জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার খবরে রংপুর ও যশোরে পাম্পে ভিড়
- আপডেট সময় : ১২:১১:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সরকারি ঘোষণার পরপরই রংপুর ও যশোরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে যানবাহনের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। নতুন দাম কার্যকর হওয়ার আগেই পুরোনো মূল্যে তেল সংগ্রহের জন্য মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। তবে রাত ১২টায় নতুন দাম কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাম্পগুলো অনেকটা ফাঁকা হয়ে যায়।
রংপুর নগরের মেসার্স সুরমা ফিলিং স্টেশনে রোববার রাত পৌনে ১২টার দিকে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল আরোহীদের ব্যাপক ভিড় সামলাতে পাম্পের কর্মীদের হিমশিম খেতে হয়। তেলের দাম হঠাৎ করে লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে। মোটরসাইকেল আরোহী আবু হানিফ সরকারের এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, কোনো আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ করে এমন দাম বাড়ানো হয়েছে। সিরাতুন নবী নামের আরেকজন বলেন, দুই-চার টাকা বাড়ালেও তা সহনীয় হতো, কিন্তু এক লাফে ২০ টাকা বৃদ্ধি মেনে নেওয়া কঠিন। ইমতিয়াজ হোসেন ক্ষোভের সাথে যোগ করেন, সাধারণ মানুষের সব সহ্য করার ক্ষমতা তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন জাগে।
রংপুরের মেসার্স আকবর অ্যান্ড সন্স পেট্রোলপাম্পেও একই চিত্র দেখা যায়। রাত ১২টার দিকে দাম বাড়ার সময় ঘনিয়ে এলে অপেক্ষমাণ মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকে এবং দাম পরিবর্তনের মুহূর্তে অনেককে চিৎকার-চেঁচামেচি করতে দেখা যায়। নজমুল ইসলাম নামের এক চালক প্রশ্ন তুলে বলেন, সরকার রাত ১২টা থেকে নতুন দাম কার্যকর করার ঘোষণা দিলেও পাম্পে থাকা আগের তেল কেন বেশি দামে বিক্রি করা হবে? তিনি এটিকে সাধারণ জনগণের প্রতি উদাসীনতা বলে মন্তব্য করেন। নুরুল ইসলাম নামের আরেকজন বলেন, আগের দামে তেল পাওয়ার আশায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও লাভ হয়নি। পাম্পের দায়িত্বে থাকা শওকত হোসেন জানান, দাম বাড়ার ঘোষণায় এই ভিড় ছিল প্রত্যাশিত।
যশোরের পেট্রোল পাম্পগুলোতেও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাত ১১টার দিকে শহরের এম কে রোড এলাকার মেসার্স তোফাজ্জল হোসাইন পেট্রোলপাম্পে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। বেসরকারি চাকরিজীবী জাহিদুল ইসলাম শেখ বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লেও তাদের আয় বাড়েনি। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়লে সংসার চালানো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়বে। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দাম বাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাত থেকেই অস্বাভাবিক ভিড় শুরু হয় এবং কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে সেবা দিতে কাজ করেন।





























