পার্টি নেতার বাড়ি ভাঙচুর, ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে পতিত দোসররা ষড়যন্ত্র করছে: রিজভী ভাঙ্গুড়ায় আবাদি জমি নিয়ে বিরোধে প্রবাসীর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তি চান না ডোনাল্ড ট্রাম্প অর্থনৈতিক চাপে কোণঠাসা ইরান: কোন পথে হাঁটবে তেহরান? ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়ায় ২২ দিনের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে বিদায়ী ম্যাচে বেনিনের বিশেষ উপহার পেলেন মেসি ও স্ত্রী সমীক্ষা ছাড়াই ৩৫ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান, লাখ কোটি টাকার ঋণের শঙ্কা বাজারমূল্যে বড় ধস ভিনিসিয়ুসের, তিন বছরের সর্বনিম্ন অবস্থানে

চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের ‘বড় ভাই’ বদল, কমেনি অপরাধের দাপট

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:০৮:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় বড় ধরনের বদল এসেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যুবলীগ নেতাদের আশ্রয়ে থাকা অপরাধীদের একটি বড় অংশ এখন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় আশ্রয় খুঁজছে। তবে রাজনৈতিক ‘বড় ভাই’ বদলালেও বন্দরনগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ, আধিপত্য বিস্তার ও সহিংসতার দাপট কমেনি।

এর একটি বড় উদাহরণ বাকলিয়ার মো. মুরাদ। ১৬টি মামলার আসামি মুরাদ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নগর যুবলীগের আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চুর আশ্রয়ে ছিলেন। কিন্তু ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তাঁকে নগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক ওরফে বাদশার সঙ্গে বিভিন্ন মিছিল-সমাবেশে অংশ নিতে দেখা গেছে। এমনকি নিজের ফেসবুক আইডিতে তিনি নিজেকে চান্দগাঁও থানা যুবদলের সংগঠক হিসেবে দাবি করেছেন। গত রোববার বাকলিয়ায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মুরাদের লোকজনের সঙ্গে প্রতিপক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। অবশ্য এর পরদিনই নগর যুবদল এক বিবৃতিতে জানায়, মুরাদ তাদের দলের কেউ নন। যুবদল নেতা এমদাদুল হকও মুরাদকে নিজের অনুসারী হিসেবে অস্বীকার করেছেন।

মুরাদ একা নন, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, আওয়ামী লীগ আমলে বিভিন্ন নেতার আশ্রয়ে থাকা কিশোর গ্যাংয়ের অনেক সদস্যই এখন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতা-কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করেছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের অন্তত ৪৫টি এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য রয়েছে। এর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ১১টি গ্যাংয়ের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। এগুলো হলো—মুরাদপুর এলাকার এমবিএস (মোহাম্মদপুর বয়েজ সিন্ডিকেট), পাঁচলাইশের কেবি (খতিবের হাট), এনএস (নাজিরপাড়া), ৯৯৯, এক্স-মার্ক, ব্যাকহোল, ডট গ্যাং, বিঙ্গু, পাইথন, সেভেন স্টার ও ফাইভ স্টার।

গত সপ্তাহেও মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে নগরের দুটি এলাকায় কিশোর গ্যাংকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে খুলশীর পাহাড়তলী ওয়্যারলেস কলোনিতে ‘ফাইভ স্টার’ ও ‘সেভেন স্টার’ গ্যাংয়ের বিরোধে প্রাণ হারিয়েছে ১৬ বছরের কিশোর মো. হৃদয়, যে তার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বাবার সঙ্গে ফুটপাতে সবজি বিক্রি করত। পুলিশের হিসাবে, গত সাড়ে সাত বছরে চট্টগ্রাম নগরে কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততায় অন্তত ৬তিন৫টি অপরাধের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে খুনের ঘটনাই ৩৯টি।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, "পুলিশের একার পক্ষে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। রাজনৈতিক নেতাদেরও কিশোর গ্যাং সদস্যদের কাছে ভিড়তে দেওয়া উচিত নয়।"

নগরে কিশোর গ্যাং সম্পৃক্ততায় আরেকটি আলোচিত নাম ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা। অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজির ২৩টি মামলার এই আসামিকে গত ৮ জুন নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, হৃদয় হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ‘সেভেন স্টার’ গ্যাংয়ের সঙ্গে ওয়াকিলের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। তাঁর কিশোর গ্যাং বাহিনীর ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। গত ২৯ আগস্ট ওয়াকিলের গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে পাহাড়তলী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক মিজানুর রহমানকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মামলা হলেও ওয়াকিল পলাতক থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে তাঁর ভাই রকি হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে মাদক ব্যবসার যোগসূত্রও দিন দিন বাড়ছে। মাদক বিক্রির স্থান নিয়ন্ত্রণ ও পুলিশের অভিযানে বাধা দিতে কিশোরদের ব্যবহার করা হচ্ছে। গত আট মাসে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ওপর হামলার অন্তত পাঁচটি ঘটনা ঘটেছে। গত ২৫ জুলাই ডবলমুরিংয়ের আমবাগানে মাদক মামলার এক আসামিকে ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে ছুরিকাহত হন এসআই মবিনুল ইসলাম। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি-৭) চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মাদকের সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের গভীর সংযোগ রয়েছে। মাদকাসক্ত হওয়ার পর অনেকেই চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে একপর্যায়ে গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়।

২০১৮ সালে স্কুলছাত্র আদনান ইসফার হত্যার পর চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাং নিয়ে বড় পরিসরে আলোচনা শুরু হয়। ২০১৯ সালে পুলিশ ৪৮ জন পৃষ্ঠপোষকের তালিকা করে, যা ২০২৪ সালের মার্চে আরও ১৬ জন বেড়ে দাঁড়ায় ৬৪ জনে। এসব ‘বড় ভাই’-এর আশ্রয়ে প্রায় ২০০ গ্যাংয়ে অন্তত ১ হাজার ৪০০ সদস্য সক্রিয় ছিল। ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত অনেক পৃষ্ঠপোষক গা ঢাকা দিলেও গ্যাং সদস্যরা এলাকাতেই রয়ে গেছে।

নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, "আওয়ামী লীগ আমলে বিভিন্ন নেতার আশ্রয়ে থাকা কিছু কিশোর গ্যাং নেতা-সদস্য এখন বিএনপির অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতা-কর্মীর সঙ্গে থাকছেন। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। যারা তাদের আশ্রয় দিচ্ছেন, তাঁদের সতর্ক করা হচ্ছে।"

কিশোর অপরাধের পুরোনো মামলার বিচারেও রয়েছে দীর্ঘসূত্রতা। চট্টগ্রামে বর্তমানে কিশোর অপরাধের ১ হাজার ৬২৩টি মামলা বিচারাধীন। আদালতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সাক্ষী হাজির না হওয়ায় অনেক মামলার বিচার শেষ হচ্ছে না। ২০১৮ সালের আদনান ইসফার হত্যা মামলাটিও এখনো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে চলছে, যেখানে ২৬ সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ১৭ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গত বছরের হালিশহরে কলেজছাত্র সাব্বির হত্যা এবং গত এপ্রিলে চকবাজারে কলেজছাত্র সাজিদ হত্যা মামলা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।

সুজন চট্টগ্রামের সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী বলেন, শুধু গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে সমস্যার সমাধান হবে না। যাঁরা তাদের আশ্রয় দিয়ে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেন, তাঁদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে কেবল ‘বড় ভাই’ বদলাবে, কিন্তু কিশোর গ্যাংয়ের অবসান ঘটবে না।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বাবার সঙ্গে ফুটপাতে সবজি বিক্রি করত সে।পুলিশের হিসাবে, গত সাড়ে সাত বছরে চট্টগ্রাম নগরে অন্তত ৬৩৫টি অপরাধে কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের ‘বড় ভাই’ বদল, কমেনি অপরাধের দাপট

আপডেট সময় : ০৩:০৮:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় বড় ধরনের বদল এসেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যুবলীগ নেতাদের আশ্রয়ে থাকা অপরাধীদের একটি বড় অংশ এখন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় আশ্রয় খুঁজছে। তবে রাজনৈতিক ‘বড় ভাই’ বদলালেও বন্দরনগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ, আধিপত্য বিস্তার ও সহিংসতার দাপট কমেনি।

এর একটি বড় উদাহরণ বাকলিয়ার মো. মুরাদ। ১৬টি মামলার আসামি মুরাদ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নগর যুবলীগের আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চুর আশ্রয়ে ছিলেন। কিন্তু ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তাঁকে নগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক ওরফে বাদশার সঙ্গে বিভিন্ন মিছিল-সমাবেশে অংশ নিতে দেখা গেছে। এমনকি নিজের ফেসবুক আইডিতে তিনি নিজেকে চান্দগাঁও থানা যুবদলের সংগঠক হিসেবে দাবি করেছেন। গত রোববার বাকলিয়ায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মুরাদের লোকজনের সঙ্গে প্রতিপক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। অবশ্য এর পরদিনই নগর যুবদল এক বিবৃতিতে জানায়, মুরাদ তাদের দলের কেউ নন। যুবদল নেতা এমদাদুল হকও মুরাদকে নিজের অনুসারী হিসেবে অস্বীকার করেছেন।

মুরাদ একা নন, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, আওয়ামী লীগ আমলে বিভিন্ন নেতার আশ্রয়ে থাকা কিশোর গ্যাংয়ের অনেক সদস্যই এখন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতা-কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করেছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের অন্তত ৪৫টি এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য রয়েছে। এর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ১১টি গ্যাংয়ের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। এগুলো হলো—মুরাদপুর এলাকার এমবিএস (মোহাম্মদপুর বয়েজ সিন্ডিকেট), পাঁচলাইশের কেবি (খতিবের হাট), এনএস (নাজিরপাড়া), ৯৯৯, এক্স-মার্ক, ব্যাকহোল, ডট গ্যাং, বিঙ্গু, পাইথন, সেভেন স্টার ও ফাইভ স্টার।

গত সপ্তাহেও মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে নগরের দুটি এলাকায় কিশোর গ্যাংকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে খুলশীর পাহাড়তলী ওয়্যারলেস কলোনিতে ‘ফাইভ স্টার’ ও ‘সেভেন স্টার’ গ্যাংয়ের বিরোধে প্রাণ হারিয়েছে ১৬ বছরের কিশোর মো. হৃদয়, যে তার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বাবার সঙ্গে ফুটপাতে সবজি বিক্রি করত। পুলিশের হিসাবে, গত সাড়ে সাত বছরে চট্টগ্রাম নগরে কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততায় অন্তত ৬তিন৫টি অপরাধের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে খুনের ঘটনাই ৩৯টি।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, "পুলিশের একার পক্ষে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। রাজনৈতিক নেতাদেরও কিশোর গ্যাং সদস্যদের কাছে ভিড়তে দেওয়া উচিত নয়।"

নগরে কিশোর গ্যাং সম্পৃক্ততায় আরেকটি আলোচিত নাম ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা। অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজির ২৩টি মামলার এই আসামিকে গত ৮ জুন নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, হৃদয় হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ‘সেভেন স্টার’ গ্যাংয়ের সঙ্গে ওয়াকিলের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। তাঁর কিশোর গ্যাং বাহিনীর ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। গত ২৯ আগস্ট ওয়াকিলের গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে পাহাড়তলী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক মিজানুর রহমানকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মামলা হলেও ওয়াকিল পলাতক থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে তাঁর ভাই রকি হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে মাদক ব্যবসার যোগসূত্রও দিন দিন বাড়ছে। মাদক বিক্রির স্থান নিয়ন্ত্রণ ও পুলিশের অভিযানে বাধা দিতে কিশোরদের ব্যবহার করা হচ্ছে। গত আট মাসে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ওপর হামলার অন্তত পাঁচটি ঘটনা ঘটেছে। গত ২৫ জুলাই ডবলমুরিংয়ের আমবাগানে মাদক মামলার এক আসামিকে ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে ছুরিকাহত হন এসআই মবিনুল ইসলাম। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি-৭) চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মাদকের সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের গভীর সংযোগ রয়েছে। মাদকাসক্ত হওয়ার পর অনেকেই চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে একপর্যায়ে গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়।

২০১৮ সালে স্কুলছাত্র আদনান ইসফার হত্যার পর চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাং নিয়ে বড় পরিসরে আলোচনা শুরু হয়। ২০১৯ সালে পুলিশ ৪৮ জন পৃষ্ঠপোষকের তালিকা করে, যা ২০২৪ সালের মার্চে আরও ১৬ জন বেড়ে দাঁড়ায় ৬৪ জনে। এসব ‘বড় ভাই’-এর আশ্রয়ে প্রায় ২০০ গ্যাংয়ে অন্তত ১ হাজার ৪০০ সদস্য সক্রিয় ছিল। ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত অনেক পৃষ্ঠপোষক গা ঢাকা দিলেও গ্যাং সদস্যরা এলাকাতেই রয়ে গেছে।

নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, "আওয়ামী লীগ আমলে বিভিন্ন নেতার আশ্রয়ে থাকা কিছু কিশোর গ্যাং নেতা-সদস্য এখন বিএনপির অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতা-কর্মীর সঙ্গে থাকছেন। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। যারা তাদের আশ্রয় দিচ্ছেন, তাঁদের সতর্ক করা হচ্ছে।"

কিশোর অপরাধের পুরোনো মামলার বিচারেও রয়েছে দীর্ঘসূত্রতা। চট্টগ্রামে বর্তমানে কিশোর অপরাধের ১ হাজার ৬২৩টি মামলা বিচারাধীন। আদালতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সাক্ষী হাজির না হওয়ায় অনেক মামলার বিচার শেষ হচ্ছে না। ২০১৮ সালের আদনান ইসফার হত্যা মামলাটিও এখনো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে চলছে, যেখানে ২৬ সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ১৭ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গত বছরের হালিশহরে কলেজছাত্র সাব্বির হত্যা এবং গত এপ্রিলে চকবাজারে কলেজছাত্র সাজিদ হত্যা মামলা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।

সুজন চট্টগ্রামের সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী বলেন, শুধু গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে সমস্যার সমাধান হবে না। যাঁরা তাদের আশ্রয় দিয়ে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেন, তাঁদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে কেবল ‘বড় ভাই’ বদলাবে, কিন্তু কিশোর গ্যাংয়ের অবসান ঘটবে না।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বাবার সঙ্গে ফুটপাতে সবজি বিক্রি করত সে।পুলিশের হিসাবে, গত সাড়ে সাত বছরে চট্টগ্রাম নগরে অন্তত ৬৩৫টি অপরাধে কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo