চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপে ডাব ও ফলের বাজারে আগুন
- আপডেট সময় : ০৬:১৫:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (2026) তারিখের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতির সঙ্গে সঙ্গে রোগীদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ডাব ও বিভিন্ন ফলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। ডেঙ্গু আক্রান্তদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং পুষ্টির চাহিদা মেটাতে চিকিৎসকরা ডাব, মাল্টা, কমলা ও লেবু খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে বাজারে এসব ফলের চড়া দামের কারণে তা সাধারণ রোগীদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। একদিকে হাসপাতালে রোগীর উপচে পড়া ভিড়, অন্যদিকে ফলের বাজারে অতিরিক্ত খরচের ধাক্কা—দুই মিলিয়ে ডেঙ্গু রোগীর স্বজনদের নাভিশ্বাস উঠছে।
চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন hospital এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ডেঙ্গু রোগীর স্বজনরা ডাব কিনতে ভিড় করছেন। কিন্তু দামের ক্ষেত্রে কোনো স্বস্তি নেই। মাত্র এক মাস আগেও যে ডাব ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন আকারভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পূর্ব গেটে ডাব কিনতে আসা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানভীর হোসেন জানান, তার মা এক সপ্তাহ ধরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকের পরামর্শে ডাব কিনতে এসে তিনি দেখেন, ছোট ডাব বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় এবং একটু বড় ডাব ১৮০ থেকে ২০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। বাড়তি এই দামের কারণে প্রতিদিন মায়ের জন্য ডাব কেনা তার পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডাবের পাশাপাশি বাজারে মাল্টা ও কমলার দামও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এক মাস আগে প্রতি কেজি মাল্টার দাম ছিল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, যা এখন স্থানভেদে ৩৮০ টাকারও বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে কমলার দাম ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬০ টাকায়। ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ এসব ফলের আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছেন মধ্য ও নিম্নবিত্ত পরিবারের রোগীরা।
এদিকে ফলের দাম বাড়ার পেছনে চাহিদা বৃদ্ধি ও সরবরাহের ঘাটতিকে দায়ী করছেন বিক্রেতারা। তাদের দাবি, নোয়াখালী, ভোলা, কক্সবাজার ও বান্দরবানসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ডাব সংগ্রহ করা হলেও গত দেড় বছর ধরে ডাবের সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কম। নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালের সামনে ভ্যানে ডাব বিক্রেতা সাত্তার হোসেন জানান, বাজারে ডাবের যে পরিমাণ চাহিদা রয়েছে, তার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। সরবরাহকারীরা প্রতিটি ডাবে আগের চেয়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি রাখছেন, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।
ঢাকা বারডেম হাসপাতালের সাবেক চিকিৎসক রাকিবুল হোসেন এ বিষয়ে বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ ফল খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে রক্তে প্লাটিলেট কমে যাওয়ার প্রবণতা রোধে ডাবের পানি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে। কিন্তু বর্তমান বাজারে ফলের এই বাড়তি দাম অসচ্ছল পরিবারগুলোর জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা পরোক্ষভাবে রোগীদের পুষ্টি ও দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টদের মতে, কেবল সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবধানের কারণেই দাম এতটা বাড়ার কথা নয়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ডেঙ্গু পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা লুটছেন কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।





























