৪ হাজার ৫৯২ জনবল নিয়ে যাত্রা শুরু স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিটের
- আপডেট সময় : ০৮:৫৩:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একটি স্বতন্ত্র ও সংগঠিত কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে নতুন সাইবার পুলিশ ইউনিটের যাত্রা শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, এই ইউনিটের জন্য অর্গানোগ্রামে ৪ হাজার ৫৯২ জনবল নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বিদ্যমান জনবল থেকে প্রয়োজনীয় সদস্য নেওয়া হবে এবং পরবর্তী সময়ে নিয়োগের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ জনবল কাঠামো গঠন করা হবে।
নতুন এই ইউনিটের নেতৃত্বে থাকবেন একজন অতিরিক্ত আইজিপি। বিভাগীয় ও সদর দপ্তর পর্যায়ে ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি এবং জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার পর্যায়ের কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া প্রতিটি থানায় ইউনিটটির জন্য আলাদাভাবে সাব-ইন্সপেক্টর, এএসআই ও কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রচলিত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞদেরও এখানে নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সিস্টেম অ্যানালিস্ট, ফিন্যান্সিয়াল ডেটা অ্যানালিস্ট, সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, ইমার্জেন্সি রেসপন্স কনসালট্যান্ট, নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, ডিজাস্টার রিকভারি এক্সপার্ট, কনটেন্ট ডেভেলপার, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট, ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্ট, কমিউনিকেশন এক্সপার্ট ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যানালিস্টসহ বিভিন্ন পদ রাখা হয়েছে। এসব বিশেষজ্ঞদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যাবে এবং তাদের বেতন-ভাতার কাঠামো নিয়মিত পুলিশ সদস্যদের থেকে আলাদা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার অপরাধের ব্যাপকতা বাড়ায় ফরেনসিক ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। আগে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় অসংগঠিতভাবে কাজ করা হতো, যার ফলে কাজের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ছিল। নতুন ইউনিটের মাধ্যমে এই কার্যক্রম একটি আমব্রেলা বা ছাতার নিচে সুসংগঠিত করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা হবে এবং সদর দপ্তর ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষজ্ঞদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া সিনিয়র কর্মকর্তাদের একটি দলকে বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে এবং অবদান রাখা বিশেষজ্ঞদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এছাড়া সাইবার সিকিউরিটি আইন আধুনিকায়নের কাজ চলমান রয়েছে। সাংবাদিক, সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে আইনটি সংশোধন করা হচ্ছে যাতে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকে। আইনটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সবার সঙ্গে আলোচনা করে এটি চূড়ান্ত করা হবে। আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে নিরপরাধ ব্যক্তিরা যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও সংশোধন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ২০: ২২আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ২০: ৩১


























