গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে পুলিশের পদক্ষেপের অপেক্ষায় স্পিকার
- আপডেট সময় : ০১:৩১:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুলেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা পুলিশ এই ঘটনায় কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্পিকার স্পষ্ট করেছেন যে, দল থেকে বহিষ্কারের কারণে কোনো সংসদ সদস্যের পদ সরাসরি চলে যায় না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গত ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তবে সংবিধান অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য নিজে পদত্যাগ না করলে বা দলের বিরুদ্ধে ভোট না দিলে তাঁর আসন শূন্য হওয়ার সুযোগ নেই।
গাজী নজরুল বর্তমানে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) মৃত্যু নিয়ে সৃষ্ট মামলায় আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। গত রোববার ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় মরিয়মের বাবার দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে গাজী নজরুল রিমান্ডে রয়েছেন এবং তাঁর প্রথম স্ত্রীকে এক দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পুলিশ কী ব্যবস্থা নেয় তা দেখার পাশাপাশি আদালত থেকেও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কেবল দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে বা দল থেকে পদত্যাগ করলেই আসন শূন্য হয়। এছাড়া ৬৬ অনুচ্ছেদে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দুই বছরের কারাদণ্ডসহ অযোগ্যতার শর্তগুলো উল্লেখ আছে। কোনো সংসদ সদস্য অযোগ্য কি না, তা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো হয় এবং কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়।
উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামী অতীতে গাজী নজরুলকে সংসদীয় কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে তাকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে ৭ সেপ্টেম্বর সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটিতে তাঁর নাম রাখা হয়েছিল। পরে জামায়াতে ইসলামীর আপত্তির মুখে সেই কমিটি পুনরায় গঠন করা হয়। সেই সময় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, বহিষ্কার করা হলে সংবিধান অনুযায়ী সদস্যপদ বাতিল হয় না।





























